রথে ছিল পথে নেই লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রথে ছিল পথে নেই লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রথে ছিল পথে নেই

 

এই ছিল এই নেই। রোড শো তে ছিল কিন্তু পথে নেই। মঞ্চের উপরে মানুষের সামনে ছিল। কিন্তু বিপদের সময় কোন মানুষের পাশে নেই। প্রেস কনফারেন্সে ছিল। কিন্তু ত্রাণে নেই। প্রতিশ্রুতিতে ছিল। কিন্তু কাজে নেই। ভোটের আগে ছিল। ভোটের পরে ভ্যানিশ। ভ্যানিশ কারণ এখন করোনা। এখন সাইক্লোন। এখন অক্সিজেনের অভাব। এখন ত্রাণের অভাব। এখন ভোট শেষ। এখন কাজও শেষ। হ্যাঁ তারা সুনার বাঙ্গাল গড়তে এসেছিল। গরুর দুধের সোনা দিয়ে কিনা জানা যায় না। কিন্তু অক্সিজেনের অভাবে মানুষের কাছে অক্সিজেন এগিয়ে দেওয়ার সময় তাদের টিকির দেখা নেই। দেখার কথাও ছিল না। তাদের কাজ রোড শো করা। বাবুরা বিবিরা চার চাকার গেরুয়া রথে চড়ে ফুলের মালা গলায় দুলিয়ে হাত নাড়তে নাড়তে এগিয়ে যাবেন। আর তাদের পায়ের নীচে রথের সামনে পিছনে ভোটারের পাল পায়ে হেঁটে তাদের নামে জয়ধ্বনি দিতে দিতে অনুসরণ করতে থাকবে। এমনটাই হওয়ার কথা। এমনটাই হয়েছিল। কিন্তু করোনাকালে মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য কোন গেরুয়া রথ নেই। থাকার কথাও ছিল না। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকা রুগীর বাড়িতে একটা অক্সিজেন সিলিণ্ডার পৌঁছিয়ে দিতে সেই হাত নাড়া বাবু বিবিদের পাওয়া যায় নি। যাওয়ার কথাও ছিল না। নির্বাচনী গরম বক্তৃতায় মানুষের জন্য তাদের কত চিন্তা। সাইক্লোনে বিদ্ধস্ত বিপর্যস্তদের জন্য তাদের কোন ভাবনা নেই। তাদের কাজ ভোট দখল করা। তাদের কাজ মানুষের ভালো করা নয়। তাদের কাজ ক্ষমতায় পৌঁছানো। তাদের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছানো নয়। তারা ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মানুষের বিপদে মানুষের পাশে থাকার দায় তাদের নেই। তারা রাজনীতিবিদ। তারা সাংসদ বিধায়ক হতে চান। তারা মানুষের বন্ধু হতে চান না। তারা ভোটারের প্রভু হয়ে ক্ষমতায় বসতে চান। ভোটারের প্রতিনিধি হয়ে জনতার সেবা করতে চান না। লক্ষ্য তাদের স্থির। ক্ষমতার দখল। রাজকোষের দখল। প্রতিটি রাজনৈতিক শিবিরই এই এক লক্ষ্যে অবিচল। তাই তারা কোন ব্যতিক্রম নন। কিন্তু তারা সুনার বাঙ্গাল উপহার দেবার ঘোষণা দিয়েছিল। তাই বিপর্যস্ত বাংলায় আর তাদের দেখা নেই।


প্রচারের বাণী ছিল আর নয় অন্যায়। জনগণকে নিজেদের দলের ভোটার বানানো একটা রাজনৈতিক কার্যক্রম। তারা সেটা পেরেওছে। আটত্রিশ শতাংশ জনগণ আজ কিন্তু তাদের ভোটার। অন্ধভক্ত। অন্ধভক্ত কারণ, জনগণ ত্রিপুরার পরিণতি দেখছে। উত্তরপ্রদেশের পরিণতি দেখছে। গুজরাট মধ্যপ্রদেশ উত্তরাখণ্ডের পরিণতি দেখছে। হরিয়ানার পরিণতি দেখছে। সাড়ে আটশো টাকার রান্নার গ্যাসে দুইশো টাকার সর্ষের তেলে মাছ ভেজে একশো টাকার পেট্রল পুড়িয়ে ভোট দিয়ে এসেছে। সেই একই জনগণ, সেই ৩৮% অন্ধভক্ত, যখন অক্সিজেনের অভাবে হাহাকার করছে। যখন সাইক্লোনে ঘর বাড়ি হারিয়ে পথে বসেছে। তখন কিন্তু তাদের পাশে সুনার বাঙ্গাল গড়ার কোন কারিগরদের দেখা যায় নি। ভোট নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এবার বুড়ো আঙুল দেখানোর পালা। কারণ ভোট পেলেও ক্ষমতা পাওয়া যায় নি। তাই জনতার পাশে থাকার কোন দায় নেই। না, এটা ঠিক অন্যায় নয়। আর নয় অন্যায় বলে ভোট দখল করলেই যে ভোটারদের পাশে থাকতে হবে তার তো কোন কথা নেই। সংবিধান তো আর এই ৩৮ শতাংশ ভোট বাজেয়াপ্ত করে নেবে না। নিতে পারবে না। ফলে নো চিন্তা ডু ফূর্তি। এসি লাগানো দলীয় কার্যালয়গুলির একটিও ত্রাণ শিবির হয়ে ওঠেনি। আইসোলেশন সেন্টার হয়ে ওঠেনি। সমাজ থেকে জনতা থেকে আইসোলেটেড হয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার দলীয় কার্যালয়গুলি। বাবুবিবিদের শীততাপ নিয়ন্ত্রীত ঠেক হয়ে দলীয় কাজ করে চলেছে। দলের কাজ। জনতা কাজ নয়। দলের জন্যে। জনতার জন্যে নয়। ঠিকই তো দলীয় কার্যালয়ে দলের কাজ হবে না তো কি জনতার কাজ হবে? আশ্চর্য্য আব্দার তো!


খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাই আটত্রিশ শতাংশ ভোট দখল করেও জনতার পাশে থাকার দায় নেই। জনতার পাশে তাদের দেখা যাচ্ছেও না। জনতার অন্যায়টাও তো দেখতে হবে। জনতা কেন এগারো শতাংশ কম ভোট দিল? এত কাঠখড় পুড়িয়েও এত কিছু করে এত রঙ চড়িয়েও বাংলা দখল অধরাই থেকে গেল। সেই বাংলারই মানুষের বিপদে তাদের পাশে থাকতে হবে? কেন? উঁহু এত সহজ নয়। মানুষকে বুঝতে হবে মানুষের আলাদা কোন অস্তিত্ব নেই। মানুষের অস্তিত্ব ভোটার হিসাবে। ভোট শেষ। মানুষের ভুমিকাও শেষ। এবার যে যার নিজের রাস্তা দেখ। আত্মনির্ভর হও। নিজের বিপদ নিজে সামলাও। তোমার জন্মের জন্য দল দায়ী নয়। তোমার বিপদ তোমারই বিপদ। দলের বিপদ নয়। দলের কাজ দল করেছে। প্রচারে স্লোগানে প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে আটত্রিশ শতাংশ ভোট দখল করে নিয়েছে। করোনাও দল নিয়ে আসেনি। আর সাইক্লোনও দলের তৈরী নয়। ফলে করোনাই হোক সাইক্লোনই হোক। মানুষ বিপদে পড়লে, মানুষকেই বুঝে নিতে হবে। আর দেশের প্রধান তো আত্মনির্ভর ভারত গড়ারই ডাক দিয়ে রেখেছেন। তাহলে আর কথা উঠছে কেন? কথা উঠবে কেন?


না তাই কোন কথা ওঠানোও যাবে না। কেন আটত্রিশ শতাংশ ভোট পেয়েও একটি দল মানুষের পাশে থাকবে না। মানুষের বিপদে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে না। সে বিষয়ে কোন কথাই বলা চলবে না। দল কত ভোট পেয়েছে, সেটা দল বুঝে নেবে। ভোট দলের দলীয় সম্পত্তি। সেই বিষয়ে কথা বলার এক্তিয়ার হয় কি করে আমজনতার? ভোট দিয়ে দিয়েছে, গল্প শেষ। সেই ভোট দিয়েছে বলে দলের বিষয়ে কথা বলার অধিকার জন্মায় কি করে? ভোট দেওয়া ভোটারদের কাজ। ভোট দখল দলের অধিকার। সেই ভোট নিয়ে দল কি করবে সেটা দলের নিজের বিষয়। সেই বিষয়ে বাইরে আলোচনা হবেই বা কেন? দল তার নিজের স্বার্থে কাজ করবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তাই করে। আটত্রিশ শতাংশ ভোট দিয়ে বাঙালি কি দলের মাথা কিনে নিয়েছে নাকি? যে তাদের প্রয়োজনে দলকে কাজ করতে হবে? দলের প্রয়োজনে জনতাকে ভোটার বানানো হয়। জনগণের প্রয়োজনে দল বানানো হয় না। এই সোজা কথটা জনগণের স্মরণে রাখা দরকার সবসময়। তাই জনতার ভোট দখল করে নিয়ে দল কি করবে আর কি করবে না। তার জবাবদিহি ভোটারদেরকে দেওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না দলের। থাকবেও না কোনদিন। কোন রাজনৈতিক দলেরই থাকে না। এমনকি সরকারী ক্ষমতায় পৌঁছাতে পারলেও দলের কোন দায় নেই জনতার পাশে থাকার। ভোটারদের কথা ভেবে রাতের ঘুম বরবাদ করার। তার জন্য প্রশাসন থাকবে। সরকার যেমন বুঝবে তেমন ভাবে প্রশাসনকে চালাবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলকে তাই বলে মহামারী কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সুরক্ষিত বলয় থেকে বেড়োতে হবে নাকি? কেন সরকারী কর্মচারীরা কিসের জন্য বেতন পায়। সরকারী দপ্তরগুলি তাহলে আছে কি করতে? সেখানে দলীয় কর্মীদের বিপদের দিকে ঠেলে দিতে হবে কেন? দলীয় কর্মীরা দলের সম্পদ। তাদের কাজ জনতাকে নিজ দলের ভোটারে পরিণত করা। তাদের কাজ জনতার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। রাজনৈতিক কর্মীর কাজ রাজনীতি নিয়েই। রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব দলের প্রতি। জনতার প্রতি নয়। সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব জনতার প্রতি। সরকার আছে প্রশাসন আছে। জনতাই হোক আর ভোটার হোক, দায়িত্ব প্রশাসনের। দায়িত্ব সরকারের। দায়িত্ব দলের নয়।


তাই করোনায় দল ভ্যানিশ। সাইক্লোনে দল উড়ে গিয়েছে বলে যারা টিপ্পনী কাটছে। তারা মূর্খের স্বর্গেই বাস করছে। জনতা যে সরকার নির্বাচিত করেছে, সেই সরকার যে প্রশাসন চালাচ্ছে, সেই সরকার সেই প্রশাসনেরই দায় জবাবদিহি করার। জনতারও দায় তাদের নির্বাচিত করা সরকারের কাছ থেকে সব কিছু বুঝে নেওয়া। বিরোধী দল রাজ্যবাসীর কাছে দায়বদ্ধ নয়। বিপদে পরিসেবা দেওয়ার। সরকারী দলের দায়িত্ব তার সরকার ঠিক মতো করে চালানো। না চালাতে পারলে বিরোধী দলকে দায়িত্ব ছেড়ে দিক বরং! ঠিকই তো আটত্রিশ শতাংশ রাজ্যবাসীতো বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চায় নি। তারা তো ভোট দিয়েছিল ক্ষমতায় বসাতেই। ফলে তাদেরও দায় আছে দাবি তোলার। যে তারা বিরোধী দলকেই ক্ষমতায় পেতে চায়। কিন্তু তাই বলে বিরোধী দল ভ্যানিশ বলার অধিকার তাদেরও নেই। বিরোধী দলের কেরামতি দেখার সময় চলে যায় নি। করোনার প্রকোপ কমে যাক। প্রকৃতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক। রাজ্যজুড়ে বিরোধী দলের কেরামতি দেখার দিন তো পড়েই রয়েছে রাজ্যবাসীর। বিধানসভায় বিরোধী দল যখন একটাই। তখন কেরামতি দেখানোয় কম পড়বে না আদৌ। কয়টা দিন অপেক্ষা করুক বরং রাজ্যবাসী। ভ্যানিশ না ভয়ঙ্কর। অচিরেই টের পাবে জনতা।


৩রা জুন’ ২০২১

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত