খোদার উপর খোদগিরি
ঈশ্বর নিরাকার না সাকার।
এই নিয়ে তর্ক বহুদিনের। নানা মুনির নানা মত। যার সার কথা বলে গিয়েছেন রামকৃষ্ণ। যত
মত তত পথ। অর্থাৎ কোন মতই ভ্রান্ত নয়। কোন পথই অগম্য নয়। যার যেমন আধার তার তেমন দৌড়।
তাই এই নিয়ে তর্ক করা বৃথা। অন্তত রামকৃষ্ণের কথাই যদি বেদবাক্য ধরা যায়। তবু প্রশ্ন
পিছু ছাড়ে না। না, প্রশ্ন ঈশ্বর নিয়ে নয়। তিনি আছেন কি নেই। সে অন্য তর্ক। তিনি সাকার
কি নিরাকার। সে প্রশ্নও নয়। আজ বরং ঈশ্বরের আরাধনার বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি
হওয়া যাক বরং। অবশ্য সব প্রশ্নের মীমাংসা মানুষেরও অসাধ্য। কারণ প্রশ্ন অশেষ। আর মানুষের
উপলব্ধির ক্ষমতা ও শক্তি সীমায়িত। গোষ্ঠী ভেদে ঈশ্বরের ণত্ব ষত্ব ভিন্ন হয়ে যায়। নাম
পাল্টিয়ে যায়। ধাম পাল্টিয়ে যায়। তবে সব গোষ্ঠীরই এক রা। তাদের ঈশ্বরই সর্বশক্তিমান।
তা হোক। আমাদের প্রশ্ন অন্যখানে। যাঁরা বলছেন ঈশ্বর সাকার। মানুষেরই মতো রূপে তার প্রকাশ।
তাদের কাজকর্মের ভিতরে তবু না হয় একটা য়ুক্তির দেখা মেলে। তাঁরা মানুষরূপী দেবতার মূর্তি
গড়ে আরাধনায় বিশ্বাসী। ফলে তাদের দেবালয়ের প্রয়োজন রয়েছে মানা যায়। হিন্দুদের তো আবার
তেত্রিশ কোটি দেবদেবী। পুংলিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গ। এক একজন দেবদেবীর জন্য এক একটি মন্দির।
নাহলে দেবতা থাকবেন কোথায়? ফলে দেবতাদের সুরক্ষার জন্য মন্দিরের আবশ্যক রয়েছে বইকি।
ভক্তদের আরাধানা পুজাআচ্চার জন্যেও মন্দির ছাড়া গতি কি? ফলে হিন্দু জনগোষ্ঠীকে হাজার
হাজার বছর ধরে, কোটি কোটি মন্দির গড়ে দেবতাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে। না হলে দেবতাদের দশা
হয়তো ভিটে মাটি ছাড়া শরণার্থীদের মতো হয়ে যেত। দেবভক্তরা সেরকমটা হতে দেয় কি করে? ফলে
মন্দির একটা চাই। যেখানে দেবতা ও তার ভক্তের দেখা সাক্ষাৎ হবে প্রতিনিয়ত। দেবতার পায়ে
ভক্তির অঞ্জলি নিবেদন করে ভক্তের ধর্ম রক্ষা হবে। সেইখনেই দেবালয় বা মন্দিরের গুরুত্ব।
তাই মন্দির গড়া থেমে নেই। মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারে মন্দিরের সংখ্যা বৃদ্ধিও অবশ্যাম্ভাবী।
আবার সেই হিন্দু জনগোষ্ঠীর
ভিতরে যারা নিরাকার ব্রহ্মের সেবক। একমাত্র তাদেরই হয়তো কোন মন্দিরের প্রয়োজন নেই ব্রহ্মার
আরাধনা করতে। কিংবা ব্রহ্মার সাথে আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে। সম্ভবত এই কারণে ব্রহ্মা
মন্দিরের দেখা পাওয়া যায় না। বিষ্ণু মন্দির শিব মন্দির যতই থাক। ব্রহ্মা মন্দিরের কথা
তেমন শোনা যায় না কিন্তু। তার একটি কারণ এই হতে পারে যে। যিনি নিরাকার, তার আশ্রয়ের
জন্য ইট কাট পাথরের চারদেওয়ালের প্রয়োজন পড়ে না নিশ্চয়। খৃষ্টানদের গডের ধারণাও অনেকটা
নিরাকার ব্রহ্মের অনুরূপ মনে হয়। সেই কারণেই হয়তো তাদের গডের কোন ছবি বা মূর্তি দেখা
যায় না। কিন্তু রক্তমাংসের মানুষ যীশু খ্রিষ্টের আরাধনার জন্যে গীর্জা তো বানাতেই হবে।
যে যুক্তিতে হিন্দু দেব দেবী’দের সুরক্ষার জন্য মন্দিরের আবশ্যক। সেই একই যুক্তি রক্তমাংসের
মানুষ যীশুর জন্য আরও বেশি করে প্রযোজ্য সন্দেহ নাই। তিনি ঐতিহাসিক চরিত্র। কোন কিংবদন্তী
নন। মানুষের কল্পনা নন। তাঁর জন্ম বয়ঃবৃদ্ধি ও নিহত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। ফলে তাঁরও
মূর্তি গড়ে উপাসনা গৃহ প্রস্তুতের প্রয়োজন রয়েছে বইকি। না হলে তাঁর ভক্তদের সাথে তাঁর
দেখা সাক্ষাৎ হবে কোথায়? তাই খ্রিষ্টানদের গড নিরাকার হলেও, তাঁর প্রতিভু যীশুর আশ্রয়ের
জন্য গীর্জার আবশ্যকও অনস্বীকার্য। এই কারণেই খ্রীষ্টান জনগোষ্ঠীর সাম্রাজ্য বিস্তার
যত বিস্তৃত হয়েছে। ভুবন জুড়ে গীর্জার সংখ্যাও সেই হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক একই কথা
বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মঠ ও গুম্ফার যৌক্তিকতা বোঝাতে প্রযোজ্য। গৌতম বুদ্ধও রক্তমাংসে মানুষ
ছিলেন। সাধনার পথে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক তিনি। নিজে তিনি ঈশ্বরবাদী ছিলেন, এমন
কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর দর্শনের কোথাও স্বর্গ কিংবা নরকের ধারণা নাই। ফলে
সেই দিক দিয়ে দেখলে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কোন দেবালয়ের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু মনুষ্যধর্ম
যাবে কোথায়? সব ধর্মের উপরে কিন্তু মনুষ্যধর্ম। গৌতম বুদ্ধের মতো নাস্তিক ঈশ্বর বিশ্বাসহীন
মানবতাবাদী সাধকের ভক্তরাও তাঁকে দেবতা বানিয়ে ধর্মের ঠেক বানিয়ে ফেলল। এখন ধর্মের
ঠেক বানিয়ে ফেললে তার জন্য তো হেড অফিস ব্রাঞ্চ অফিস খুলতে হয়। ফলে বুদ্ধের ভক্তরাও
নিজেদের তাগিদেই মঠ প্রস্তুত করে বুদ্ধের মূর্তি গড়ে আরাধনা করা শুরু করে দিল। সেই
পরম্পরাই চলে আসছে এখনো। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নিজস্ব উপাসনালয়েরও প্রয়োজন পড়েছিল। ফলে বৌদ্ধরাও
বুদ্ধের মূর্তি পুজোয় বিশ্বাসী হয়ে পড়লো। এবং সেই বিশ্বাসের চর্চায় মঠ আর গুম্ফার বিস্তার
ঘটতে থাকল। নিরাকার সত্যের উপাসক মানবতার দিশারী গৌতম বুদ্ধেরও ঠাঁই হলো চার দেওয়ালের
ভিতর। সেই ইট কাঠ পাথরের স্তূপে।
ইসলাম এসেছে অনেক পরে।
অনেক দ্বন্দ্ব তর্ক যুদ্ধ সংগ্রামের ভিতর দিয়ে। কিন্তু সেই ইসলামে আল্লাহের স্বরূপ
কিন্তু নিরাকার। এই বিষয়ে ইসলামে কোন দ্বন্দ্ব নেই। একমাত্র ইসলামই সুস্পষ্ট করে নিরাকার
ঈশ্বরের আরাধনাকে বরণ করে নিয়েছে। সেই অর্থে মুসলিম মানেই নিরাকার ঈশ্বরের সাধক। এখন
যিনি সকল আকারের উর্ধে। যাঁর কোন রূপ নাই। কোন সীমা নাই। সোজা কথায় অসীম অনন্ত। তাঁর
তো কোন আশ্রয়ের প্রয়োজন থাকার কথা নয়। বিশেষ করে ইসলামে যখন স্বীকারই করে নেওয়া হয়েছে
বিশ্বজগতের সকল কিছুরই স্রস্টা আল্লাহ। ঠিক হিন্দুধর্মর নিরাকার ব্রহ্মের মতো। খ্রিষ্টধর্মের
গডের মতো। ফলে মুসলিমদের বিশ্বাসে এই সমগ্র জগৎ সেই আল্লাহের আশ্রয়েই থাকার কথা নিশ্চয়।
আর সেটাই যদি সত্য হয়। তবে সেই আল্লাহের জন্য ইট কাঠ পাথরের মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন
পড়ে কেন? ইসলাম ধর্মের ভক্তরা বলতেই পারেন। আল্লাহের উপাসনার জন্য একটি তো নির্দিষ্ট
ঘরের প্রয়োজন থাকবে। মসজিদ সেই ঘর। সেই দেবালয়। যেখানে মুসলিমরা আল্লাহের উপাসনায় নিয়োজিত
থাকবেন। কিন্তু যিনি নিজেই নিরাকার। এবং সর্বশক্তিমান। অনাদি এবং অনন্ত। তাঁকে কি কোন
নির্দিষ্ট চার দেওয়ালে ধরা যেতে পারে? সম্ভব কি আদৌ? তিনি তো প্রতিটি ইট কাঠ পাথরের
ভিতরও বিরাজমান। তাঁর অস্তিত্ব তো সকল কিছুর ভিতর দিয়েই প্রত্যক্ষ। তাহলে সেই নিরাকার
পরম শক্তির আরাধনা তো জল স্থল অন্তরীক্ষ ব্যাপী সর্বত্র এবং যেকোন স্থানেই সম্ভব। সোজা
কথায় বললে। ভক্ত মুসলিম যখন যেখানে। যে অবস্থায়। তখন সেখানেই তিনি তার পরম আল্লাহের
হাত ধরে রয়েছেন নিশ্চয়। অন্তত নিরাকার ঈশ্বরের উপাসকদের ক্ষেত্রে তেমনটি হওয়াই অধিকতর
যুক্তিযুক্ত কিন্তু। ফলে একজন প্রকৃত মুসলিম স্বভাবতঃই নিরাকার ঈশ্বরের উপাসক। তাই
তাঁর উপাসনার জন্য গোটা ভুবনটিই স্বয়ং আল্লাহ গড়ে রেখে দিয়েছেন। সেই আল্লাহের উপাসনার
জন্য যখন মসজিদ গড়ে তুলতে হয়, তখন কি খোদার উপরেই খোদগিরি হয়ে যায় না?
এতো গেল প্রশ্নের কথা।
যে প্রশ্নগুলি আমাদের কারুরই অজানা নয়। কিন্তু প্রায় কেউই সেই প্রশ্নগুলির সামনাসামনি
হতে চাই না। হতে না চাওয়ার হাজারো কারণ রয়েছে। সে কথা থাক। কিন্তু এই প্রশ্নগুলি যে
সত্যটুকুকে প্রতিষ্ঠা করে। এক কথায় বলতে গেলে। সব ধর্মের থেকে বড়ো ধর্ম হলো মনুষ্যধর্ম।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ইসলাম শিখ যে ধর্মই হোক না কেন। মানুষের ধর্ম হলো এই যে, তার
ধর্ম পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঠেক লাগে। মন্দির মঠ গীর্জা মসজিদ গুরুদ্বওয়ার হলো
সেই ঠেক। এই ঠেক না গড়ে তুললে। মানুষকে এক একটি ঠেকে ধরে রাখার পথ খোলা থাকে না। আজকের
রাষ্ট্র ব্যবস্থার মতো গণতান্ত্রিক পরিসরের রাজনীতি যখন গড়ে ওঠে নি। সেই সময়ে মানুষের
সমাজ পরিচালনা করার জন্যেই এই এক একটি ঠেকের উপত্তি। মূল লক্ষ্য কোন আধ্যাত্মিক সাধনা
নয়। আসল উদ্দেশ্য একটিই। সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা। এবং ব্যক্তি মানুষকে পরিচালনা করা।
মানুষের সমাজ ও সভ্যতায় এই সমাজিক দায়বদ্ধতাই এক এক সময়ে এক একটি ধর্মের সৃষ্টি করেছে।
ফলে ধর্মের আসল পরিসর কিন্তু সমাজবদ্ধ মানুষকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আওতায় নিয়ে আসা।
এবং সেই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত করা গোষ্ঠীস্বার্থে। তাই ধর্ম আর গোষ্ঠীস্বার্থ
এক এবং অভিন্ন। বস্তুত গোষ্ঠীস্বার্থের বাইরে কোন ধর্মেরই কোন অস্তিত্ব থাকে না। আর
থাকে না বলেই, একজন হিন্দুর কাছে যেমন অন্য কোন ধর্মের কোন অস্তিত্বেরই কোন গুরুত্ব
নেই। ঠিক তেমনই একজন খ্রিষ্টান কি বৌদ্ধ মুসলিম কি শিখের কাছেও তার গোষ্ঠীস্বার্থের
বাইরে অন্য কোন ধর্মের কোন অস্তিত্বই স্বীকৃত নয়। এই কারণেই যত মত তত পথ। সকলেই তার
মতে ও পথে অভ্রান্ত। এবং বাকিরা তাদের মত ও পথের ভ্রান্ত পথিক। রামকৃষ্ণ ঠিক যে অর্থে
যত মত তত পথের কথা বলে গিয়েছিলেন। মানুষ যদি তার কথাকেই মান্যতা দিত। তাহলে বিভিন্ন
ধর্মীর মত ও পথের ভিতর কোন দ্বন্দ্বও থাকতো না। কোন বৈরীতাও থাকতো নয়। কিন্তু ঐ যে
আগেই বলেছি। সকল ধর্মের উপরে মনুষ্যধর্ম। সেই মনুষ্যধর্মই প্রতিটি ধর্মকে রূপ দিয়েছে।
আর ঠিক সেই কারণেই প্রতিটি ধর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। মত ও পথ যতই ভিন্ন
হোক না কেন। সমাজবদ্ধ মানুষের উপরে নিরন্তর ছড়ি ঘোরানোর জন্যেই এই ধর্মগুলির সকল নিয়ম
কানুন। আচার বিচার। ভেদাভেদ। আর সেই সকল কিছু পরিচালনা করার কাজেই হেড অফিস থেকে ব্রাঞ্চ
অফিস না খুললে হয় না। হবে কি করে? হওয়ার কথাও তো নয়। মন্দির হোক গীর্জা হোক। মঠ হোক
মসজিদ হোক। এ সব কিছুই সেই হেড অফিস আর ব্রাঞ্চ অফিস মাত্র। ফলে ঈশ্বর নিরাকারই হন
আর সাকারই হন। তার ভক্তদেরকে ঈশ্বরের নামে ধরে রাখতে গেলে এক একটি ঠেকের প্রয়োজন পড়ে।
আজকাল যেমন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলির কাজকর্ম চালানোর জন্যেও
অনুরূপ ঠেকের দরকার পরে। অমুক দলের হেড কোয়ার্টার। তমুক দলের শাখা কেন্দ্র।
ফলে মন্দির মসজিদ গীর্জা মঠ গুরুদ্বওয়ার নামক এক একটি ঠেক না হলে ঈশ্বরের নামে তাঁর ভক্তদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধে হয় না। এর সাথে ভক্তের ঈশ্বরের উপাসনার কোন সংযোগ নাই। যিনি প্রকৃত ভক্ত। তিনি তাঁরা সকল কর্মের ভিতরেই তাঁর ঈশ্বরের সাথে সংযোগ সাধন করে নিতে পারেন। তিনি তাঁর ভুবন জুড়েই আপন আরাধ্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব টের পেতে পারেন। অন্তত তিনি যদি প্রকৃতই ধার্মিক হন। আর তা না হলে কোন মন্দির মসজিদ গীর্জা মঠেই ঈশ্বরের দেখা পাওয়ার কথা নয়। আমাদের মতো বাঙালিদের অন্তত এই বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের ধুলামন্দির কবিতাটির শরণ নেওয়া যেতে পারতো। কিন্তু না। আমরা কেউই তা করিনি। আমরা বরং ধর্মের ঠেকের কাছেই ঠেকে গিয়ে আটকিয়ে থাকতে অধিকতর স্বচ্ছন্দ। আর সেখান থেকেই আমাদের সমাজ ও রাজনীতির সূত্রপাত। ফলে, আজকের রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক পরিসরে ধর্ম ও রাজনীতি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। দুই দুইয়ের উপরে নির্ভরশীল। আর আমরা সেই অবস্থাকেই স্বতঃসিদ্ধ ধরে নিয়ে নিজেদের জীবনকে সেই মতো টিউনিং করে নিতে অভ্যস্ত। যিনি সেই অভ্যাসের দাসত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে প্রয়াসী হবেন। বাকি সমাজ তাঁকেই নাস্তিক অধার্মিক বলে দেগে দিয়ে একঘরে করতে উদ্যত হয়ে উঠবে। কেননা তেমনটি না করলে ধর্মীয় ঠেকগুলির ঠিকাদারিত্বে মুশকিল এসে দেখা দিতে পারে। বাকিরা যদি ঠেকের আওতার থেকে বেড়িয়ে যেতে উশখুস করে? তাহলে ধর্মই হোক আর রাজনীতিই হোক উভয়েরই সমূহ বিপদ। সেই বিপদের সুরক্ষা কবচ একটাই, অন্ধভক্তি। যুক্তিহীন প্রশ্নহীন আনুগত্য এবং দাসত্ব। না, শুধু ধর্ম আর রাজনীতিই নয়, বিশ্বায়িত পুঁজির আধিপত্যও ঠিক এই রকম প্রশ্নহীন অন্ধভক্তির আনুগত্য ও দাসত্ব দাবি করে। আজকের বিশ্বব্যবস্থা দাঁড়িয়েই আছে তাই প্রশ্নহীন আনুগত্যের দাসত্ব এবং অন্ধভক্তির উপরেই। তা সে ধর্মই হোক রাজনীতিই হোক আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই হোক।
১০ই জুলাই’ ২০২১
কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

