তালিবান ও কলুর বলদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তালিবান ও কলুর বলদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তালিবান ও কলুর বলদ

 

তালিবান ও কলুর বলদ


বিনা রক্তপাতে তালিবানদের কাবুল দখলে নেটিজেনদের বেশিরভাগই নেট জুড়ে মড়াকান্না শুরু করে দিয়েছেন। আবার আফগানিস্তান বর্বর যুগে ফিরে গেল বলে। তালিবানী নৃশংসতার ছবি ভিডিও এবং প্রতিবেদন তুলে ধরে নেটজুড়ে আফগানবাসীদের জন্য মড়াকান্নার রোল উঠেছে। হায় হায় একি হলো। আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের পতন হলো বলে নেটিজেনদের দুঃখের অন্ত নেই। অনেকেই আফগান নারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তালিবানী মধ্যযুগীয় বর্বতায় সে দেশের নারীদের চরম দুরবস্থার কথা কল্পনা করে শিউরে উঠছেন প্রায় সকলেই। কেউ কেউ আবার সুস্পষ্ট করে আগাম ঘোষণা করে দিয়েছেন। তাদের বন্ধুবৃত্তের কাউকে তালিবানীদের পক্ষ নিয়ে সওয়াল করতে দেখলেই সরাসরি ব্লক করে দেবেন বলে। এই ঘোষণা আর হুমকি’র ভিতর পার্থক্য কতখানি, সেই বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন নাই আশা করি। এবং তালিবানী ফতোয়া বলতে আমরা এতদিন যা বুঝে এসেছি, তার থেকে এহেন ঘোষণা কতটা দূরবর্তী সে বিষয়েও খুব একটা গবেষণার অবকাশ রয়েছে বলে মনে হয় না। সে যাই হোক, কে কার কোন বন্ধুকে কবে কখন কোন কারণে ব্লক করে দেবেন সেটি নিতান্তই ব্যক্তি মানুষের মৌলিক অধিকারের বিষয়। সংবিধান প্রদত্ত। সেই নিয়ে তর্ক চলে না। শুধু এইটুকু বোঝা যায়, তালিবানী মানসিকতা ও সংস্কৃতি শুধুমাত্র আফগানীদের একচেটিয়া নয়। তালিবানী মানসিকতা ও সংস্কৃতি আমাদের ভিতরেও প্রচ্ছন্ন থাকে। সময় ও সুযোগ পেলেই ফণা তোলে শুধু।


সে কথা যাক। গত চব্বিশ ঘন্টায় নেটজুড়ে তালিবান বিরোধী যত পোস্ট চোখে পড়ছে, যত পোস্ট নিয়ে মানুষ আলোচনা করছে, তালিবানদের ঠিকুজিকুলজি নিয়ে যত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রায় সর্বত্র তালিবানদের জনক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্বন্ধে এক অদ্ভুত নিরবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আফগানিস্তানের বিগত পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসকে অর্ধসত্য আর অর্ধমিথ্যায় এমন ভাবেই পরিবেশিত করা হচ্ছে, যাতে তালিবানীদের পাপের কলঙ্ক কোনভাবেই যেন তাদের জনক মার্কিনীদের গায়ে না লাগে। এবং এই বিষয়ে প্রায় সকলের ভিতরেই যেন এক অলিখিত সমন্বয় বর্তমান। যত দোষ তালিবানীদের। কিন্তু কোন দোষ মার্কিনীদের নয়। এই প্রচারটাকে জোর কদমে চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সমস্বরে একটি বিশেষ প্রচার কার্য চালিয়ে যাওয়ার ভিতরে নিশ্চয় একটা মানসিক আনন্দও বর্তমান। ফলে নেটিজেনদের ভিতরে গত চব্বিশ ঘন্টায় একটা ঐকতান গড়ে উঠেছে সন্দেহ নাই। যেভাবেই হোক সমস্বরে একই কথা বলতে হবে। এবং কোন ভাবেই মিডিয়া প্রচারের বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না। আমাদেরও অবশ্য প্রশ্ন তোলার কোন দায় নেই। প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতিকে বাঙালি বহুদিনই হলো বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে। ফলে আফগানিস্তানের নির্বাচিত সরকারের পতনে তালিবানীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বয়ানে নেটিজেনদের পরস্পরের ভিতরে কোন পার্থক্য চোখে পড়ছে না।


ঠিক এই পরিস্থিতিতে একটি ছোট খবর আজকেই প্রথমসারীর একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। লণ্ডনস্থিত সংবাদসূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তানের জেল থেকে মার্কিন সরকারের দাবি মতো ঠিক তিন বছর আগে মুক্তি দেওয়া হয় আব্দুল ঘানী বরাদরকে। কিন্তু কে এই আব্দুল ঘানী বরাদর? আমরা তো জানি অর্থনীতিবিদ কাম আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানীর কথা। যিনি গত রবিবার আফগান সেন্ট্রাল ব্যংকের ভল্ট ভেঙে চার গাড়ী এবং একটি হেলিকপ্টার ভরা টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এই আশরাফ ঘানী দেশের প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে মার্কিন নাগরিক ছিলেন। দেশের নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য আফগান নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হন। এবং পরপর দুই বার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। এই সেই মার্কিন শক্তি কথিত গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান। দেশ ও জাতির সংকট কালে যিনি দেশের প্রধান ব্যংক লুঠ করে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। না, ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি না। গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের রবিবাসরীয় কর্তিকাহিনীটুকুই স্মরণ করে নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে বইকি।


সংবাদপত্রে যে সংবাদটুকু নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা। তাতে জানা যাচ্ছে এই আব্দুল ঘানী বরাদর, যিনি পাকিস্তানের জেলেই বন্দী ছিলেন। কিন্তু মার্কিন সরকারের দাবি মতো পাক জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দোহায় নিজের অফিস খুলে বসে ছিলেন গত তিন বছর। তিনিই নাকি গতদিনের কাবুল দখলকারী তালিবানদের রাজনৈতিক সর্বাধিনায়ক। যিনি কাবুল দখলের পরপরেই দোহা থেকে বিমান যোগে কাবুলের পথে রওনা দিয়েছেন। এবং ইতিমধ্যেই এই আব্দুল ঘানী বরাদর এক টিভি বয়ানে জানিয়ে দিয়েছেন, তালিবানের আসল পরীক্ষা এখন থেকেই শুরু হবে। এবং দেশকে সেবা করার মূল দায়িত্ব তাঁদেরকেই নিতে হবে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, সামনে যে তালিবান সরকার আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চলেছে। ইনি সেই সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। কিন্তু কি তাঁর ইতিহাস? একটু দেখে নেওয়া যাক বরং। এই আব্দুল ঘানী বরাদরের জন্ম ১৯৬৮ সালে। আশির দশকজুড়ে ইনি মুজাহিদিনদের সাথে আফগানিস্তানে অবস্থানরত সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন মার্কিন মদতে। ১৯৯২ সালে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর আফগান গৃহযুদ্ধের সময় ইনি বৈবাহিক সূত্রের এক আত্মীয়ের সাথে জুটি বেঁধে প্রতিষ্ঠা করেন তালিবানের। তাঁর সেই ভুবনখ্যাত আত্মীয়টির নাম, মোল্লা মোহম্মদ ওমর। এবং এই জুটির নেতৃত্বেই তালিবানী শক্তি কাবুলের ক্ষমতা দখল করে নেয় ১৯৯৬ সালে। আশা করি এই সামান্য ইতিহাসটুকুতে আমরা আফগানিস্তানের ইতিহাসে এই অসামান্য আব্দুল ঘানী বরাদরের গুরুত্বটুকু অনুধাবন করতে পারছি। তালিবানের উত্থানের পিছনে এনার ভুমিকা যে যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেকথা সহজেই অনুমেয়। মোল্লা মোহম্মদ ওমরের সহকারী হিসাবে ইনি পাঁচ বছরের তালিবানী শাসনে দেশের সামরিক এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলিয়ে ছিলেন। মার্কিন শক্তির আফগানিস্তান দখলের সময় তিনি তালিবানী সরকারের অর্থমন্ত্রকের সহকারী মন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের পতনের পর বিগত দুই দশক বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন পরিকল্পনায় এহেন আব্দুল ঘানী বরাদরকে বাঁচিয়ে রেখেছিল? এবং তিন বছর আগেই বা কোন উদ্দেশে পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ দিয়ে তাকে পাক কারাগার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দোহায় পূনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল? স্মরণে রাখতে হবে কাতার দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মার্কিন অনুচর। ফলে দোহায় পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা কোন শক্তির নির্দেশে হতে পারে। সহজেই অনুমেয়। এখন শোনা যাচ্ছে এই আব্দুল ঘানী বরাদর কাবুলের পথে রওনা দিয়েছেন তালিবানরা কাবুলের দখল নেওয়ার পরপরই। এবং ইনিই নাকি তালিবানদের রাজনৈতিক সর্বাধিনায়ক রূপে আত্মপ্রকাশের পথে।


না, প্রশ্ন তোলা বারণ। পাশ্চাত্য মিডিয়ার প্রচারে তাথৈ নৃত্য করাই বিশ্বনাগরিক হওয়ার প্রথম শর্ত। তাই সারাদিন তারস্বরে তালিবান তালিবান করে কোলাহল করলেই আমাদের গণতান্ত্রিক নাগরিক দায়িত্ব ও মানবতার পরাকাষ্ঠা প্রমাণ করা যায়। তাই আমরা প্রশ্ন করবো না। এখন দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন প্রশ্নগুলি আমাদের করা বারণ। বা আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই কোন কোন প্রশ্নগুলি করবো না। ২০০১ সালে মার্কিন শক্তি আফগানিস্তানের দখল নিয়েছিল সেই দেশের জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার পাইয়ে দেবে বলে। তাদের বক্তব্য ছিল পরিস্কার। মৌলবাদী তালিবানদের নিকেশ করে আফগানিস্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার যাঁতাকল থেকে উদ্ধার করে আধুনিক বিশ্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সন্ত্রাসবাদী শক্তিগুলিকে খতম করে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। এবং আফগানিস্তানের সমাজ ব্যবস্থার পরতে পরতে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, মৌলবাদী ইসলামিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে। তা কেমন গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেটি আমরা দেখতেই পাচ্ছি পরিস্কার। মৌলবাদী ইসলামিক সংস্কৃতির কেমন অবসান ঘটানো হয়েছিল, সেটাও আজ জলের মতো পরিস্কার। তালিবানদের কেমনভাবে নিকেশ করা হয়েছিল, সেটা বুঝতে আজ আর আফগানিস্তানে গিয়ে দেখে আসার দরকার নেই নিশ্চয়। না, তাই বলে আমরা ভুলেও প্রশ্ন করবো না কেন আবিশ্ব মানুষকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ভাবে ধোঁকা দিয়েছিল।


একটু এবার নিজেদের দেশের দিকে তাকানো যাক। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের সেই সব অঙ্গীকারগুলি। প্রত্যেক ভারতবাসীর ব্যাংক একাউন্টে পনেরো লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। সকল অভিযুক্ত সাংসদ বিধায়কদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে কোন দাগী প্রার্থীকে অর্থাৎ ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত কোন রাজনীতিবিদকেই নির্বাচনের দাঁড়ানোর টিকিট দেওয়া হবে না। পেট্রোল ডিজেল রান্নার গ্যাসের দাম কমানো হবে। ইত্যাদি ইত্যাদি। না আমাদের দেশেও কিন্তু বর্তমানে দেশপ্রেমের একটাই সঙ্গা। এই সব প্রশ্নগুলি তোলা যাবে না। তুললেই দেশবিরোধী শক্তির মদতদাতা বলে ধরে নেওয়া হবে। বর্তমান ভারতে দেশপ্রেম আর বিশ্বে গণতন্ত্র প্রেম একই ধরণের বিষয়। মার্কিন শক্তির অপকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সেসব গণতন্ত্র বিরোধী তালিবানী মানসিকতার ইসলামিক মৌলবাদ বলে ধরে নেওয়া হবে। ফলে মার্কিন শক্তির বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না। তুললেই আপনি তালিবানের সমর্থক। কিংবা ঘোরতর তালিবানী। প্রশ্ন তোলা যাবে না, কেন এই আব্দুল ঘানী বরাদরকে মার্কিন শক্তি পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কাতারে পূনর্বাসন দিয়েছিল। প্রশ্ন তোলা যাবে না, গত দুই দশকে এই মার্কিন শক্তি আফগানিস্তানের তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বাহিনীকে কিভাবে প্রশিক্ষিত করে কি ধরণের অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত করেছিল। যাতে প্রায় বিনা রক্তপাতে কাবুল দখল করে নিল তালিবানরা। এবং মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়লো একটি গণতান্ত্রিক দেশের সামরিক বাহিনী। প্রশ্ন কিন্তু তোলা বারণ। দুই দুটি দশক আফগানিস্তান নাকি গণতন্ত্রের অন্যতম পীঠস্থান ছিল। যে গণতন্ত্রেই দ্বিতীয় বারের জন্য রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন ভুতপূর্ব মার্কিন নাগরিক আশরাফ ঘানী। প্রশ্ন তোলা বারণ, সেই নির্বাচিত রাষ্ট্র প্রধান কি করে দেশের প্রধান ব্যাংকের তহবিল লুঠ করে চার গাড়ী ও একটি হেলিকপ্টার বোঝাই টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে পারে? কি ধরণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলে দেশের চরম সঙ্কটে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগণের গচ্ছিত টাকা লুঠ করে বিশ্বগণতন্ত্রের প্রধান ঠিকাদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের চোখের সামনে দিয়েই দেশ ছেড়ে পালাতে পারে? কি চমৎকার ছিল এই আফগানী দুই দশকীয় গণতন্ত্র, তাই না। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত। না, এই প্রশ্ন তোলা কিন্তু বারণ। তুললেই আপনি বেকায়দায়।


ফলে আমরা ভুলেও প্রশ্ন তুলবো না। কেন সেই সেই ইসলামিক রাষ্ট্রেই ইসলামি মৌলবাদের এতো বাড়বাড়ন্ত, যে সকল ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনীতি মূলত মার্কিন অর্থনীতি নির্ভর। এবং যে সকল ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি পুরোপুরি মার্কিন অঙ্গুলিহেলন চলে। বিশ্বজুড়ে ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর স্বার্থের সাথে বিশ্বজুড়ে ইসলামিক মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত কিভাবে সম্পর্ক যুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলা যাবে না। বিগত তিন দশকের বিশ্বব্যাপী ইসলামিক মৌলবাদের উত্থানের সাথে কিভাবে মার্কিন অর্থনীতির ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পর্কিত, না সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিও ইসলামিক টেররিজিমের প্রচারের তলায় চাপা দিয়ে রাখতে হবে। অন্তত পাশ্চাত্য মিডিয়ার সুবোধ ছাত্র হিসাবে সেই কথাটুকু আমরা বুঝে গিয়েছি বহুদিন আগেই। তাই তালিবান তালিবান, ইসলামিক টেররিজিম, ইসলামী মৌলবাদ প্রভৃতি বাঁধাগতের বাইরে দাঁড়ালেই বিপদ। আপনি কিন্তু চিহ্নিত হয়ে গেলেন মার্কিনপন্থী নন বলে। তাহলেই হয় আপনি কমিউনিস্ট নাহলেই তালিবানী। এর বাইরে পাশ্চাত্য মিডিয়া আর কোন পরিসর খোলা রাখেনি। আমাদের যাবতীয় তাথৈ নৃত্যও এই পরিসরের ভিতরেই। সেই চির পরিচিত কলুর বলদের মতোই। ওদিকে বিশ্বায়নের বিশ্বপুঁজির ঘানিতেই সব মধু জমে উঠছে। আর মালিকের গুপ্ত হাসি ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে দিগন্ত ব্যাপী। তাই তালিবানদের পুনরায় কাবুল দখলের পরেও আমরা কিন্তু প্রশ্ন করবো না দুই দশকের মার্কিন দখলদারিত্বেও আফগানিস্তানে কি করে তালিবানদের এইরকম শক্তিবৃদ্ধি হলো। কি করে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যের সম্পূ্র্ণ অপসারণের আগেই আফগান বাহিনীর যাবতীয় সামরিক প্রতিরোধ এমন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়লো। কি করে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতেই বিনা রক্তপাতে তালিবানরা কাবুল দখল করে নিল। এবং কেনই বা সেই আব্দুল ঘানী বরাদর মার্কিন মদতে পাক জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় দ্বিতীয় তালিবান সরকারের প্রধান রাজনৈতিক মুখ হিসাবে আত্মপ্রকাশের পথে কাবুল রওয়া দিল? কাতারের দোহা থেকে। আবার ঠিক কি কি চুক্তি হয়ে বসে রয়েছে তালিবান আর পেন্টাগনের ভিতরে? না, প্রশ্ন তোলা বারণ কলুর বলদদের। কোন প্রশ্ন তুলবেন না।


১৭ই আগস্ট’ ২০২১

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত