অনুপ্রবেশের রাজনীতি



অনুপ্রবেশের রাজনীতি

                                     
গ্রীক দার্শনিক প্লেটো সাবধান করে দিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করার মাশুল দিতে হয়, নিকৃষ্টতম প্রশাসকের দ্বারা শাসিত হয়েই। স্বাধীনতা উত্তর ভারতীয় রাজনীতির চলমান ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য রাখলেই প্লেটোর কথাটি কতটা সত্য সে বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকে না আর। ১৯৪৭ সালের পর থেকে দশকে দশকে ধারাবাহিক ভাবে, শুভবোধ সম্পন্ন নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত মেধাবী ছাত্র সমাজ সচেতন ভাবেই ক্রমান্বয়ে রাজনীতিকে এড়িয়ে থাকাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেছে। ফল মিলেছে হাতে নাতে। স্বাধীনতার তিয়াত্তর বছর বাদে ভারতবর্ষের বর্তমান রাজনীতির গতি প্রকৃতির দিকে লক্ষ রাখলেই দেখা যাবে, মধ্যমেধা আর মেধাহীন পেশিশক্তির আস্ফালনের যুগলবন্দির চিত্র। যার সরাসরি প্রভাবে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে জনসাধারণের। একটা সময় ছিল, যখন শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষিত মেধামী ছাত্র যুবসম্প্রদায় থেকেই রাজনৈতিক নেতার জন্ম হতো। বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর বিভিন্ন পেশাজীবী সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বও সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। ফলে রাজনীতিতে মেধা চর্চার একটি সুপ্রশস্ত পরিসর ছিল। আর সেই সাথে, বিশেষত ব্রিটিশ শাসনামলে মেধার সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে থাকত দেশপ্রেম। যাঁরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন, তাঁরা ব্যক্তিগত ধনসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করতেন না। দেশসেবা দেশের মুক্তিই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু গোড়ায় গলদ। অভিপ্রেত স্বাধীনতার বদলে, খিড়কির দরজা দিয়ে ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়াই ভারতবর্ষের মূল অভিশাপ হয়ে দাঁড়ালো। অনেকেই বলবেন, তাহলে এত দেশপ্রেম দেশসেবার উদ্দেশ্যজনিত রাজনৈতিক আদর্শের কথা যে বলা হচ্ছিল, তার কি হলো? এর উত্তর এক কথায় দেওয়া দুরূহ। এই প্রবন্ধের বিষয়ও সেটি নয়। তবুও প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো, ভারতবর্ষের রাজনীতিতে বেনোজল ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছিল তথাকথিত স্বাধীনতাপ্রাপ্তির কয়েক দশক আগে থেকেই। এক এক গোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ গোষ্ঠী স্বার্থকেই সমগ্র দেশের স্বার্থের উর্দ্ধে স্থান দেওয়ার ফলে, স্বাধীনতা উত্তর ক্ষমতালাভের লোভ তৎকালীন নেতৃবর্গকে গ্রাস করেছিল। ইতিহাসের ছাত্র মাত্রেই সে কথা জানে। যার সরাসরি প্রভাব, ব্রিটিশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা ক্ষমতা হস্তান্তর। একটি দেশের স্বাধীনতা যখন এইভাবে আসে, তখন স্বভাবতঃই ক্ষমতার লোভ ও অধিকার চর্চাই স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতির মূল লক্ষ্য হয়ে উঠতে থাকে। ভারতবর্ষও তার ব্যাতিক্রম নয়।

ফলত স্বাধীনতা অর্জনের বদলে ব্রিটিশের স্বার্থে তাদেরই হাত থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্তি, স্বাধীন ভারতের রাজনীতির জন্মলগ্নেই যে অশুভ বিষবৃক্ষটি রোপণ করে ছিল, আজ তা মহীরুহ হয়ে উঠেছে। দশকে দশকে ভারতবর্ষের তথাকথিত স্বাধীনতার নগ্ন চেহারা সম্বন্ধে যতই মানুষ ওয়াকিবহাল হতে থাকলো, ততই রাজনীতির কোলাহল থেকে নিজেকে দূরবর্তী রাখতেই পছন্দ করলো মেধা সম্পন্ন নাগরিক সম্প্রদায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়লো রাজনীতির অন্দরেই। মেধাসম্পন্ন রাজনীতিবিদের সংখ্যা কমতে থাকলো দ্রুতহারে। কিন্তু রাজনীতির পরিসর তো আর ফাঁকা পড়ে থাকতে পারে না। তাই ক্ষমতালোভী মধ্যমেধার মানুষই প্রথমে সেই শূন্যস্থান দখল করে নিল। এবং এই মধ্যমেধার রাজনৈতিক নেতৃবর্গের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার স্বার্থেই রাজনৈতিক পরিসরে দ্রুতবেগে প্রবেশ ঘটতে শুরু করলো মেধাহীন পেশিশক্তির। দিনে দিনে মধ্যমেধা আর মেধাহীন পেশিশক্তির যুগলবন্দিই ভারতীয় রাজনীতির মূল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে গেল। যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষের ভিতর রাজনীতি সম্বন্ধে একটি তিক্ততা এবং ভয়মিশ্রিত অনীহার জন্ম দিতে থাকলো। সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া তো দূরস্থান, অধিকাংশ মানুষই রাজনীতির শতহস্ত দূরবর্তী থাকার মধ্যেই শান্তি ও নিরাপত্তা বোধ করতে থাকল। স্বাধীনতার পরবর্তী সাত দশকে, এই ভাবেই ভারতীয় রাজনীতির পরিসর থেকে, মেধাসম্পন্ন নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর ক্রম অপসারণ ঘটেছে। সেই ফাঁক ভরাট করে ফেলেছে আজকের মেধাহীন পেশিশক্তীর আস্ফালন। যাদের কাছে রাজনীতিই হলো সবচেয়ে লোভনীয় পেশা। একমাত্র যে পেশায় কোন মেধার পরীক্ষা দিতে হয় না। লাগে না কোন বিষয়ে ন্যূনতম কোন শিক্ষাগত যোগ্যতাও। উল্টে একমাত্র এই পেশাতেই যাবতীয় দুস্কর্ম ঘটানো সম্ভব হয়। এবং সম্ভব হয়, অধিকাংশ দুস্কর্মকে ধামাচাপা দেওয়াও। সম্ভব হয় প্রায় শূন্য থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠাও। সম্ভব হয় পরবর্তী চৌদ্দ পুরুষের জন্য ধনসম্পদ সঞ্চয় করে যাওয়া। সম্ভব হয় জনসাধারনের অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপনের। সম্ভব হয় বিদেশের ব্যঙ্কে কালো টাকা গচ্ছিত রাখাও।

বর্তমান ভারতবর্ষে ঠিক এই এই কারণের জন্যেই মূলত দুর্বৃত্তদেরই আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এদেশের রাজনীতির পরিসর। দিনে দিনে তারাই সংগঠিত শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এগিয়ে চলেছে সংখ্যাগুরুতে পরিণত হওয়ার অভিমুখে। এবং প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনে এদের শতকরা হার লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। বর্তমান লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী চল্লিশ শতাংশ সাংসদের বিরুদ্ধেই নানান অপরাধে ফৌজদারী মামলা চলছে বিভিন্ন আদালতে। তাতে তাদের নির্বাচনে জয়ী হতে কোন অসুবিধা হয় নি। বরং সুবিধাই হয়েছে। জনসাধারণ তাদেরই ভয়ে ভীত হয়ে তাদেরকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। কারণ তারা বিশ্বাস করেছে, এদের নির্বাচিত না করলে ভিটে মাটি ছেড়ে গাছতলায় গিয়ে দাঁড়াতে হতে পারে। এইখানেই পেশিশক্তির এত বেশি গুরত্ব ভারতীয় রাজনীতিতে।

ভারতীয় রাজনীতিতে পেশিশক্তির এই অনুপ্রবেশ দেশের দুর্বৃত্তদেরকে আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী করে তুলেছে। ফলে প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় ও কেন্দ্রের লোকসভায় দুর্বৃত্তদের অনুপ্রবেশ এত সহজ হয়ে গিয়েছে। এখানে একটি কথা অবশ্যই বলে রাখা ভালো, লোকসভায় যে চল্লিশ শতাংশ অভিযুক্তরা নির্বাচিত হয়েছে, ভারতীয় আইনে তারা এখনো নানান অপরাধে অভিযুক্তই শুধু। যেহেতু তাদের বিচার চলছে, তাই তারা এখনো অপরাধী প্রমাণিত হন নি অবশ্যই। অপরাধ প্রমাণিত হলে আশা করা যায়, অবশ্যই তাদের লোকসভার আসন খারিজ হয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় বিচারপর্বের দীর্ঘসূত্রীতার সুযোগ নিয়ে এরা বহাল তবিয়তে এক একটি লোকসভার পঞ্চবার্ষিকী মেয়াদ দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারে। এবং পরবর্তী নির্বাচনে আরও বেশি ভোটে জয়যুক্ত হয়ে ফিরেও আসে।

অনেকেই তাই বলে থাকে, অভিযুক্ত হলেই অপরাধী হয়ে যায় না। যতক্ষণ না অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে। অবশ্যই সে কথা সত্য। সেই সাথে এইকথাও সর্বাংশে সত্য যে, একজন অভিযুক্ত দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হলে, তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেই তার অপরাধের বিরুদ্ধে যাবতীয় প্রমাণ লোপাটে সবরকমের চেষ্টাই করবে। এবং অধিকাংশ সময়েই সফল হবে। অর্থ ও প্রতিপত্তি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলে ভারতীয় আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে আসা আদৌ কঠিন কোন বিষয় নয়। আর এই কার্যে দুর্বৃত্তদের সবচেয়ে বড়ো সহায় তার রাজনৈতিক দল। আর সেই দল সরকারে থাকলে তো কথাই নাই। এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য রাখার দরকার, ভারতবর্ষের আইনরক্ষকরা প্রথমত এবং প্রধানত সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতের পুতুল মাত্র। কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তা সে যত বড়ই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করা তো দুরস্থান, কোন অভিযোগ গ্রহণ করতেই পুলিশকে দশবার ভাবতে হয়। ফলে অভিযোগের যথেষ্ঠ সারবত্তা না থাকলে, আইনের যথেষ্ট পরিমাণ রক্ষকবচ না থাকলে পুলিশ কোন অভিযোগই গ্রহণ করার সাহস পায় না। ফলে এদেশের পুলিশ যখন কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ গ্রহণ করে, বুঝতে হবে ভারতীয় আইনের যাঁতাকলে পড়েই সেই অভিযোগ গ্রহণ করা ছাড়া পুলিশের আর কিছু করার থাকে না। অর্থাৎ আইনগত দিক দিয়ে অত্যন্ত বেকায়দায় না পড়লে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন অভিযোগ গ্রহণের সাহসই করবে না। তাই অভিযুক্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মানে, অত্যন্ত গর্হিত কোন অপরাধের সাথে যুক্ত। রাজনেতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রমাণ লোপাট করে অর্থবলে আইনের সুবিধা গ্রহণ করে অভিযোগমুক্ত হওয়া মানেই অপরাধের সাথে যুক্ত নয়, একথা বলা যায় না। দুর্বৃত্ত মানেই এইসব বিষয়ে দারুণ ভাবেই ওয়াকিবহাল। রাজনীতির বাইরে থেকে অপরাধ সংঘটিত করা অনেক বেশি বিপদজনক। বরঞ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃত্তে থেকেই একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। ফলে নির্বাচনী গণতন্ত্রে দুর্বৃত্তদেরই আজ দাপট সবচেয়ে বেশি। আর সেই দাপট দেখিয়েই তারা প্রথমে সরাসরি রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে। আর তারপরেই অনুপ্রবেশ করে গণতন্ত্রের আইনসভাগুলিতে। পুরোসভা বিধানসভা লোকসভায় আজ এরাই সবচেয়ে বেশি সংগঠিত শক্তি। 

এইভাবেই যতবেশি মেধাবী শিক্ষিত শুভবোধসম্পন্ন মানুষ রাজনীতির পরিসরে প্রবেশ করা থেকে বিরত থেকেছেন, ততবেশি করে মেধাহীন পেশিশক্তি ও দুর্বৃত্তের অনুপ্রবেশ ঘটছে ভারতীয় রাজনীতিতে। সবচেয়ে বড়ো পরিতাপের বিষয় দেশের আপামর জনসাধারণ এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। সকলেই এই বিষয়টিকে স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা বলেই মেনে নিয়েছে। আরও মুশকিল হয়েছে, নতুন থেকে নতুনতর প্রজন্ম এই বাস্তবতার ভিতরেই বেড়ে ওঠায়, এটাকেই রাজনীতির আসল চিত্র বলে বিশ্বাস করে ফেলছে। ফলে এর বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন গড়ে ওঠার কোনরকম পরিসরই সৃষ্টি হয় নি আজও। রাজনীতিতে অসৎ ও দুর্বৃত্তের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয় গড়ে ওঠে নি কোন জনসচেতনতা। সকলেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোবৃত্তির পরিসরে আটকিয়ে থেকে সমষ্টিগত চেতনার দিগন্তে পৌঁছাতে পারছেনা। ফলে কোন পুঞ্জীভুত ক্ষোভই দানা বাঁধছে না সদর্থক ভাবে। বাঁধছেনা বলেই সম্ভব হচ্ছে একটি লোকসভায় চল্লিশ শতাংশ অভিযুক্ত সাংসদের নির্বাচিত হওয়ার মতো যুগান্তকারী ঘটনা ঘটার।

রাজনীতিতে দুর্বৃত্তদের অনুপ্রবেশের হাত ধরে, বিভিন্ন আইনসভায় নানান ধরণের ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্তদের অনুপ্রবেশ ভারতীয় রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে আজ। যার ফলে সাধারণ জনগণের উপর নেমে এসেছে এক ঘোর কালো দিন। আজকে জনগণকেই বুঝতে হবে, ভিটেমাটি হারিয়ে ব্রিটিশের ভাগ করে দিয়ে যাওয়া মানচিত্রের এক দিক থেকে অন্যদিকে পা রাখলেই কি শুধু অনুপ্রবেশকারী হয়? সেই সর্বস্ব খোয়ানো মানুষগুলিই দেশের জন্য বিপদ, নাকি ভারতীয় রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রে অনুপ্রবেশ করা ভোটে বিজয়ী দুর্বৃত্তরাই দেশের আসল বিপদ? বুঝতে হবে কোন অনুপ্রবেশ ঠেকানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বুঝতে হবে কোনো আইন করে এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে, নাকি বেশি করে উচ্চশিক্ষিত মেধাবী শুভবোধসম্পন্ন নাগরিক সম্পদায়ের সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশেই এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাব। বুঝতে হবে জনগণকেই। জনগণের হাতেই জনগণের রক্ষাকবচ। জনগণই শুধু পারে জনগণকে রক্ষা করতে।

২রা জানুয়ারী ২০২০

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত