নেতাজীর বাৎসরিক
ভারতীয় জনপ্রিয় সিনেমার
একটা মূল ধারা হল একজন প্রায় সর্বশক্তিমান হিরো থাকবে। যে একার হাতেই দুষ্টের দমন করবে।
অধিকাংশ সিনেমায় দেখা যাবে পাঁচ থেকে দশজন গুণ্ডাকে সিনেমার হিরো একাই কুপোকাৎ করে
দিচ্ছে। এবং গুণ্ডা বনাম হিরোর লড়াইয়ে প্রথম দিকে অবধারিত ভাবে হিরো মার খেতে থাকবে।
সেই দৃশ্য একেবারে শান্ত মনে নিরুত্তাপ এবং নির্বিকার চিত্তে প্রত্যক্ষ করতে থাকবে
আশেপাশে জমায়েত হওয়া জনতা। একজনও হিরোর পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসবে
না। তারপর হিরো যখন একাই সমস্ত গুণ্ডাদের ধরাশায়ী করে হাত ঝেড়ে উঠে দাঁড়াবে। সমবেত
জনতা হাততালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানিয়ে তাকে বরণ করে নেবে। হ্যাঁ, এই একটি দৃশ্য দেখার
জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতবর্ষের মানুষ সিনেমার টিকিট কাটতে রাজি আছে। ভারতীয়
জনতার এই রুচির বাইরেও নই আমরা বাঙালিরা। বাংলার শহর নগর গঞ্জ জুড়ে ভারতীয় সিনেমার
তুমুল জনপ্রিয়তাই এর প্রমাণ। ঠিক যে কারণে, টালিগঞ্জের সিনেমাকেও এই ফর্মুলা অনুসরণ
করতে হয় বক্স অফিস হিট করানোর লক্ষ্যে।
আমরা বাঙালিরাও ঠিক তেমনই
একজন হিরোর জন্যে বসে ছিলাম। যিনি একাই দেশের ও দেশবাসীর সকল দুঃখমোচন করে আমাদের উদ্ধার
করবেন বলে। বসেছিলাম বললেই সবটা বলা হয় না অবশ্য। এখনও বসেই রয়েছি। আর সেই বসে থাকার
ঐতিহ্যেই প্রতিবছর ২৩শে জানুয়ারী আসলেই আমাদের সকল ভাবাবেগ উথলে ওঠে। আমরা এই দিনটিতে
সকলেই দেশপ্রেমিক হয়ে যাই। দেশের মঙ্গলের জন্য নেতাজীর ফিরে আসার কতটা দরকার ছিল। সেই
বিষয়ে আমাদের জ্ঞান টনটনে হয়ে ওঠে। অনেকটা ভাদ্রমাসে জামাকাপড় রোদে দেওয়ার মতো। আমরা
২৩শে জানুয়ারী আসলেই দেশের কথা দশের কথা চিন্তা করতে বসে যাই। আর দুঃখ করতে থাকি। মানুষটা
এমন ভাবে হারিয়ে না গেলে। মানুষটা তাঁর আজাদহিন্দ বাহিনী নিয়ে মনিপুর থেকে ফিরে যেতে
বাধ্য না হলে। একবার দিল্লী অব্দি পৌঁছিয়ে গেলে ভারতবর্ষের ভাগ্য বদলিয়ে যেত। ঠিক ভারতীয়
জনপ্রিয় সিনেমার মূলধারার হিরোদের মতো নেতাজী একাই গোটা দেশ থেকে দেশবিরোধী সকল শক্তিকে
দেশছাড়া করে ছাড়তেন মনে করে আমরা নেতাজীর প্রেমে বিভোর হয়ে উঠি। এবং ঠিক সেই জনপ্রিয়
সিনেমার মূলধারার ফর্মুলার মতোই আমরা নির্বিকার নিরুত্তাপ চিত্তে প্রতিদিন প্রত্যক্ষ
করতে থাকি স্বাধীনতার আট দশক ধরে দেশটা কিভাবে লুঠেরাদের কব্জায় চলে যাচ্ছে। আমরা নির্বিকার
চিত্তে প্রত্যক্ষ করতে থাকি প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদদের ভিতরে খুন
জখম রাহাজানি ধর্ষণ চিটিংবাজি ইত্যাদি নানাবিধ ফৌজদারী অপরাধে বিচারাধীন ব্যক্তিদের
সংখ্যা কিভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আইনসভায় বসে আইনভঙ্গকারীদের হাতেই আমাদের জন্য আইন
তৈরী হয়ে চলেছে। আমরা হাতগুটিয়ে বসে রয়েছি। আর ২৩ জানুয়ারীর মতো এক একটি দিন বছরভর
ঘুরে আসলেই। আমরা ভাবতে বসে যাই। নেতাজী একবার ফিরে আসলেই। এই সমস্ত অন্ধকার। অন্যায়
অবিচার দূর করে দিতেন। নেতাজীর উপরে আমাদের এমনই অগাধ বিশ্বাস। আর নিজেদের সম্বন্ধে
আমাদের ভিতরে এমনই অসীম অবজ্ঞা। কেননা আমরা জেনে গিয়েছি। বছর বছর রাজনীতিতে দাগী অপরাধীদের
সংখ্যার বৃদ্ধি ঠেকানোর উপায় আমাদের হাতে নেই। তাই আমরা ২৩শে জানুয়ারীর মতো দিন আসলেই
নেতাজীর মতো একজন হিরোর বন্দনায় মেতে উঠি। আর বাকি ৩৬৪ দিন আমাদের চারপাশের রাজনীতির
দুর্বৃত্তায়নকে সামজ বাস্তবতা বলে মেনে নিয়ে, সেই সকল দুর্বৃত্তদের গুডবুকে থাকার লক্ষ্যে
বুদ্ধিতে শান দিতে থাকি।
ঠিক যে কারণে টিভির পর্দা
জুড়ে নেতা মন্ত্রীদের নিজের হাতে তোয়ালে মুড়ে কালো টাকা বেআইনী ভাবে গ্রহণ করতে দেখেও
আমরা নির্বিকার চিত্তে নির্বাচনের পর নির্বাচনে তাদেরকেই বিপুল ভোটে জিতিয়ে ফিরিয়ে
নিয়ে আসি ক্ষমতার মসনদে। আর সেই জয়ের উৎসব উদযাপন করি আবীর খেলে। ঢোল বাজিয়ে। রাস্তা
অবরোধ করে বিজয় মিছিল বার করে। নির্বাচনের পর নির্বাচনে একজন সম্পূ্র্ণ ধোঁকাবাজ নেতার
নামে জয়ধ্বনি দিয়ে তার প্রতিটি মিথ্যে প্রতিশ্রুতিকে বেমালুম হজম করে নিয়ে তার হাতেই
গোটা দেশের ভার তুলে দিয়ে নির্বিকার নিরুত্তাপ চিত্তে বসে থাকি। না, তাই বলে আমাদের
ব্যাংকে পনেরো লক্ষ কেন পনেরো পয়সাও ঢোকে নি। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২ কোটি কেন ২ লক্ষ
বেকার যুবকযুবতীরও সরকারী চাকরি জোটেনি। উল্টে সরকারী কর্মীদের বহুজনের চাকরি চলে গিয়েছে।
পেট্রলের দাম ৩৫ টাকা হয়নি। একশ পার করে দিয়েছে। রান্নার গ্যাস হাজারের কাছে। ব্যংক
ব্যালেন্সের উপরে সুদের হার কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় পৌঁছানোর দিকে এগিয়ে চলেছে। তাতে
কি। আমরা বেশ হাত গুটিয়ে ভাত ঘুম দিয়ে চলেছি।
সেই ভাতঘুম দেওয়া বাঙালির
জীবনেও একটা ২৩শে জানুয়ারী আসে। ঘুরেফিরে প্রতি বছরে। ধুলো ঝেড়ে নেতাজীর একটা ছবি বার
করতে হয়। পাড়ার মোরে মোরে চেয়ারে সাজিয়ে মাল্যদান করে আমরা দুচারটি বড়ো বড়ো কথা বলি।
দেশভক্তি’র কথা। শৌর্য্য বীর্য্যের কথা। নেতাজীর কথা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতাজীর মতাদর্শে
উদ্বুদ্ধ করে তোলার কথা। ইত্যাদি ইত্যাদি। সকাল গড়িয়ে দুপুরের চানের সময় আসলেই আমাদের
দেশভক্তি নেতাজীপ্রেম ধুয়ে নিয়ে আমরা আবার ভাতঘুম মোডে চলে যাই। না, আমরা কেউই আসলে
নেতাজীকে অনুসরণে রাজি নই। আমরা অন্যকে পরামর্শ দিতে পারি। নেতাজীকে অনুসরণ করার কথা
বলে। কিন্তু আমরা নিজেরাও যেমন নেতাজীর জীবন ও কর্মের, মত ও আদর্শের কোন কিছুই অননুসরণ
করিনি। তেমনই আমরা কেউই চাই না। আমাদের নিজেদের সন্তানসন্ততি কেউ নেতাজীর মত ও আদর্শে
অনুপ্রাণিত হয়ে উঠুক। তার কর্মজীবনকে অনুসরণ করুক। আমরা যেমন যে যেভাবে পেরেছি। নিজেদের
আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঠিক তেমনই আমাদের সন্তানসন্ততিও যেন সেই ভাবেই নিজেদের
আখের গুছিয়ে নিতে পারে। আমাদের সদাসতর্ক নজর সেই দিকেই ক্রিয়াশীল থাকে বরাবর। প্রতটিদিন।
শুধুমাত্র ২৩শে জানুয়ারী আসলেই অন্তত একটি বেলার জন্য হলেও আমরা নেতাজীভক্ত হয়ে উঠি।
এটি অনেকটই আমাদের মৃত পিতামাতার বাৎসরিক পালনের মতো একটি আচার বা সংস্কারে দাঁড়িয়ে
গিয়েছে। প্রতিবছরই নেতাজীর বাৎসরিক। যেহেতু তাঁর মৃত্যুদিন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই
২৩শে জানুয়ারীই আমাদের হাতে তাঁর বাৎসরিক পালিত হয়ে আসছে বরাবর।
ভাবতে অবাক লাগে নেতাজী
এমন একটি দেশে জন্মেছিলেন বলে। শুধু নেতাজীই নন। রামমোহন বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে।
বাঙালির নবজাগরণের কুশীলবেরা। নেতাজী যে ধারার শেষ প্রতিনিধি। তাঁদের জীবন ও কর্মের
প্রতিফলন আমাদের বাঙালির জাতীয় জীবনে এমনই চমৎকার ভাবে ফলেছে যে, তাঁদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র
জন্ম ও মৃত্যুতিথির দিনেই সীমাবদ্ধ। গোটা জাতিই চলছে ঘুষ আর ঘুষির পিছনে। হয় ঘুষ দিয়ে
কার্ষসিদ্ধি করে নিতে হবে। আর নাহলে ঘুষি বাগিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নিতে হবে।
ব্যক্তি স্বার্থ, পারিবারিক স্বার্থ। গোষ্ঠী স্বার্থ, সাম্প্রদায়িক স্বার্থ। অর্থনৈতিক
আর রাজনৈতিক স্বার্থ। এসবের বাইরে আমরা নেই। আর এইসব স্বার্থের বৃত্তে দুইটি মাত্র
পথ। একটি পথ ঘুষের। আর একটি পথ ঘুষির। এর বাইরে কোন পথ নেই। রাখিনি আমরা। নেতাজীর দেখানো
পথ। সমাজের স্বার্থ। দশের স্বার্থ। দেশের স্বার্থের ধার ধারার মতো মানুষ নই আমরা। ফলে
আমাদের জীবনে আসলেই নেতাজী’র কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু তার ভিতরেও সেই ঘুষ আর ঘুষির
পথে অনেকেই যখন নিজ নিজ স্বার্থ হাসিল করতে পারে না। সেই ব্যর্থকাম মানুষের চেতনায়
তখন নেতাজীর মতো একজন হিরোর দরকার হয়। যিনি ফিরে এসে সম্পূর্ণ একার হাতেই দুষ্টের দমন
আর শিষ্টের পালন করবেন।
জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিকের
মতো। ঠিক মত আখের ঘুছিয়ে না নিতে পারার দুঃখে পরাভুত মানসিকতায় তখন আমরা অপেক্ষা করতে
থাকি। একজন নেতাজীর স্বপ্নে। না, দেশপ্রেমে নয়। দেশের মানুষের স্বার্থের কথা ভেবে নয়।
নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াতেই আমরা তখন কল্পনা করতে থাকি। নেতাজী থাকলে
আর ঘুষ আর ঘুষির চক্রব্যূহে আটকা পড়ে জীবনটা ব্যর্থ হতো না। সমাজের কথা দেশের কথা দশের
কথা ভেবে আমাদের কল্পনায় নেতাজী আসেন না। তিনি আমাদের কল্পনায় ঠিক তখনই আসেন। যখন আমরা
ঘুষ আর ঘুষির পথদুটিতে সাফল্যের সাথে পা রাখতে ব্যর্থ হই। তার আগে নয়। যতক্ষণ ঘুষ দিয়ে
আর ঘুষি বাগিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। ততক্ষণ নেতাজী’র কথা স্মরণে
আসে না আমাদের। স্মরণে আসে ঘুষ আর ঘুষি’র মেকানিজম যখন নিজের জীবনে ঠিক মত কাজ করতে
থাকে না। তারপর। তখন মনে হয়। নেতাজীর মতো একজন থাকলে। দেশ থেকে দুর্নীতি হটিয়ে দিলে
আমার ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা হতে পারতো।
ফলে প্রতিদিন চারপাশে
ঘটে চলা কোন দুর্নীতিই আমাদের আর বিচলিত করে না। দুর্নীতির প্রসাদভোগীদের কথা নয়। দুর্নীতির
প্রসাদবঞ্চিতদের কথাই বলছি আমরা। সেই বঞ্চিত জনতা তখন অপেক্ষায় থাকে একজন হিরোর আগমনের
জন্য। বাঙালি হিসেবেও আমরা তেমনই একজন হিরোর আগমনের প্রত্যাশায় বসে ছিলাম শতকের পর
শতক। নেতাজী আমাদের স্বপ্নের সেই হিরোর জায়গাটা দখল করে বসেছিলেন। তাঁর মৃত্য নিয়ে
যাবতীয় বিতর্ক এবং মানুষটার অন্তিম ইতিহাস জানতে না পারায়। সেই হিরোর জায়গাটা আজ প্রায়
কিংবদন্তী হয়ে উঠেছে। সেখান থেকে তাঁকে টেনে নামানো সহজ কথা নয়। অন্তত যতদিন তাঁর মৃত্যু
ও শেষ পরিণতি রহস্যাবৃত রয়ে থেকে যাবে। আমাদের জীবনে কিংবদন্তীরও বিশেষ দরকার রয়েছে।
প্রতিদিনের দুঃখ কষ্টগুলি যন্ত্রণার তাপে দগ্ধ হতে হতে বিপ্লবের আগুন হয়ে যাতে জ্বলে
উঠতে না পারে। তার জন্যেই কিংবদন্তীর দরকার। তাই নেতাজীকেও কিংবদন্তী বানিয়ে রাখার
দায় রয়েছে বইকি। সেই দায় থাকে শাসকশ্রেণীর। তাই তারা আমাদের কাছে কিংবদন্তী স্বরূপ
নেতাজীর উপস্থিতিকেও সেই ২৩শে জানুয়ারীতেই আটকিয়ে রেখেছে। যে কাজ ব্যক্তিস্বার্থের
আখের গোছানোর প্রকৃতি থেকে আমরা প্রথমেই করে রেখে দিয়েছি। এই একটি জায়গায় শাসক ও জনতা।
দুইয়ের স্বার্থ এক হয়ে মিশে গিয়েছে ২৩শে জানুয়ারীতে এসে।
২৩শে জানুয়ারী তাই নেতাজীকে ভুলে থাকার স্মরণ বার্ষিকীও বটে। বছরে এই একটি দিনে আমাদের অন্তত স্মরণে আসে। আমরা মানুষটিকে বিস্মৃতির পরপারে ফেলে রেখে দিই বছরের বাকি ৩৬৪ দিন। সেই দিনগুলি আমাদের। কাকে কখন তেল দিতে হবে। কবে কোথায় কার পদলেহন করতে হবে। কাদের উপরে চোখ রাঙাতে হবে। কাকে কখন কিভাবে পিছন থেকে ল্যাং মেরে ফেলে দিতে হবে। কাকে কাকে ধরে উপরে ওঠার মইয়ে পা রাখতে হবে। মইয়ের প্রয়োজন ফুরালে ঠিক কোন টাইমে সেই মই ঠেলে ফেলে দিতে হবে। কিভাবে শাসকের গুডবুকে নিজের নাম তোলাতে হবে। আর ভোটের হাওয়া বুঝে শিবির বদলাতে হবে। এই সকল বিদ্যা অর্জন করতে না পারলে, এই দেশ এই সমাজে কোথাও কোন কল্কে পাওয়া যাবে না। তখন সত্যি করেই কাপল চাপড়ানোর সময়। যে সময়ে মানুষ নেতাজীর মতো এক আধটা হিরোর কল্পনা করতে পারে। যে একাই একশ হয়ে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করবে। ২৩শে জানুয়ারী সেই কল্পনার ভ্যালিডিটি রিনিউ করে নেওয়ারও দিন বটে। শাসকশ্রেণীও জানে এই ভ্যালিডিটি রিনিউ করার উপরেই গণবিপ্লব সংগঠনের নোটে গাছটি মুড়ানোর পালা নির্ভরশীল। জনপ্রিয় ভারতীয় সিনেমার সেই ধারার মতো। চোখের সামনে গুরুতর অন্যায় সংঘটিত হতে দেখলেও। জনতা নিশ্চুপে নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকবে। সিনেমার হিরোর গ্র্যাণ্ড এন্ট্রির জন্য। জনতাকে নির্বিকার চিত্তে দাঁড় করিয়ে রাখার সিলেবাসে আটকিয়ে রাখার জন্য শাসকশ্রেণীরও তাই একটা আধটা ২৩শে জানুয়ারীর বিশেষ প্রয়োজন থাকে। তাই শাসকশ্রেণীও ২৩শে জানুয়ারী পালনে মাল্যদান করবে বইকি। বছরের পর বছর। পাথরের নেতাজীই হোক। আর হাতে আঁকা নেতাজীই হোক। কিংবা নেতাজীর ঐতিহাসিক ছবিতেই হোক। মানুষ নেতাজী তো কবেই সাইজ হয়ে গিয়েছে। শাসকশ্রেণীর হাতে এখন গোটা ভারতবর্ষ। আর নির্বিকার চিত্তের ভারতবাসী। মাঝখানে একটা ২৩শে জানুয়ারী।
২৩শে জানুয়ারী’ ২০২২
কপিরাইট শ্রীশুভ্র
কর্তৃক সংরক্ষিত

