মা মাটি মানুষ
মা
মাটি মানুষ। পরিবর্তনের রথের চাকায় দুই বছর পার করার মুহূর্ত্তে সারদা ম্যাজিক।
সেই মা মাটি মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চিত অর্থ; টাকা মাটি মাটি টাকা মন্ত্রে সত্যিই
মাটি হয়ে গিয়েছে। বাস্তববাদী পোড় খাওয়া রাজনীতিবীদ আজীবনের লড়াকু আপোষহীন সংগ্রামী
মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তার সততার পরিচয় রেখে সত্যই বলেছেন , যা
গেছে গেছে....। খুবই সত্যি। যা গেছে অর্থাৎ সেই কমবেশি বাইশ হাজার কোটি টাকা তো আর
ফিরে আসবে না। এ তো পি সি সরকারের ম্যাজিক নয় যে, যা ভ্যানিশ
হয়, তাই আবার পুরোপুরি মঞ্চে ফিরে আসবে? এ রাজনৈতিক মঞ্চ। এখানে ভ্যানিশটাই বাস্তব। কমিশন বসিয়ে হারানো প্রাপ্তিটা
নয়। তবু কমিশন বসেছে। মা মাটি মানুষের রাজত্বে। পরিবর্তনের দুই বছরেই এইভাবে
সর্বস্বান্ত হতে হবে এটা হয়ত মা মাটি মানুষের সরকারে বিশ্বাস করে ভরসা করা বিপুল
সংখ্যক মানুষের কল্পনাতেও আসেনি। কিন্তু সেই সরকারেরই হেভিওয়েট রাজনীতিবীদ
সোমেনবাবু অনেক আগেই সরকারকে সাবধান বাণী শুনিয়েছিলেন, রাজ্যে
মৃত্যু মিছিল শুরু হয়ে যাবে বলে। বারবার সাবধান করার চেষ্টা করে গিয়েছেন বামফ্রন্ট
নেতৃত্ব। কিন্তু তবু যে মুখ্যমন্ত্রীকে পয়েলা বৈশাখের সকালে "তারা
মিউজিক"কে কাঁদতে দেখে চিট ফাণ্ডের মোহিনী মায়ার ফাঁদের কথা জানতে হল সেটা
জেনে রাজ্যবাসী যথেষ্ট অস্বস্তিতে। রাজ্যবাসীর এই অস্বস্তি ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছাল
সুদীপ্ত দেবযানী গ্রেফ্তার নাটকের পর্ব থেকে পর্বান্তরে। যা গেছে তা গেছে। তবু
কমিশন বসেছে। জনগন কি পরিবর্তনের স্বরূপটা বুঝেছে? হাওড়ার
উপনির্বাচনের ফলাফল দেখে বোঝা যায় কিছু মানুষের অন্তত সম্বিত ফিরেছে। হ্যাঁ এটা
নিশ্চিত, কিছু মানুষের এই সম্বিত ফেরায় তৃণমূল নেতুত্ব
যথেষ্ট সচকিত। আর সেটা উপনির্বাচনের অনেক আগে থেকেই পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র
করে কমিশন ও রাজ্য সরকারের বাকবিতণ্ডায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যার আতঙ্কিত বিস্ফোরণ
ঘটে গেল অনুব্রত মণ্ডলের দেওয়া ফতোয়ায়। পঞ্চায়েত নির্বাচনে শত্রু সিপিএম
কংগ্রেসেকে মনোনয়ন পত্র জমা না দিতে দেওয়ার বিষয়ে। বাম আমলে ২০০৮এ পঞ্চায়েত
নির্বাচনের সাফল্যের ওপর নির্ভরতা যে ক্রমহ্রাসমান সেটা তৃণমূল নেতৃত্বের মুখভঙ্গী
থেকে স্পষ্ট।
রাজ্য
সরকার যে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে রাজ্যবাসীর সাথে একটু লুকোচুরি খেলতে চাইছেন, সেটা গত ২১শে
জুলাইয়ের জমায়েতে বোঝা না গেলেও এখন অনেকের কাছেই স্পষ্ট। পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে
সন্ত্রস্ত তৃণমূল নেতৃত্ব ভোটের আগেই বিপক্ষ শিবিরে ত্রাস ছড়িয়ে দিতে মরিয়া কেন
সেটা বুঝতে গেলে গ্রাম বাংলার গত পাঁচ বছরের পঞ্চায়েতের সাফল্য ব্যর্থতার হিসেবটা
জানতে হবে। যেটা আমাদের নাগরিক পরিসরে সহজসাধ্য নয়। কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব যে সেই
খতিয়ানের বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল সেটা অনুব্রত মণ্ডলের ফোতোয়াতেই স্পষ্ট। এবং
নির্বাচনের প্রথম পর্বের মনোনয়নপত্র জমাদেওয়ার পর্বেই যে হিংসার সূত্রপাত হল,
তাতেই তৃণমূল নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসের অভাবটা স্পষ্ট।
রাজ্য
সরকারের কর্মকাণ্ডে সরকারী দলের এই আত্মবিশ্বাসের অভাব সেই কার্টুন কাণ্ড, পার্কস্ট্রীট
কাণ্ড থেকেই স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজবাসীর
আশীর্বাদধন্য এই সরকার সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দিশাহীন ছুটে চলেছে। সম্পূর্ণ এক
ব্যক্তির দল হওয়াতে কোনো সাংগঠনিক পরিকাঠামো এবং দায়বদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি দলীয়
কর্মসংস্কৃতিতে। যার ফলে একদিকে দলের ভিতরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অন্যদিকে
ব্যক্তিগত ভাবে দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে খুশি করে কাছে পৌঁছানোর ইদুঁর দৌড়ে
ব্যাতিব্যস্ত তৃণমূলের অন্দরমহল। দলীয় নেতৃত্বের সকলস্তরেই যেন একটা অস্থিরতা,
সরকার থাকতে থাকতে নিজের খুঁটিটা যত বেশি পাকাপোক্ত করা যায়। স্বভাবতই এই অবস্থায় দলীয় নেতৃত্বের সকল স্তরেই
নিজের নিজের আখের গুছিয়ে নেবার তাগিদে এক তীব্র অস্থিরতার সৃষ্টি হওয়ার কথা। আর
সেই কারণেই সমাজবিরোধীরা অতি সহজেই নীচু তলার নেতৃত্বের হাত ধরে আভ্যন্তরীন
গোষ্ঠীগুলির সম্পদ হয়ে উঠতে থাকে। আর তখনই জনগণ থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হতে থাকে দল।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়,
অবস্থা ক্রমশই জটিল করে তুলেছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে যত্রতত্র।
বিপুল জনপ্রিয়তার ভোটব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে এখনই এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
না আনতে পারলে, অচিরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে
জনপ্রিয়তার সুউচ্চ মিনার।
মা
মাটি মানুষের স্লোগানের ভিত্তিই ছিল পরিবর্তনের প্রত্যয়ী শপথ। মানুষ বিশ্বাস করছিল
বামফ্রন্টের শেষ পর্বের অপশাসন থেকে মুক্ত হয়ে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে
আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। ব্যক্তি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলি সুরক্ষিত হবে। অথচ
কার্টুন কাণ্ডে মানুষে র স্বপ্নভঙ্গ হল। মানুষ ভেবেছিল প্রশাসন দলতন্ত্র মুক্ত
হবে। অথচ রায়গঞ্জ ও মাজদিয়া কলেজের ঘটনায় প্রশাসনের দুই ভিন্ন মুখ দেখে স্তম্ভিত
হল রাজ্যবাসী। প্রশাসনের শীর্ষব্যক্তিত্ব একজন লড়াকু নারী বলে, রাজ্যে
মহিলাদের অবস্থার উন্নতির আশা করেছিল মানুষ। অথচ এরাজ্যে নারীই আজ সবচেয়ে বেশি
বিপদগ্রস্ত পথেঘাটে। সবচেয়ে পরিতাপের কথা,
যে পশ্চিমবঙ্গকে ট্যুরিজিম মানচিত্রে এক নম্বর দর্শনীয় স্থান হিসেবে
গড়ে তোলার শপথ ছিল, সেই পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতবর্ষের এক নম্বর
ধর্ষনীয় স্থান হয়ে উঠছে। এবং রাজ্যনেতৃত্ব এই ব্যাপারে ক্ষতিপূরণের বিভিন্ন স্কেল
ঘোষনা করেই দায়িত্ব সারতে তৎপর। গ্রামবাংলা থেকে শহর নগরের গলিপথ থেকে রাজপথ
মহিলাদের কাছে আতঙ্কসরূপ হয়ে উঠেছে। সমাজবিরোধীদের দৌড়াত্ম বৃদ্ধির বড়ো কারণ
প্রশাসনের উপর দলতন্ত্রের প্রভুত্ব। আর এই সত্যটা কার্টুন বিতর্ক থেকেই প্রকট। ফলে
দুস্কৃতীদের কাছে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রোমটার রাজ সিণ্ডিকেট
দৌরাত্ম থেকে শুরু করে এলাকা দখলের রাজনৈতিক লড়াইয়ে সর্বত্র একই চিত্র। পরিবর্তনের
শপথের অন্যতম শর্তই ছিল দলতন্ত্রমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন। অথচ পরিবর্তনের মাত্র দুই
বছরেই সেই শপথের হয়েছে অকালমৃত্যু। আর এই বিষয়ে রাজ্যপুলিশের ভাবমূর্ত্তী দিনে
দিনে তলানিতে। যার শুরু হয়েছিল পার্কস্ট্রীট ও কার্টুন কাণ্ডের মধ্যে দিয়ে।
বামফ্রণ্ট আমলে যে পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় ক্যাডার বাহিনীর অনুমতি ছাড়া ফাইল নাড়াতে
পারতো না, আজ তারাই তৃণমূল নেতৃত্বের তর্জনী অনুসরণ করে
চলেছে। পরিবর্তন হয়েছে ঠিক এইখানেই। প্রশাসনের প্রভুত্বের হাতবদল হয়েছে মাত্র।
পরিবর্তনের মুখোশের আড়ালে এইটাই পরিবর্তনের আসল মুখ। আর এই মুখোশ সরে মুখের আদল যত
প্রকাশিত হচ্ছে, তৃণমূল নেতৃত্ব ততই আত্মপ্রত্যয় হারিয়ে
সন্ত্রস্ত হয়ে উঠছ।
রাজ্যের
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে পরিবর্তনের মুখোশের আড়ালে পরিবর্তনের মুখ কেবলই প্রকাশিত হয়
পড়ছে। সারদা কেলেঙ্কারির পর আজ অব্দি রাজ্য সরকারের সারদার বিরুদ্ধে এফআইআর না করা, সিবিআইএর হাতে
তদন্ত ভার তুলে না দেওয়া, এবং চিটফাণ্ড সংক্রান্ত
অর্ডিন্যান্স বিলকে বিলম্বিত করে দেওয়ার প্রয়াসের মধ্যেই স্পষ্ট; সারদা কেলেঙ্কারীর অন্তরালে থাকা কুশীলবদের আড়াল করা, এবং হাতসাফাই হওয়া বাইশ হাজার কোটি টাকা দিনের আলোর অন্তরালেই লুকিয়ে
রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াস। এই যদি মা মাটি মানুষের সরকারের স্বরূপ হয়, তবে তার ফল যে পঞ্চায়েতের ব্যলটে পড়তে পারে, সে কথা
ভেবেই আতঙ্কিত সরকারী দল মনোনয়নপত্র জমা দিতে আতঙ্ক সৃষ্টির পথ নিয়েছে।
বদলা
নয় বদল চাই স্লোগান যে স্লোগান সর্বস্ব ক্যাচওয়ার্ডেই রয়ে গেল, সে বিষয়ে
দলীয়নেতৃত্ব মোটেই চিন্তিত নয়। তাদের চিন্তা বিরোধী পক্ষের নীচুতলার
কর্মীসমর্থকদের মধ্যে রীতিমতো ভীতি ও ত্রাসের সঞ্চার করে নিরঙ্কুশ জমি দখল করা।
এবং সে বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব অনেকাংশেই সফল। কিন্তু এইবিষয়ে ভূতপূর্ব বাম আমলের
সিপিএম ক্যাডার বাহিনীর যে সুশিক্ষিত সাংগঠনিক দলীয় সংহতিজনিত রাজনৈতিক রণকৌশল ছিল,
তৃণমূলের তা না থাকার কারণে পরিবর্তনের মুখোশ অটুট রাখা সম্ভব হচ্ছে
না। মুশকিলটা এখানেই। এর সাথে সাংগঠনিক দূর্বলতায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রাজ্যের শান্তি
শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত করে চলেছে। ফলে মানুষের মোহভঙ্গ হতে শুরু হয়েছে একটু একটু করে।
একথা অনস্বীকার্য, সামান্য হলেও, হাওড়া
উপনির্বাচনের ফলাফলে এই মোহভঙ্গের একটা স্পষ্ট প্রতিফলন পড়েছে। এখন দেখার এই
হাওয়াটাকে বামফ্রন্ট কতটা কাজে লাগাতে পারবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। মনে রাখতে হবে
সারদাগোষ্ঠীর সাথে তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বের একটা প্রধানতম অংশের ঘনিষ্ঠ যোগসাজগের
উপর ভরসা করেই অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সর্বস্ব সারদায় আমানত করে ছিলেন। তাদের কাছে
কিন্তু পরিবর্তনের মোহভঙ্গ হওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বামফ্রন্ট নেতৃত্ব এই অবস্থা থেকে প্রতারিত মানুষগুলিকে রক্ষা করার দাবীকে
একটা গণ আন্দোলনের রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তখনই সন্দেহ হয় চিটফাণ্ডের গুড়
বামফ্রন্টের পার্টিফাণ্ডেও একটুআধটু লেগে নেই তো?
বাম
ফ্রন্টের এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও স্বস্তিতে নেই তৃণমূল। দলের অভ্যন্তরে অন্তরকলহ, মাঠ পর্যায়ে
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুস্কৃতীদের সাথে নেতাদের প্রকাশ্য যোগাযোগ
রাজ্যবাসীর চোখে তৃণমূলের স্বরূপ ক্রমেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আর এখানেই অবাক করে
দিচ্ছেন সেই পরিবর্তনকামী বুদ্ধিজীবী মহল। বাম অপশাসনের বিরুদ্ধে যারা যথার্থ
কারণেই সেদিন পথে নেমেছিলেন নাগরিক দায়িত্ববোধে; আজ তারাই
রাজ্য জুড়ে অন্যায় অবিচারে মুখে কুলুপ এঁটে যে যার নিজের জায়গায় অবিচল। এখানেই সফল
মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। পুরস্কার থেকে সরকারী পদ, সম্মান থেকে
উপঢৌকন দিয়ে বুদ্ধিজীবীমহলকে নিজের গ্রীণরুমে বসিয়ে রাখতে পেরেছেন তিনি অনায়াস
দক্ষতায়। বামজামানার শেষ পর্বে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে এই পরিবর্তনকামী
বুদ্ধিজীবীরাই বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদেরকে সরকারীদলের তল্পি বহনের জন্য দোষারপ
করতেন। সেই অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে আজো বিতর্ক নাই, কিন্তু
আজ যখন পরিবর্তনের ফানুস ফেটে যাচ্ছে, রাজ্য জুড়ে আইন
শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতিতে সহিংস নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সর্বত্র; মানুষের মৌলিক অধিকার আহত হচ্ছে, প্রশাসনের উপর
সরকারী দলের প্রচ্ছন্ন প্রভুত্ব স্পষ্ট অনুভুত হচ্ছে দুর্নীতির লাগামছাড়া দৌরাত্ম
মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে, চিটফাণ্ডের জাদুতে লক্ষ লক্ষ
লোক পথে বসেছে, নারী নির্যাতনে পশ্চিমবঙ্গ দেশে শীর্ষস্থানে
উঠে এসেছে, তখন তাদের নীরবতা লজ্জাস্কর।
বুদ্ধিজীবীদের
এই নৈতিক দেউলিয়া অবস্থান তৃণমূল নেতৃত্বকে অনেকটা স্বস্তিতে রাখলেও জনগণের ব্যালট
যে স্বাধীন চিন্তা করতে পারে সেটা আশঙ্কা করেই আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে
মনোনয়নপত্র জমা দেবার সময় বিরোধী প্রার্থীদের সন্ত্রস্ত করে প্রথম দফাতেই প্রায়
সাড়ে ছয় হাজার আসনে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে রেকর্ড করেছে। এই হল
বদলা নয় বদল চাইয়ের সরূপ। মধ্যেখান থেকে মা মাটি মানুষের বাইশ হাজার কোটি টাকার
ভ্যানিশিং ম্যাজিকে যারা আজ পথে বসলেন তাদের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলই কোনো আশার আলো
হাতে এগিয়ে না এসে পরস্পর দোষারপে নিজের নিজের মুখ রক্ষায় ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে
দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসী আজ সত্যিই দিশাহারা। ৩৪ বছরে সমাজের সর্বস্তরে, সরকারের সমস্ত
দপ্তরে বামফ্রন্ট তথা সিপিআইএম দলতন্ত্রের একটা প্রচ্ছন্ন নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল।
তিনদশকের রাজত্ব দলতন্ত্রের এই সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণেই সম্ভব হয়েছিল। তৃণমূল
ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে বামফ্রন্ট যে নিয়ন্ত্রণ তিনদশক ধরে গড়ে তুলেছিল সুদৃঢ়
সাংগঠনিক দক্ষতায়, সেই একই দলীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায়
রাজ্যবাসীকে বেঁধে ফেলতে চাইছে মাত্র দুই বছরের সময়সীমায়। গণ্ডগোলটা এখানেই। আর
ঠিক সেই কারণেই পেশীশক্তির আস্ফালনের এমন খোলা প্রদর্শন চলছে সর্বত্র। পরিবর্তনের
এহেন পরিণতি থেকে রাজ্যবাসীকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র রাজ্যবাসীই। এখন অপেক্ষা
সেই পরিবর্তন আসতে আর কত দেরী?
কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

