আজব দেশের আজব মানুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আজব দেশের আজব মানুষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আজব দেশের আজব মানুষ

 

আজব দেশের আজব মানুষ


টিভি খুললেই তালিবান। নেটে ঢুকলেই তালিবান। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের কপালে আবার তালিবান ভেবেই বহু মানুষের রাতের ঘুম দফারফা। সাধারণ মানুষ কায়মনবাক্যে প্রার্থনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। অর্থাৎ আফগানিস্তান যেন বিগত দুই দশকের মতোই আবার বিদেশী সৈন্যদের বেয়োনেটের তলায় থেকে যায়। তাহলে আফগানবাসীদে’র নিয়ে আমাদের আর ভাবনা থাকে না। সত্যিই বিদেশী সৈন্যদের বেয়োনেটের তলায় থাকার যে এমন শান্তি! এটা বোধহয় এক আমরাই কল্পনা করতে পারি। আবার সেই আমরাই আবার গর্ব করে ১৫ই আগস্ট দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করি। এবং বুক ফুলিয়ে বলে থাকি আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ব্রিটিশ তাড়িয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। যদিও আসল ইতিহাস অন্য। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগ্রামে ফাঁক না থাকলেও, তারা ব্রিটিশ তাড়িয়ে দেশ স্বাধীন করার সুযোগই পায় নি। ব্রিটিশ তার আগেই দ্বিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধে শক্তি খুইয়ে এবং নেতাজী ফিরে আসার ভয়ে ভীত হয়ে কংগ্রেস ও মুসলীম লীগের ব্রিটিশ বশংবদদের হাতে গোপন চুক্তি অনুসারে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালায়। এবং সেই গোপন চুক্তি স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর বর্ষপূর্তিতেও প্রকাশ করা হয় নি। হয়তো আরো একশ বছরেও হবে না। যতদিন আমরা ইঙ্গমার্কিন শক্তির বশংবদ হয়ে থাকবো। সেই বিষয়ে ভারত পাকিস্তানের ভিতরে কোনই পার্থক্যও নেই। সে যাই হোক। আমরা যে আফগানিস্তানের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নই, সেকথা বেআব্রু হয়ে পড়েছে আমাদের তালিবানী আতঙ্কে। আমাদের ভয়। আফগানিস্তান স্বাধীন থাকা মানেই তালিবানীদের খপ্পরে পড়ে যাওয়া। তার থেকে বিদেশী সৈন্যদের পদানত থাকাই আফগানিস্তান ও আফগানবাসীর পক্ষে আশীর্বাদ স্বরূপ। আবার সেই আমরাই আফগানিস্তানে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ অব্দি এক দশক সোভিয়েত বাহিনীর উপস্থিতিকে মেনে নিতে পারি নি। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যের অপসারণকে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা লাভ বলে বিশ্বাস করেছিলাম। অর্থাৎ আফগানিস্তান মার্কিনশক্তির পদানত থাকলে আমাদের কোন অসুবিধে নেই। অন্য কোন শক্তির সৈন্য আফগানিস্তানে পৌঁছালে সেটা আফগানবাসীর কাছে পরাধীনতার স্বরূপ। আর মার্কিন সৈন্য আফগানিস্তান ইরাক দখল করে থাকলে সেটাই এই দুই দেশের পক্ষে মঙ্গলের। এমনটাই বিশ্বাস আমাদের। না, বিশ্বাসের পিছনে কোন যুক্তি থাকে না বলেই কারুর বিশ্বাস নিয়ে তর্ক চলে না। ফলে ঈশ্বরে বিশ্বাসের মতোই আমাদের মার্কিনশক্তি ও আমেরিকান সৈন্যে অগাধ বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসে ভিয়েতনামে পড়া নাপাম বোমা তো কিছুই নয়। হিরোশিমা নাগাসাকি’র উপরে ফেলা পরমাণু বোমাও এতটুকু টাল খাওয়াতে পারেনি। আর পারবেও না কোনদিন। না, আমরা অবশ্য চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান বলার মতো মার্কিন রাষ্ট্রপতি আমাদের রাষ্ট্রপতি বলি না ঠিক। তবে সেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে আমরা মন্দিরে পুজো দেওয়া থেকে শুরু করে বিশেষ যাগযজ্ঞের আয়োজনও করি। বিশুদ্ধ সংস্কৃত মন্ত্রে পুজা অর্চনা করে থাকি। এবং পছন্দের প্রার্থী জিতলে আমরা অন ক্যামেরা উৎসব উদযাপন করি। তাতে অবশ্য আমাদের ভারতবর্ষের স্বাধীনতায় কোন চোট পড়ে না। আমাদের দেশপ্রেমও কাঠগড়ায় ওঠে না। আমরা কে কোন দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষ নেবো। সেটা আমাদের সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার বৈকি। শুধু দেখতে হবে বিশেষ বিশেষ কয়েকটি দেশের বিষয়ে যেন আমরা আগ্রহী না হই। তাহলেই আমাদের দেশপ্রেম অটুট থাকে।


