ইউক্রেন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহাকাব্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইউক্রেন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহাকাব্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইউক্রেন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহাকাব্য

 

ইউক্রেন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহাকাব্য

এটা খুবই অশ্চর্য্যজনক শোনালেও। এটাই ঘটনা। ইউক্রেন কথাটির মানে ‘ভাইয়ের দেশ’। কিন্তু কেন ভাইয়ের দেশ? তার একটা ইতিহাস রয়েছে। ঐতিহাসিক ভাবেই ইউক্রেনের বর্তমান রাজধানী কিয়েভ ছিল কিয়েভান-রুশদেশের রাজধানী। এবং সেখান থেকেই রুশ কথাটিরও নাকি উদ্ভব হয়। খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মঙ্গোলিয়ান জাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেই কিয়েভান-রুশীরা বর্তমান মস্কোর অভিমুখে সরে যেতে থাকে। এবং দিনে দিনে গড়ে ওঠে রুশ সাম্রাজ্য। ফলে রাশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি যখন বলেন, ইউক্রেনিয়ান ও রাশিয়ানরা মূলত একই জনগোষ্ঠী। তখন ঐতিহাসিক ভাবে সেকথার সত্যতা স্বীকার না করে উপায় কি? আবার একথাও ঠিক। কালের নিয়মে একই জাতিগোষ্ঠী পরস্পর বিচ্ছিন্ন জাতিসত্তায় আলাদা হয়ে যেতেই পারে। যে মোঘলেরা ভারতবর্ষে চলে এসেছিল। তারা আজ আর কেউ মোঘল নেই। সকলেই ভারতীয়। এবং আরও বড়ো কথা। তাদের কোনরূপ পৃথক জাতিচিহ্নও আজ আর অবশিষ্ট নেই। নেই নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। সবই ভারতীয় হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের কথা অবশ্য আলাদা। ১৯৯১ সাল অব্দিও এই দুই ভাষার মানুষ একই সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরস্পর একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্থ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তির প্রক্রিয়ায় কিছু শর্ত ছিল। ১৯৯০ সালে মার্কিন সরকার সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রিমিয়ার মিখাইল গোর্ভাচভকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ন্যাটো তার তৎকালীন পূর্বসীমানার এক ইঞ্চি পূর্বেও অগ্রসর হবে না। বদলে সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই জার্মানির মিলনে পূর্ণ সমর্থন দেবে। মিখাইল গোর্বাচভের সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের প্রতিশ্রতি রক্ষা করলেও। মার্কিন অপশক্তি তাদের প্রতিশ্রুতি কিভাবে রক্ষা করেছিল। সেটা জানতে খুব বেশি লেখাপড়া করার দরকার পড়ে না। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে গড়ে তোলা ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪টি দেশ। ১৯৯১ সালের সময়সীমা অব্দি। যে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে দেওয়া হয়। যে সময় মার্কিন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ন্যাটো তার পূর্ব সীমান্তে এক ইঞ্চি জমিও দখল হবে না। আর আজ ২০২২ -এ এসে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩০টি দেশ। এবং প্রায় গোটা পূর্ব ইউরোপ দখল করে নিয়েছে। পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় সবকয়টি দেশই এখন ন্যাটোর অধীনে। হ্যাঁ ইউরোপের ন্যাটোর সদস্য ৩০টি দেশই কিন্তু ন্যাটোর অধীনে। এবং ন্যাটোর বকলমে মার্কিন অপশক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন। এটাই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির স্বাধীনতার প্রকৃত অবস্থা। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের ফলে ইউরোপের বাকি দেশগুলিকেও এবার ন্যাটো নিজেদের অধীনে নিয়ে নেবে। এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।


সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গিয়েছে। পূর্ব ইউরোপে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে মার্কিন অপশক্তি একের পর এক দেশকে ন্যাটোর অধীনে নিয়ে এসেছে। সেই সেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্র রক্ষা করার অজুহাতে। অজুহাত কেন বলছি? বলছি এই কারণেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এমন অপূর্ব আয়োজনের মূল কথাটি বড়ো অনবদ্য। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলিতে মার্কিন মেরিনদের প্রবেশ। মার্কিনরা কেউ ইউরেপীয়ান নয়। কিন্তু ন্যাটোর সদস্য। ন্যাটোর প্রধান প্রতিষ্ঠাতা। ন্যাটোর মূল নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে। তারা তাদের সৈন্যবাহিনী এবং সামরিক অস্ত্রসম্ভার মোতায়ন করে রেখেছে ন্যাটোভুক্ত এই ৩০টি দেশজুড়ে। হ্যাঁ, তাদের সাহায্য করতে বাকি সদস্য দেশগুলিরও সৈন্যসামন্ত রয়েছে বইকি। কিন্তু নেতৃত্বে মার্কিন মেরিন। হেডকোয়র্টার পেন্টাগন। সেখানকার নির্দেশাবলী পালন করার দায়িত্বটুকু শুধু ব্রাসেলসের। ব্রাসেলস, ন্যাটোর সদর দপ্তর।


বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ জুড়ে ন্যাটোর অধীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই মহাযজ্ঞে মার্কিনদের অশ্বমেধ ঘোড়া থামানোর কোন শক্তিই রাশিয়ার ছিল না। আজও নেই। তাই ১৯৯৯ থেকে ২০২০, এই সময়সীমায় রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটোর দুর্বার আগ্রাসন রাশিয়া প্রতিরোধ করতে পারেনি কোন ভাবেই। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আজ হঠাৎ রাশিয়ার মতিভ্রম হলো কেন? রাশিয়া চোখের সামনে দেখেছে গোর্বাচভকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ন্যাটো কিভাবে ভঙ্গ করেছে। রাশিয়ার প্রতি তাচ্ছিল্য আর অবজ্ঞায়। রাশিয়ানদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার দায় ন্যাটো তথা ন্যাটোর মালিক এবং প্রভু মার্কিন অপশক্তির নেই। ওয়াশিংটনের এই দেওয়াললিখন তাই পরিস্কার এবং চূড়ান্ত।


ঠিক, কিন্তু তার ভিতরেও একটা বড়ো টুইস্ট রয়ে গিয়েছে। তার সূত্রপাত ১৯৯১ সালেই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ইউক্রেন সৃষ্টির সময়েই মার্কিন অপশক্তি ও ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার একটি বোঝাপড়া হয়। যাতে সব পক্ষই সহমত ছিল, ইউক্রেন একটি নিরপেক্ষে দেশ হিসাবে অবস্থান নেবে। ইউক্রেনের হাতে কোন পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার থাকবে না। এবং কোনভাবেই ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যভুক্ত হবে না। হ্যাঁ, ঠিক এই বোঝাপড়ায় ইউক্রেনেরও পূর্ণ সম্মতি ছিল। কারণ, তা নাহলে রাশিয়া কোন অবস্থাতেই ইউক্রেনকে রাশিয়া থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র একটি দেশ বলে স্বীকার করে নিত না। সেটা রাশিয়ার নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক হতো। মনে রাখতে হবে। এই বোঝাপড়ার সময়ে ন্যাটো প্রতিশ্রুত ছিল, ১৯৯১ সালের ন্যাটোর পূর্ব সীমানা, ইউরোপের পূর্ব সীমান্তের অভিমুখে এক ইঞ্চিও অগ্রসর হবে না।


এবার আসা যাক ২০১৪ সালে। ঠিক যে বছর হঠাৎ করে মার্কিন অপশক্তি ইউক্রেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। একেবারেই সার্জিকাল স্টাইক। অবশই তার একটি সলতে পাকানোর পর্ব ছিল। কিন্তু আমরা সরাসরি মূল পর্বেই বরং প্রবেশ করি। এই সময়ে ইউক্রেনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ভিক্টোর ইয়ানকোভিচ। তিনি একাধারে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যচুক্তির দিকে এগোচ্ছিলেন। লক্ষ্য ছিল, ইউক্রেনের পক্ষে অধিকতর লাভজনক বাণিজ্যচুক্তিটি সম্পাদন করা। দেখে নিতে চাইছিলেন। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন না রাশিয়া। কে বেশি ভালো অফার দেয়। ভালো অফার পেলেই তিনি সেই দিকে ঝুঁকবেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে। এই নীতিই তিনি গ্রহণ করেছিলেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান এমন নীতি গ্রহণ করলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র উভয়ই মজবুত হয়। হওয়ারই কথা। ভিক্টোর ইয়ানকেভিচ ঠিক সেটাই করেছিলেন। অধিকতর লাভজনক অফার পাওয়ায় রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদিত হয়। আর তাতেই আগুনে ঘি পড়ে ওয়াশিংটনের চার দেওয়ালের ভিতর। মার্কিন অপশক্তির পক্ষে এতো বড়ো আস্পর্ধার আচরণ হজম করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা। গাত্রবর্ণের জন্যে অনেকেই যাঁর প্রতি মানসিক ভাবে দুর্বল। তাঁর সরকার ইউক্রেনের ভিক্টোর ইয়ানকোভিচের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়।


বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার বিষয়ে মার্কিন অপশক্তির জুড়ি মেলা ভার। যারা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঠিকে নিয়ে রেখেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ে নির্বাচিত বৈধ সরকারকে সম্পূ্র্ণ অবৈধ উপায়ে উৎখাত করার বিষয়ে তাদের দক্ষতা প্রশ্বাতীত। আগেই বলেছি, সব কিছুরই একটা সলতে পাকানোর পর্ব থাকে। এই ঘটনার আগেই সেই পর্ব সম্পূর্ণ করে রেখেছিল পেন্টাগন ও ন্যাটো। ১৯৯১ সালে স্বাধীন ইউক্রেন গঠন হওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন ও ন্যাটোর উদ্যোগে ইউক্রেন জুড়ে নব-নাৎসী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটানো হয় ধীরে ধীরে। আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। নাৎসীবাদের মূল অভিমুখ কিন্তু দুইটি। একটি বর্ণবিদ্বেষ ও একটি কমিউনিস্ট বিদ্বেষ। ন্যাটো ও পেন্টাগন এই বিষয়টিকেই ধূমায়িত করতে থাকে সলতে পাকানোর পর্বে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ায় কমিউনিজমের পতন হলেও। মার্কিন অপশক্তির রাশিয়া বিদ্বেষের ঐতিহ্যে এতটুকু ঢিলেমি পড়েনি। ফলে নব-নাৎসীদের কমিউনিজম বিদ্বেষকে তারা রাশিয়া বিদ্বেষে পরিণত করে ফেলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার হাতে নাৎসীদের পরাজয়ের গ্লানিতে ঘি ঢালা মার্কিন অপশক্তি পক্ষে কোন কঠিন কাজ ছিল না। প্রচারে কি না হয়। বিশ্বজুড়ে হিটলার ও নাৎসীদের পরাজিত করার কৃতিত্বের প্রধান দবীদার মার্কিনশক্তি। কিন্তু ইউক্রেনের নব-নাৎসীদের উত্থান ঘটাতে তারা নাৎসীদের পরাজয়ের পেছনে স্টালিনের রাশিয়ার ঐতিহাসিক ভুমিকাকেই তুলে ধরে। না হলে আগুনে ঘি ঢালা সহজ হবে কি’করে। ফলে ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদী শক্তি ও এই নব-নাৎসী গোষ্ঠী। এই দুই পক্ষকেই ভয়ঙ্কর ভাবে রাশিয়া বিদ্বেষী করে তোলা হয়। সোভিয়েত যুগের অবসানে স্বাধীন ইউক্রেনকে মার্কিন অপশক্তির স্বার্থে অস্থির করে তোলা এবং একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে এটাই ছিল আমেরিকা ও ন্যাটো গোষ্ঠীর তুরুপের তাস।


সলতে পাকানোর পর্ব শেষ। এবারে ডাইরেক্ট একশান। মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিভিন্ন এনজিও’র মাধ্যমে ইউক্রেনের এই জাতীয়তাবাদী ও বর্ণবিদ্বেষী রাশিয়া বিদ্বেষী নব-নাৎসী গোষ্ঠীগুলির হাতে দেদার অর্থের যোগান দেওয়া হতে থাকে। সাথে সরকারী বেসরকারী ভাবে, সোজা পথে, চোরা পথে অত্যাধুনিক অস্ত্রের জোগানও চলতে থাকে। শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে এই দুই গোষ্ঠী। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদন করতেই ইউক্রেন জুড়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করিয়ে দেয় মার্কিন অপশক্তি। সমাজের ভিতরে রাশিয়া বিদ্বেষী শক্তিরা এবারে সরাসরি পথের দখল নিয়ে নিতে শুরু করে। সাথে জাতীয়তাবাদী শক্তিরাও ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমতার পক্ষে রাশিয়াকে শত্রু হিসাবে মনে করে স্বভাবতই রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যচুক্তি করা নির্বাচিত সরকারের বিরোধীতায় নব-নাৎসীদের সাথে হাত মেলায়। তৈরী হয় প্রবল পক্ষ। সেই পক্ষকে অধিকতর সক্রিয় করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করাতে ওয়াশিংটন থেকে ছুটে আসে সেনেটর জন ম্যাককেইন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ভিক্টোরিয়া ন্যুলাণ্ডের গোটা টিম। শুরু হলো মাইদান বিপ্লব। ইউক্রেনের পথে পথে সরকার বিরোধী বিদ্ধংসী বিক্ষোভ প্রদর্শন।


এই বিক্ষোভের পেছনে মার্কিন অপশক্তির হাত থাকার প্রমান পাওয়া গেল। একটি লিক হওয়া অডিয়ো টেপে। যেখানে ইউক্রেনের তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিওফ্রে  প্যাটের সাথে ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যাণ্ডের কথপোকথন ফাঁস হয়ে যায়। শোনা যায় তাঁদের সেই আলাপচারিতা। যেখানে ন্যুল্যাণ্ড রাষ্ট্রদূত প্যাটকে বলছিলেন, “Fuck the EU”। না কেন এমন অপশব্দের প্রয়োগ। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নাই। আমরা বরং দেখে নিই। আর কি কি কথা শোনা গিয়েছিল সেই ফাঁস হওয়া অডিয়ো টেপে্। বক্তা ন্যুল্যাণ্ড। এসিস্টেন্ট সেক্রেটেরি অফ স্টেট। ইউএসএ। “I don’t think Klitch should go into the government. I don’t think it is necessary. I don’t think it is a good idea………. I think Yats [Arseniy Yatsenyuk] is the guy who has got the economic experience, the governing experience…….” কিন্তু কে এই আর্সেনই ইয়াটসেনিউক? বক্সিং চ্যামপিয়ন থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা একজন খেলোয়ার। তাঁরা আরও আলোচনা করতে থাকেন, পরবর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায় এমনই যে, ওয়াশিংটন থেকে ঠিক করতে হচ্ছে রাশিয়ার পড়শী দেশ ইউক্রেনে কে রাষ্ট্রপতি হবে। সরকার গঠিত হবে কাদের কাদেরকে নিয়ে। কাজ করবে কিভাবে। এবং সত্য সত্যিই সেই আর্সেনই ইয়াটসেনিউকই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইউক্রেনের নতুন সরকার গঠন করেন। মাত্র এক মাসের ভিতরেই।


কিভাবে সম্ভব হলো তা? সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাথে ইউক্রেনের নব-নাৎসীর গুণ্ডা বাহিনী মার্কিন অস্ত্রে বলীয়ান হয়ে আক্রমণ করে পার্লামেন্ট ভবন। প্রাণের ভয়ে পালাতে হয় রাষ্ট্রপ্রধান ভিক্টোর ইয়ানকোভিচ ও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী সাথীদের। এই ঘটনাটি ঘটানো হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের ঠিক আট বছর আগে। এবং ঘটনা হলো, ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভবন আক্রমণের ঠিক আগের দিনই রাষ্ট্রপ্রধান নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ফ্রান্স জার্মানি ও পোল্যাণ্ডের বিদেশ মন্ত্রীদের সাথে তাঁর বৈঠকের ভিত্তিতে। কিন্তু মার্কিন অপশক্তি সেই নির্বাচন হওয়ার পক্ষেও রাজি ছিল না। তাই পরের দিনই পার্লামেন্ট ভবন আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। ফল ফলেছিল হাতেনাতে। সরকার প্রধান প্রাণের ভয়ে পালাতে বাধ্য হলেন। শাসকদলের অধিকাংশ সদস্যদের সাথে। পার্লামেন্টের বাকি সদস্যরা মিলে নতুন সরকার নির্বাচিত করে নিল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এমন চমৎকার পন্থা একমাত্র মার্কিন অপশক্তির পক্ষেই বাস্তবায়িত করা সম্ভব। মার্কিন তর্জনীর গর্জনে ইউক্রেনে অবশেষে প্রতিষ্টিত হলো মার্কিন মদতপুষ্ট গণতন্ত্রের। মার্কিন পন্থায়। গণতন্ত্র হলেই হবে না। হতে হবে মার্কিন মদতপুষ্ট। তবেই সেই গণতন্ত্র চলতে থাকবে। ইউক্রেনের ঘটনায় গণতন্ত্রের সিলেবাস থেকে এই শিক্ষাটুকু আমাদের মগজে ঢুকিয়ে নিতে হবে। নয়তো মগজ সাফ থাকবে না।


এই সেই ২০১৪। কারুর কারুর মতে এই বছরেই ভারত প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করে। যার ফলাফলে গত আট বছরে একের পর এক সরকারী সংস্থা জলের দরে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশেস বিশেষ ধনকুবেরদের হাতে। সরকারী কর্মচারীদের কতজনের চাকরি চলে গিয়েছে। হিসাব নাই। বিএসএনএলের মতো সংস্থাকে গলা টিপে মেরে ফেলার কাজ চলছে পুরোদমে। কর্মীদের জীবনের নিশ্চয়তা নাই। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, রেল প্লেন, আর সরকারের মালিকানাধীন থাকছে না। বেসরকারী সমুদ্রবন্দর দিয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার হিরো‌ইন ঢুকছে দেশে। একজনও ধরা পড়েনি। ধরা হয়েছিল ভেনেটিব্যাগে বাহান্ন গ্রাম মাদক থাকা মহিলাকে। সামনে ছিল বিহার নির্বাচন। সকলেই সব জানে। না, ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া নয়। সেই ২০১৪ থেকেই ইউক্রেনেও শুরু হয় সরকারী সম্পদের বেসরকারীকরণের ধামাকা। রাশিয়ার সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির বদলে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রসর হয় ইউক্রেন। যার ফলে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় আমেরিকার বর্তমান প্রধান জো বাইডেন পুত্র হান্টার বাইডেন। করাপশানের চূড়ান্ত শিখরে উঠে বাইডেন গোষ্ঠী প্রভুত অনৈতিক সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে।


এই সময়েই ইউক্রেন জুড়ে দুটি প্রধান ঘটনা ঘটা শুরু হয়। রাজনীতি আর দুর্নীতির মহোৎসব। এবং রুশভাষী ইউক্রেনিয়ানদের উপরে নির্যাতন নিপীড়ন ও অত্যাচার। স্কুল কলেজ ও পঠন পাঠন থেকে রাশিয়ান ভাষাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ান ভাষার মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দিনে দিনে স্তব্ধ করে দেওয়া শুরু হয়। বিরোধী রাজনীতির পরিসর সঙ্কুচিত করতে রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধী নেতানেত্রীদের জেলে ভরা হয়। সবচেয়ে বড়ো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। মার্কিন মদতপুষ্ট জাতীয়তাবাদী ও নব-নাৎসী গোষ্ঠীকে কাজে লাগানো নয় রুশভাষীদের উপরে চরম অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন নামিয়ে আনতে। এই সময়েই নব-নাৎসীদের বাহিনী আজভ ব্যাটেলিয়ানকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। নব-নাৎসী ও এই আজভ বাহিনীর জন্য মার্কিন অপশক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করার ব্যাবস্থা করে। ইউক্রেনের নাৎসী নেতা ওলেহ ট্যাহনিবকের সাথে এক মঞ্চে দেখা গেল সেই সেনেটর জন ম্যাককেইন, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ভিক্টোরিয়া ন্যুলাণ্ডকে। যাঁরা ওবামা সরকারের পরিকল্পনায় ছুটে এসেছিলেন ইউক্রেনে। রাষ্ট্রদূত জিওফ্রে প্যাটের সাথে ন্যুল্যাণ্ডের কথাবার্তার ফাঁস হওয়া সেই অডিয়ো টেপ থেকে পরিস্কার হয়, নব-নাৎসীদের এই নেতা ওলেহ ট্যাহনিবকের উপরে ভিক্টোরীয়া ন্যুল্যাণ্ডের ব্যক্তিগত প্রভাবও বিদ্যমান ছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতির কি অনবদ্য সমাপতন! যার সূত্র ধরে ফেসবুক নব-ন্যাৎসীদের এই আজভ ব্যাটেলিয়নের ফেসবুক পেজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সম্প্রতি। এবং এদের বিরুদ্ধে কিছু বললে সেটি নাকি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যাণ্ডার্ড লঙ্ঘণ করতে পারে।


ফেসবুকের কথা থাক। নাটের গুরু সিআইএ’র কাণ্ডকারখানা কি, দেখা যাক। ২০১৫ সাল থেকে এই সিআইএ ইউক্রেনের ফ্যাসিস্ট মিলিশিয়াদের সরাসরি ট্রেনিং দিয়ে আসছে। এবং ইউক্রেনের মাটিতেই। ফলে ইউক্রেনের বর্তমান সরকারের ভিতরেই নব-নাৎসী ফ্যাসিস্ট শক্তি শিকড় বিস্তার করে ফেলেছে। তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ, সরকারের পাশ করা আইন। যে আইনের বলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ইউক্রেনিয়ান নাৎসীদের ঘাতক বাহিনীর সদস্যদেরকে স্বাধীনতা যোদ্ধা এবং হিরোর সম্মান দিয়ে ইতিহাস পুনরনির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে তাদের মুর্তি স্থাপন থেকে শুরু করে, তাদের অন্যতম নেতার স্মরণে প্রতিবছর পয়লা জানুয়ারী দেশজুড়ে টর্চলাইট মার্চ শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি খবর দেওয়া যাক। রাষ্ট্রপুঞ্জে উত্থাপিত নাৎসীবাদের গ্লোরিফিকেশন, নব-নাৎসীবাদ এবং অন্যান্য বর্ণবিদ্বেষী ধ্যানধারণায় মদত দেওয়ার বিরুদ্ধে আনা রেজুলেশনের বিরোধীতা করে ভোট দেয় দুটি দেশ। একটি ইউক্রেন এবং অপরটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবং এই ধারা পরপর দুই বছর ধরেই চলছে। শুধু সেখানেই শেষ নয়। মার্কিন সরকার রাষ্টপুঞ্জে উত্থাপিত এই রেজুলেশনকে রাশিয়ান কুতথ্য বলেই চালিয়ে আসছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য। ইউক্রেনে নব-নাৎসীদের মদত দেওয়ার অপরাধ ঢাকার উদ্দেশেই বর্তমান রাষ্ট্র প্রধান জেলেনস্কিকে টিভি সিরিয়ালের কৌতুকাভিনয়ের পেশা থেকে তুলে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন ইহুদী কি করে তার শাসনে নব-নাৎসীদের সাথে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। বিশ্বজুড়ে এই প্রশ্ন উঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিরোধী কণ্ঠস্বর ও সত্যকে কণ্ঠরোধ করা ও ধামাচাপা দেওয়ার এই দাওয়াই মার্কিন অপশক্তির অনেকদিনের পুরানো কৌশল। আবার এই জেলনস্কি। রাষ্ট্র পরিচালনার কোন বিদ্যাই যাঁর নাই। রাজনীতি করার কোন অভিজ্ঞতাও যাঁর নাই। মার্কিন স্বার্থের পরবর্তী পর্বে। যে মুহুর্তে তাঁর প্রয়োজন ফুরাবে। তাঁকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে দুই মিনিট দেরি করবে না মার্কিন সরকার। আপাতত মার্কিন অপশক্তির হাতের পুতুল হয়ে ইউক্রেন নাটকে রাষ্ট্র প্রধানের ভুমিকায় নাচতে থাকা ছাড়া ভদ্রলোকের সামনে আর কোন পথ খোলা নাই।


২০১৪ সালে মার্কিনী গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার পরে নতুন সরকারের উপরে নির্দেশ আসে ইউক্রেনের রুশভাষী জনগোষ্ঠীকে কোনঠাসা করার। কিন্তু ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী, রুশভাষী ইউক্রেনবাসীর উপরে নির্যাতন নামিয়ে আনার বিষয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিল না। ফলে দেশে তৈরী করা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি গৃহযুদ্ধ লাগাতে ইউক্রেন সরকার নতুন ভাবে ন্যাশানাল গার্ড নামে একটি ইউনিট তৈরী করে। যাদের দায়িত্বই প্রধানত ছিল রুশভাষী পূর্ব ইউক্রেনে গৃহযুদ্ধ শুরু করার। কুখ্যাত আজভ বাহিনী এই কাজে নব-নাৎসীদেরকে সংগঠিত করে। শুরু হয়ে যায় পূর্ব ইউক্রেনের লুগানস্ক ও ডনেৎস্কের সাথে সরাসরি গৃহযুদ্ধ। যে যুদ্ধে এখণ অব্দি চোদ্দ হাজার রুশভাষী ইউক্রেনিয়ানদের প্রাণ হারাতে হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর তারা একটা যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী। ইউক্রেনের এই গৃহযুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন সরকার প্রতিবছর বিপুল অর্থের জোগান দিয়ে চলেছে। সেই অর্থ রাশিয়ান অভিযানে জলে যাবে। এটা কখনো সহ্য হয়? যদিও ২০১৮ সালে মার্কিন কংগ্রেস অর্থের জোগান বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু তাই বলে জোগান বন্ধ হয়নি।


ইউক্রেনে এই গৃহযুদ্ধ থামানোর জন্য ২০১৫ সালে বেলারুশের রাজধানীতে মিনস্ক চুক্তি সম্পাদিত হয়। যেখানে ইউক্রেনের মার্কিন মদতপুষ্ট সরকার লুগানস্ক ও ডনেৎস্ক অঞ্চলদুটিকে বেশি করে স্বায়াত্তাশাসনের অধিকার দিতে স্বীকৃত হয়। ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে আনতেও রাজি হয়। কিন্তু সব কিছুই কাগজপত্রেই আটকিয়ে রাখে কিয়েভ। উল্টে মার্কিন মদতে নেটো আরও বেশি করে ইউক্রেনে নেটোর প্রভাব বাড়িয়ে চলে। মিনস্ক চুক্তির শর্ত অনুসারে ইউক্রেন জরুরী সংবিধান সংশোধনী করে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোন প্রয়াস আজ অব্দি গ্রহণ করেনি। এটাই বাস্তব। মার্কিনদের লক্ষ্য একটাই। যেভাবেই হোক ইউক্রেনকে ন্যাটোর আওতায় নিয়ে এসে রাশিয়ার সীমান্তে পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার বসিয়ে দেওয়া। ইউক্রেনে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে অস্থির ও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য পরিস্কার। ইউক্রেনবাসীদের সামনে গৃহযুদ্ধের কারণ হিসাবে। লুগানস্ক ও ডনেৎস্ক সহ ডনবাস অঞ্চলে রাশিয়াই গৃহযুদ্ধের মদত দিচ্ছে। এমনই একটা গণচেতনা তৈরী করে তোলা। যাতে দেশজুড়ে রাশিয়া ভীতি তৈরী হয়ে ওঠে। আর তাহলে ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তির দাবি অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠবে। একবার ন্যাটোর সদস্য করে নিতে পারলেই রাশিয়ার সীমান্তে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রাচীর তুলে ঘিরে ফেলা যাবে রাশিয়াকে চিরদিনের মতো। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অগ্নিগর্ভ করে তোলার জন্য, বাইডেন সরকার গত বছর সেই ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যাণ্ড, নব-নাৎসীদের নেতা ওলেহ ট্যাহনিবকের উপরে যাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে, তাঁকে সরকারে ফিরিয়ে নিয়ে আসে আবার। রাশিয়াকে ফাঁদে ফেলার জন্য তারা একটি পরিকল্পনা করে ফেলে। সেই উদ্দেশে সাড়ে ছয়শো মিলিয়ান ডলার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে পাঠানো হয়। ইউক্রেনে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর কার্যক্রম বাড়িয়ে তোলার কাজেই এই অর্থ বরাদ্দ হয়। যদিও তার আগে ২০১৪ সাল থেকে মার্কিন সরকার ইউক্রেনে দুই বিলিয়ানের বেশি অর্থ ঢেলেছিল। ফলে ইউক্রেন সরকার মিনস্ক চুক্তি ভঙ্গ করে গোটা ইউক্রেন ও ক্রিমিয়ায় তাদের পুর্ণ আধিপত্য বিস্তারে উৎসাহী হয়ে ওঠে মার্কিন ও ন্যাটোর সামরিক সাহায্যের উপরে নির্ভর করে। সেই লক্ষ্যে ইউক্রেন যত এগোতে থাকে। রাশিয়াকেও ততই এই সামরিক অভিযানের দিকে অগ্রসর হতে হয়। যেটা একদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য জরুরী। অন্যদিকে গৃহযুদ্ধে বিদ্ধস্ত ডনবাস অঞ্চলের লুগানস্ক ও ডনেৎস্কবাসীর স্বাধীনতার জন্যও অত্যন্ত জরুরী। ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ও নব-নাৎসী সম্প্রদায়ের হাতে তাদের নিরাপত্তার যে আর কোন নিশ্চয়তা নেই। সেটি আজকে জলের মতো পরিস্কার। বাঁচার অধিকার সকলের প্রাথমিক অধিকার। ডনবাসে চলতে থাকা গণহত্যাই ঠিক ছিল। না্কি স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের মতো ডনবাস অঞ্চলের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনই অধিকতর শ্রেয়। সে বিচার পাঠকের উপরে।

৬ই মার্চ’ ২০২২

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত