নিধিরাম সর্দার
১৯৪৭ এর আগে পুলিশ ছিল
ব্রিটিশের আজ্ঞাবহ লেঠেল, যাদের দিয়ে বিদেশী প্রভু তার রাজত্ব চালাতো মসৃণ ভাবে।
তখন ব্রিটিশের কথাই আইন। ব্রিটিশের স্বার্থই সংবিধান। তারপর বিশ্বযুদ্ধে বিপর্যস্ত
ব্রিটেন তার আম ও বস্তা দুইই রক্ষার তাগিদে ব্রিটেনের বশংবদ ভারতীয় প্রতিনিধিদের
হাতে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে গেল ভারতীয় ভুখণ্ড থেকে। ধর্মীয়
সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশকে বিভক্ত করে দিয়ে। ব্রিটিশ প্রভুর
জায়গা নিল তাদেরই বশংবদ ভারতীয় প্রতিনিধি সম্প্রদায়। ফলে নতুন সংবিধান ঠিক তেমন
ভাবেই রচিত হলো, যাতে পুলিশকে প্রশাসকের আজ্ঞাবহ হয়েই চলতে হয়। তাতে পুলিশের কোন
অসুবিধা হলো না। কেননা শাসকের ক্রীতদাসত্ব করার শপথ নিয়েই পুলিশের কর্মজীবন শুরু
করাটাই ছিল আবহমান রেওয়াজ। সাতচল্লিশের আগে ব্রিটিশ প্রভুর ক্রীতদাসত্ব স্বীকার
করতে হতো ব্রিটেনের রাজশক্তির নামে। ফলে সাতচল্লিশের পর সংবিধানের নামে স্বদেশী
প্রশাসকের দাসত্ব স্বীকারে পুলিশের কোন রকম অসুবিধা হলো না। পুলিশি ব্যবস্থা যেমন
চলছিল, ঠিক তেমনই চলতে লাগলো। যার সুফল ভোগ করতে লাগলো রাজনৈতিক দল হিসাবে
কংগ্রেস। সারা ভারতবর্ষ ব্যাপি। পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম হলো না। পুলিশকে ব্যবহার
করে রাজনৈতিক দমন পীড়ন থেকে শুরু করে সমস্ত রকম অসাংবিধানিক সুবিধা নেওয়ার পালাই
চলতে থাকলো পুরোদমে। প্রায় ব্রিটিশের কায়দাতেই। যার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত দেখা গেল
নকশাল আন্দোলনকে সম্পূর্ণ তছনছ করে দেওয়ার পর্বে। এবং ১৯৭৫ এর জুরুরী অবস্থার
পর্বে। এরপর সাধারণ মানুষের বিপ্লবী চেতনার যে সামান্যতম অবশেষটুকু পড়ে ছিল, তার
উপর নির্ভর করেই রাজ্যে পালাবদল ঘটে গেল। বুর্জোয়া কংগ্রেসের জায়গায় প্রশাসনের
কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হলো সাম্যবাদে বিশ্বাসী বামফ্রন্ট। কিন্তু পুলিশি সংস্কৃতির হলো
না কোনরকম বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তার মূল কারণ দ্বিবিধ। প্রথমতো বামফ্রন্ট বিপ্লবের
মধ্যে দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেনি। ব্রিটিশের চাপিয়ে দিয়ে যাওয়া বুর্জোয়া
গণতন্ত্রের সোপান ধরেই তারা ক্ষমতার গদিতে গদীয়ান হয়েছিল। এবং দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গ
ভারতীয় রাষ্ট্রের সামন্যতম একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার কারণেই সামগ্রিক ভাবে ভারতীয়
প্রশাসনিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটাই স্বাভাবিক হয়েছিল গতানুগতিকতার
ধারাবাহিকতায়। ফলে যে সুবিধা কংগ্রেস ভোগ করে গিয়েছিল, ঠিক সেই সুবিধা ভোগের
সুবর্ণ সুযোগ উঠে এলো বামফ্রন্টের হাতেও। পড়ে পাওয়া চৌদ্দোআনা সুবিধা হারাতে চায়
কোন আহাম্মকে? তাই রাজ্য পুলিশ হয়ে উঠলো বাম শাসনের অন্যতম স্তম্ভ। যেমনটি ছিল
কংগ্রেসের, কংগ্রেসের আমলে।
সাংবিধানিক
ভাবে পুলিশের যে দায়বদ্ধতা আইনের কাছে, প্রশাসনিক ভাবে সেই দায়বদ্ধতা দাঁড়িয়ে গেল
প্রশাসকের কাছেই। কংগ্রেসের জায়গায় এল বামফ্রন্ট। পুলিশ থাকল তার নিজের জায়গাতেই।
জবাবদিহি চাওয়ার মানুষগুলো শুধু গেল পাল্টিয়ে। ব্রিটিশ আর কংগ্রেসের জায়গায়
সাম্যবাদে বিশ্বাসী বামফ্রন্ট। ফলে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার বিধি বন্দোবস্ত
থাকল, ঠিক যেমনটি ছিল, তেমনটিই। ব্রিটিশ আমলের সেই প্রবাদ, ‘বাঘে ছুঁলে আঠারে ঘা
আর পুলিশে ছুঁলে....’ দিনে দিনে আরও বেশি সর্বাত্মক হয়ে উঠতে লাগলো। মানুষের মনে
পুলিশি আতঙ্ক ঘুঁচলো তো নাইই, বরং নানান রকম ভাবে বৃদ্ধি পেতে লাগল। বামফ্রন্টের
রাজনীতির মূল জায়গাটা দাঁড়িয়ে ছিল, সমাজের উপর রাজনৈতিক দলের সর্বাত্মক আধিপত্য
বিস্তারের মধ্যেই। আর সেই প্রভাব ফেলতে গেলে পুলিশের উপর দলীয় খবরদারির
সংস্কৃতিকেও সর্বাত্মক করে তুলতে হয়। ফ্রন্ট নেতৃত্ব তাই সেই বিষয়ে ১৯৭৭ থেকেই ছিল
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের প্রশাসনিক পরিকল্পনা রীতিনীতি তাই এই বিষয়টিকেই নিশ্চিত করতে
উঠে পড়ে লাগল। যার ফল ফলল হাতে নাতে। পুলিশের কাছে যে অভিযোগই আসুক না কেন, তাতে
সামান্য়তমও রাজনৈতিক গন্ধ থাকলেই শাসকদলের কথা মতোই আইনকে সাজিয়ে তোলার দায়
বর্তালো পুলিশের উপর। দলের কথাই শেষ কথা। মানুষের কাছেও সুস্পষ্ট হয়ে গেল আইন ও
প্রশাসন, রাজনীতি আর ক্ষমতায়নের সূত্রগুলি। ঘুষ ঘুষি আর ঘুঘুদের ত্রিবেণী সঙ্গমের
রামরাজত্ব চলতে থাকলো কংগ্রেসী ঐতিহ্যের এই বাংলায়। সাম্যবাদে বিশ্বাসী
বামফ্রন্টের তুমুল রাজত্বেও। যার চুড়ান্ত প্রকাশ ঘটলো রিজয়ানুর রহমান হত্যা ও
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে।
বঞ্চিত
নিপীড়িত অত্যাচারিত মানুষের অবদমিত ক্ষোভকে হাতিয়ার করে উঠে এলো পরিবর্তনের তত্ব।
অত্যন্ত সুচারু ভাবে। সূক্ষ্ম অতিসূক্ষ্ম পরিকল্পনায়, মানুষ বুঝতেও পারলো না, কে
বা কারা কিভাবে হাইজ্যাক করে নিলো তাদের পুঞ্জীভুত বিক্ষোভকে। রাজনীতির ক্যানভাসে
নির্মিত হলো নতুন রং। উল্টে গেল সরকার। পাল্টে গেল প্রশাসক। পাল্টালো না পুলিশের
দায়বদ্ধতার সেই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। বরং আরও অনেক বেশি খোলামেলা ভাবেই, কোনরকম
রাখঢাক না রেখে পুলিশ তার স্বরূপে আবির্ভুত হলো অন ক্যামেরা। বামফ্রন্টের আমলে
সবকিছুরই তবু একটা পোশাকি ব্যবস্থা ছিল। ছিল একটা ভদ্রতার রাখঢাক। অন্তত সাড়ে তিন
দশকের শাসনামলের প্রথম ভাগে তো বটেই। কিন্তু পরিবর্তনের সংস্কৃতির শুরু হলো
একেবারে ঠিক সেইখান থেকেই যেখানে ছেড়ে গিয়েছিল বামফ্রন্ট। ফলে চক্ষুলজ্জার মতো
বিষয়টির রইল না আর কোন প্রয়োজন। এবার থেকে সত্যকে আর নীতির পোশাক পড়ানোর দরকার
নাই। রীতির পোশাকটাই যথেষ্ঠ বলে মনে হলো বর্তমান শাসকদলের। এর একটা স্পষ্ট সুবিধা
আছে। সোজা কথাটা একবারেই সরাসরি বুঝিয়ে দেওয়া যায়। চলতি ভাষায় যাকে বলে খুল্লাম
খুল্লা। নো রাখঢাক। নো ঢাকগুরগুর। আমরা এখন শাসন ক্ষমতায়। এখন আমাদের কথাই আইন।
আমাদের স্বার্থই সংবিধান। ঠিক একেবারে বৃটিশ যুগের মতোই সরাসরি প্রত্য়ক্ষ। মানুষের
মনে সংশয় বা ধোঁয়াশার কোন সুযোগই নাই আর।
বাম
আমলেও পুলিশে যেতে হলে মানুষকে আগে খোঁজ নিতে হতো, স্থানীয় কোন হেভিওয়েট নেতার
আশীর্বাদ পাওয়া যায় কিনা। সেখান থেকে কোনভাবে বরাভয় জোগাড় করতে পারলে তবেই পুলিশের
শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। যেটা নুতুন সংযোজন,
সেটি হলো বিষয়টি এখন একেবারেই খোলামেলা হয়ে উঠেছে। তফাৎ শুধু এক জায়গাতেই, আগের
আমলে একজন নেতার বরাভয় আশীর্বাদই যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু সংখ্যাটি এখন আর ১কে আটকিয়ে
নাই। অবশ্য তফাৎ আরও একটা ঘটে গিয়েছে। আগে পুলিশ তবু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজে থেকেও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারতো।
সেটুকু স্বাধীনতা তাদের দেওয়া ছিল। পরে প্রয়োজনে তাবড় নেতানেত্রীদের হস্তখেপের
সংস্থান থাকলেও। কিন্তু এখন আর অযথা কালক্ষেপের কাল নেই। এখন হাইকম্যাণ্ড থেকে
নির্দেশ আসা না আসার উপরেই নির্ভর পুলিশের সক্রিয়তার কিংবা নিস্ক্রিয়তার। না তফাৎ
শুধু যে এইটুকুতেই আটকিয়ে আছে, বাস্তবচিত্র কিন্তু বলে না সেকথাও। পরিবর্তনের হাত
ধরে আরও বড়ো একটা তফাৎ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলস্তরের জনসাধারণের হাতে উঠে এসেছে প্রভুত
ক্ষমতা। পেশীশক্তির আস্ফালনের একটা যেন যুগান্তর ঘটে গিয়েছে। যার ফলে দলদাস
পুলিশকেই জনশক্তি আর পরোয়া করছে না। করছে না বলেই ফাইলের আড়ালেও আত্মরক্ষার চেষ্টা
করতে হচ্ছে পুলিশকেই। পরিবর্তনের অন্যতম নিদর্শন। দলীয় পতাকা হাতে এই যে
নিয়ন্ত্রণহীন জনশক্তি, যাকে কোমরে রিভলভার, কাঁধে রাইফেল ধারী পুলিশও ভয় পেতে শুরু
করেছে নিয়ম করে, এটাই পরিবর্তনের একটা বড়ো মুখ। এবং পুলিশের শাসকের কথায় ওঠবোস
করার শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চরমতম ফলাফল।
এবং এটাই
হওয়ার কথা ছিল। আইনের রক্ষকের প্রধান এবং একমাত্র দায়বদ্ধতা আইনের কাছে। রাষ্ট্রের
সংবিধানের কাছে। সেটা আমদের দেশে কেবলই একটি সাংবিধানিক তকমা মাত্র। পুলিশের সকল
দায়বদ্ধতাই যখন নির্বাচিত সরকারের বকলমে শাসকদলের কাছেই দাঁড়িয়ে যায়, তখন এই
পরিণতি মোটেই অস্বাভাবিক কোন ব্যাপার নয়। এটাই স্বাভাবিক। এটাই হয়েছে। শাসকদলের
জনশক্তির মূল বরাভয় এই পুলিশ প্রশাসনের উপরেই। তারা জানে, নেতানেত্রীদের নির্দেশে
পুলিশ কখন সক্রিয় হবে আর কখন নিস্ক্রিয় থাকবে। ফলে তারা যে, দিনে দিনে বেপরোয়া ও
অকুতোভয় হয়ে উঠবে, সে তো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কার্যত এই জনশক্তি আবার
নিরস্ত্রও নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেশাদার দুষ্কৃতিদের নিয়েই এই জনশক্তির
আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক আঙিনায়। ফলে পুলিশকে সেখানে শাসকদলের আজ্ঞাবহ হয়েই রাজনীতির স্বার্থই
সংরক্ষিত করতে হবে, এ আর বিচিত্র কি। ঠিক এই ঘটনাই ঘটতে দেখা গেল সাম্প্রতিক
পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মনোনয়ন পর্বে বিরোধী দলের প্রার্থীদেরকে তাড়া
করে হঠিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, বুথে বুথে ছাপ্পা দেওয়ার জন্যে স্বশস্ত্র
দুষ্কৃতিদের অন ক্যামেরা তাণ্ডবনৃত্য দেখা অব্দি। সবখানেই পুলিশ নিধিরাম সর্দারের
ভুমিকায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ! কোথাও কোথাও আবার দুষ্কৃতিদের পাশাপাশি ঢাল হয়ে
দঁড়াতেও পিছপা হয় নি পুলিশই। হবেই বা কি করে? উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের একটু
এদিক থেকে ওদিক হলেই তো সর্বনাশ! তাই সার্কাসের ট্রাপিজ খেলার মতোই পুলিশকেও
আত্মরক্ষার ভারসাম্যেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে চব্বিশঘন্টা।
ঠিক
এইখানেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, পুলিশ তুমি কার? সংবিধানে নিশ্চয়ই পুলিশের
দলদাসত্বের বিধান দেওয়া নাই? তাহলে? সংবিধানের কোন ফাঁক গলে পুলিশকে প্রশাসকের
দাসত্ব করতে হচ্ছে? ভারতীয় পুলিশের এই যে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য। এখান থেকে
পুলিশকে মুক্ত করার উপায় বার করার দায় ও দায়িত্ব কাদের ছিল? মানছি, বামফ্রন্ট
সরকার একটি অঙ্গরাজ্যের প্রশাসনে অধিষ্ঠিত ছিল। দিল্লীর কেন্দ্রীয় প্রশাসনে নয়।
তবুও, সাড়ে তিনদশকের রাজত্ব, খুব কম সময়ের বিষয়ও তো নয়। ফলে সদিচ্ছা থাকলে এই
সময়সীমায় পুলিশকে তার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা কি অসম্ভব ছিল আদৌ?
কি বলবেন বামফ্রন্টের তাবড় তাবড় নেতানেত্রীরা? নিজেদের ক্ষমতায় থাকার সংকীর্ণ
স্বার্থবোধ তাদেরকে এমনই অন্ধ করে রেখেছিল, যে তাঁরা বুঝতেই পারেন নি, এর ফল কতটা
মারাত্মক হয়ে উঠছে দিনে দিনে। সমাজের রীতিনীতিগুলিকে সুস্থ করে তোলার বদলে
ক্রমান্বয়ে অসুস্থ করে তুলেছিলেন তারা। ফলে তারা প্রশাসন ও পুলিশকে যে অবস্থায়
নামিয়ে নিয়ে এসেছিলেন সাড়ে তিনদশকের রাজনৈতিক ব্য়াভিচারে, ঠিক সেখান থেকেই ফসল
তোলা শুরু করে দিয়েছে পরিবর্তনের কাণ্ডারীরা মা মাটি মানুষের দোহাই দিয়েই। তাই
আজকে সেই বামফ্রন্টকেই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হচ্ছে তাদেরই লালান পালন করে যাওয়া
নিধিরাম সর্দারদেরকে ঠুঁটো জগন্নাথের ভুমিকায় কতটা অসহ্য লাগে। সেই কারণেই পুলিশকে
দলদাস বলে দোষারোপ করেই বিরোধী রাজনীতির ভুমিকা পালন করা জনসাধরণকেই ধোঁকা দেওয়ার
নামান্তর মাত্র। পরিবর্তনের আগে ঠিক এইভাবেই অভিযোগের তীরবিদ্ধ করে জনগণকে ধোঁকা
দিয়ে আজকে সেই পুলিসকেই নিজের দলীয় স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে মা মাটি মানুষের সরকার।
আর সেই একই কাজকে পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে পরিত্রাণের স্লোগান তোলা গেরুয়া রঙের
হিন্দুত্ববাদীরা।
না
বিষয়টি তাই রাজনীতির ব্যাপারিদের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সময় নাই আর। এই বিষয়ে
পুলিশের মধ্যে থেকেই প্রতিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের প্রত্যয় উঠে আসা দরকার। উঠে
দাঁড়ানো দরকার বুদ্ধিজীবীদেরও। সাধারণ মানুষের স্বার্থে, সাধারণ নাগরিকের স্বার্থে,
সমাজের সুস্থতার স্বার্থেই পুলিশকে প্রশাসকের দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের করালগ্রাস
থেকে মুক্ত করতে হবে। হবেই। পুলিশের দায়দ্ধতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে সংবিধানের
কাছে। আইনের কাছে। দেশবাসীর কাছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। নয় রাজনৈতিক
নেতানেত্রীদের কাছে। আর তা যদি সম্ভব না হয়, তবে নিধিরাম সর্দারের ভুমিকায় পুলিশকে
রেখে কোনভাবেই সমাজকে নৈরাজ্য থেকে বাঁচানো যাবে না। না কোনভাবেই নয়। এখন কিভাবে
সম্ভব হবে এমন অসম্ভব কাজ, কোন পথে এগোতে হবে, না সে দিকনির্দেশ দেওয়ার কথা নয়
প্রবন্ধের লেখকের। তার জন্যে উপযুক্ত মানুষদেরকেই সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে। ক্ষমতা
দখলের রাজনীতি তো অনেক হলো। এবার সমাজশোধনের রাজনীতিটা শুরু করা হোক না বরং।
পুলিশকে তার সাংবিধানিক দায়িত্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসার মধ্যে দিয়েই শুরু হতে পারে
সমাজশোধনের রাজনীতি। কারণ পুলিশ যথাযথভাবে তার ভুমিকা পালনের পরিসর ও অধিকার না
পেলে কিন্তু এই সমাজ নৈরাজ্যের চরমতম বিশৃঙ্খলায় পতিত হবে। শুরু হয়ে গিয়েছে
কাউন্টডাউন।
১৯শে
মে ২০১৮
কপিরাইট
শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