ফলে গোটা সপ্তাহ ধরে কি টিভি। কি ইনটারনেট। কি খবরের কাগজ কি চায়ের ঠেক। আমাদের মাথাব্যাথার কারণ কিন্তু একটাই্। সেই তালিবান। আবার আফগানিস্তানের দখল নিয়ে নিয়েছে। যদিও আমরা জেনে গিয়েছি, ট্রাম্প সরকারের সাথে তালিবানীদের ক্ষমতা হস্তান্তর ও মার্কিন সৈন্য অপসারণের চুক্তি অনুসারেই সব কিছু হচ্ছে। তবু আমরা এই বিষয়ে মার্কিন শক্তির বিরুদ্ধে কিন্তু কোন ট্যাঁ ফু করছি না। আফগানিস্তানে আশরাফ ঘানীর নির্বাচিত সরকার থাকতেও কেন ট্রাম্প সরকার তালিবানের সাথেই সৈন্য অপসারণ চুক্তি করতে গেল, সেই বিষয়ে আমাদের কোন উচ্চবাচ্য নেই। কেনই বা রিপাব্লিকান ট্রাম্প সরকারের করা চুক্তি ডেমোক্রেট বাইডেন সরকার মান্যতা দিচ্ছে। না, সেই বিষয়ে আমাদের জানার কোন আগ্রহ নেই। আমরা শুধু জানবো তালিবানদের হাত থেকে আফগানবাসীদের রক্ষাকর্তা একমাত্র মার্কিনশক্তিই। তাই সেই শক্তির কাছেই আমরা আজ মনেমনে করজোড়ে প্রার্থনা করছি, আফগানিস্তান ছেড়ে চলে না আসার জন্য। আমরা প্রার্থনা করছি আরও কয়েক দশক আফগানিস্তান মার্কিনশক্তির অধীনস্থ থাকুক। মার্কিন সৈন্যের বেয়োনেটের কাছে পদানত হয়ে্। একমাত্র তাহলেই নাকি বেচারী আফগানীরা সুখে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারবে। এমনটাই আমাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এমনটাই আমাদের আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্বন্ধে ধারণা। এতটাই আমাদের আফগানবাসীর জন্য দরদ।


সত্যিই তো! তালিবানদের মতো এমন বর্বর এক শক্তি একটা দেশের দখল নেবে আর তার সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসবে চরম বিপর্যয়। সেটা আমরা কি করে মেনে নিতে পারি? তালিবানীদের মধ্যযুগীয় বর্বর শাসনের কথা কে না জানে। বিশেষ করে ঘরের মেয়েদের উপরে তাদের খবরদারিত্ব। নারীর উপরে নানান রকম অত্যাচার আর নির্যাতন। একটা সভ্য সমাজে চলতে দেওয়া যায় না। না আছে আধুনিক বিচার ব্যবস্থা। না রয়েছে গণতন্ত্র। সে দেশের নারীরা তাহলে যাবে কোথায়? দলে দলে আফগানীরা কিভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে কত অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন কি উড়ন্ত বিমানের ডানা থেকে পড়ে মারা যাচ্ছে। সেসব দৃশ্য দেখেও আমরা শিউরে উঠছি না কি? সত্যিই আমাদের কিন্তু তুলনা নাই। আমরা আজকে দেশ ছেড়ে পালাতে চাওয়া আফগানবাসীর দুর্দশার ছবি দেখে রাতের ঘুম দিনের শান্তি নষ্ট করছি। অথচ গত বছরের লকডাউনের সময় যখন ভারতবর্ষ জুড়ে কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক হাজার হাজার মাইল পথ হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। তখন এই আমরাই কিন্তু ফেসবুক জুড়ে লাইভ করছিলাম। নাচ দেখিয়ে গান শুনিয়ে গল্প বলে কবিতা আবৃত্তি করে সহ নেটিজেনদের লকডাউনের গৃহবন্দী জীবনে আনন্দের জোগান দিচ্ছালাম নাগরিক ও মানবিক কর্তব্যে। ঠিক যে মুহুর্তে কোটি কোটি নিরন্ন নরনারী শিশু কিশোর বৃদ্ধ বৃদ্ধাও হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিচ্ছিল এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে, না কোন তালিবানী শাসনের অধীনে থেকে নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারের সুচিন্তিত বিবেচনায় নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্তে। তখন আমাদের রাতের ঘুম দিনের শান্তি কিন্তু একচুলও নষ্ট হয় নি। আজ হচ্ছে তালিবানের হাতে আফগানবাসীর সাম্ভব্য বিপর্যয়ের আশংকা করে। মাত্র ষোল জন পরিয়ায়ী শ্রমিকের জীবন্ত রক্তে মাঘা রাতের খাবারের জন্য রাখা রুটির ছেঁড়া টুকরোগুলোর সেই শতাব্দী’র সেরা ছবি দেখেও আমরা কজন যেন শিউরিয়ে উঠেছিলাম সেদিন? যেদিন চলন্ত ট্রেনের তলায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল কাটা মানুষের দেহাংশ, রক্তে আর না খাওয়া রুটির টুকরোয় মাখামাখি হয়ে? কোন তালিবানী ট্রেন চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেইদিন? পরিশ্রান্ত ঘুমন্ত পথক্লান্ত হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের দেহের উপর দিয়ে? কেন তারা বাধ্য হয়েছিল পীচ রাস্তা ছেড়ে রেলের স্লিপার তিঙিয়ে ডিঙিয়ে পথ চলতে? খোঁজ নিয়েছিলাম আমরা? কোন তালিবানরা সেদিন পীচরাস্তার দখল নিয়ে রেখেছিল। যাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাধ্য হতে হয়েছিল রেল লাইন ধরে এগোতে। সেদিন কিন্তু আমাদের ফেসবুক লাইভে আমরা কাঁদাকাটি করি নি। বরং নৃতগীত সাহিত্য নিয়েই মশগুল থেকে ছিলাম। নিশ্চিন্তে। ভারতবর্ষে আর যাই হোক তালিবানরা নাই না!


না তালিবানীরা ভারত দখল করেনি বলেই যে ভারতবর্ষের নারীরা রাত বারোটায় বুক ফুলিয়ে নির্জন রাস্তায় নিরাপদে চলতে পারে। তেমনটা ঠিক নয় বোধহয়। না রাত বারোটায় নির্জন পথে কোন মহিলাই বা আর নিরাপদ। তার জন্যে তালিবানদের প্রয়োজন পড়ে না ভারতীয় পুরুষই যথেষ্ঠ। তাই হাথ্রসের ঘটনায় ধর্ষকদের পক্ষেই পুলিশ কাজ করে। প্রশাসন প্রতিবাদীদের ধরে জেলে পোড়ে। কাঠুয়ার নাবালিকা ধর্ষণকাণ্ডে ধর্ষকদের সমর্থনে জনগণ পথে নেমে মিছিল করে দোষীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে। না না, এটা ভারতবর্ষ। কোন আফগানিস্তান নয়। কোন তালিবানী শাসনের দেশ নয়। ভারতবর্ষের লোকসভায় খুন আর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সাংসদের সংখ্যাও নাকি খুব কম নয়। অন্তত সেরকমই খবরে প্রকাশ। যাদের বিরুদ্ধে এখনো ফৌজদারী মামলা চলছে। আর সব রাজ্যের বিধানসভার বিধায়কদের ভিতরে কজন খুনী কিংবা ধর্ষক আর কয়জন খুনী কিংবা ধর্ষক নয়। সেও বড়ো গবেষণার বিষয় বৈকি। না না এ তালিবানীদের দেশ নয়। এটা ভারতবর্ষ্। এখানে মহিলারা প্রতি দশ পনেরো মিনিটে এক আধজন করে ধর্ষিত হতে থাকে। ওরকম হয়েই থাকে। সেই নিয়ে আমাদের রাতের ঘুম দিনের শান্তি নষ্ট হয় না কোনদিন। হ্যাঁ মাঝে মধ্যে এক আধটা নির্ভয়া কাণ্ড এক আধটা কামদুনি নিয়ে আমরা একটু আধটু জেগে উঠি বটে। তবে তার কারণ কতটা ধর্ষিতার প্রতি সমবেদনায় আর কতটা সরকার বিরোধী রাজনীতির কারণে। সেও একটা গবেষণার বিষয় বৈকি। তাই বলে যে আমরা তালিবানীদের অধীনে। না না তেমনটাও নয়। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ভারতবর্ষের শাসকগোষ্ঠী তালিবানীদের মতোন কোতল করে না ঠিক। তবে অনেকেই দুমাদুম গৌরী লঙ্কেশ হয়ে যান অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীদের হাতে। বাকিদের আবার ঠাঁই হয় কারাগারে। বিনা বিচারে বিনা জামিনে। কারণ ভারতবর্ষে তালিবান না থাকুক। ইউএপিএ রয়েছে না? সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করলেই হলো? রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের আওতা থেকে কেউই মুক্ত নয়। ধরো আর পোড়। সে তুমি ধর্ম যাজকই হও আর সাহিত্যিক। কবিতাই লেখ আর সামাজসেবা করো। মানবধিকারের জন্যেই লড়াই করো আর দেশের সম্পদ রক্ষা করার জন্যেই লড়াই করো। সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করার নামই তো রাষ্ট্রদ্রোহ। তার জন্যে তালিবানদের ডেকে আনার প্রয়োজন কি? নির্বাচিত সরকার ও তার শাসকদল রয়েছে কি করতে? সর্বত্র তাঁদের নজর। কে কখন গরুর গায়ে হাত দিল। কে কখন কোন মহল্লায় গরুর মাংস খেল। ধরো আর পেটাও। না তালিবানীদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো পাথরছুঁড়ে মারা হয় না অবশ্য। তবে গত সাত বছরে শত শত মুসলিম আর দলিত পিটিয়ে সিধে করে দেওয়া হয়েছে একেবারে ঈশ্বরের নাম নিয়ে। দেশমাতৃকার নামে জয়ধ্বনি দিয়ে। গোরক্ষার দায়িত্ব তো কম কথা নয়। দেশের প্রতি ভক্তিতে অবিচল থেকে গোরক্ষক বাহিনী সদা সতর্ক। জনসমর্থনের জোর তো আর কম কথা নয়। এই তো পশ্চিমবঙ্গেই গোরক্ষক বহিনীর জনসমর্থন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ৩৮% পেড়িয়ে গিয়েছে। ইস, ত্রিমুখী কিংবা চতুর্মুখী নির্বাচন হলে তো কথাই ছিল না। আজকে গোরক্ষকরাই নবান্নের দখল নিয়ে নিতে পারতো। অল্পের জন্য মাত্র ১০% ভোটের কারণে ফস্কে গেল সুযোগটা। কিন্তু তাই বলে জনসমর্থনে কোন ভাটা পড়ে নি। এই জনসমর্থন থাকলে আর তালিবানীদের কি প্রয়োজন। দেশীয় শক্তিই যথেষ্ঠ। গুজরাট থেকে দিল্লী। তেনেনিপাড়া থেকে বারাসাত। যখন যেখানে যেমন প্রয়োজন টু মিনিটস নুডুলস্ -এর মতো এক রাতেই দাঙ্গা লাগিয়ে এলাকা কি এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া যায়। না তাই বলে যে গত বছরের দিল্লীর দাঙ্গায় কিংবা বারাসাত বা তেলেনিপাড়ার দাঙ্গায় আমাদের রাতের ঘুমের দফরফা হয়েছিল। তা নিশ্চয় নয়। হলে কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির সমর্থনেই ৩৮% ভোট পড়তো না নিশ্চয়। বিশেষ করে এই পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রগতিশীল রাজ্যে।


তাই আফগানিস্তানের জন্যে আমরা সত্যিই চিন্তিত। দিল্লীর সীমান্ত জুড়ে নয় মাস রাজপথে পড়ে থাকা লক্ষ লক্ষ কৃষকের জন্যে আমাদের এক রাতেরও ঘুম নষ্ট হয় নি গত নয় মাসে। ভারতবর্ষের শক্তিশালী গণতন্ত্রের উপরে আমাদের এমনই অগাধ বিশ্বাস ভরসা ও আস্থা। তাই আফগানিস্তানেও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবে শুনে আমরা ২০০১ সালে নেচে উঠেছিলাম। যখন মার্কিন বোমারু বিমান আর মিসাইলে বাড়ি ঘরদোর রাস্তাঘাট দোকানপাট বিদ্ধস্ত হচ্ছিল দিনের পর দিন। মারা পড়ছিল লক্ষ লক্ষ আফগানবাসী। আমরা নিশ্চিন্তে ছিলাম তালিবানরা এবারে নিশ্চিহ্ন হলো বলে। আফগানিস্তানও আমাদের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে। কিন্তু আজ যখন হঠাই আমাদের সকালের ঘুম ভাঙলো তালিবানীদের কাবুলের দখল নিতে দেখে। না, আর আমরা চুপ করে থাকতে পারলাম না তাই। একি কথা। আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্য চলে যাবে আর সেই সুযোগে তালিবানীরা দখল নিয়ে নেবে আফগানিস্তানের? আমাদের মেয়েদের মতো আফগান রমনীরাও আর রাত বারোটার পর বাইরে বার হতে পারবে না যে। আমাদের এখানে যেমন সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করলেই ইউএপিএ। তেমনই তো আফগানিস্তানেও তালিবানী কোতল। কি সর্বনাশ! আমাদের এখানের মতোই হয় শাসক দলের সাথে থাকো। নাহয় ঘরে ঢুকে খিল দিয়ে থাকো। শাসক বিরোধী কথা বলা মানেই নিজের বিপদ নিজে ডেকে নিয়ে আসা। কি ভারতবর্ষ কি আফগানিস্তান। না, জানি আমরা সবই। তবু কথা তো থেকেই যায়। আমরা যে মানুষের কথা না ভেবে থাকতে পারি না। তাই আফগানিস্তানে তালিবানীদের বন্দুক নিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঘুরতে দেখে আমরা যথেষ্ঠ শঙ্কিত। আমরা আতঙ্কিত।


২১শে আগস্ট’ ২০২১

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত