তাহলে কি আমরা রবীন্দ্রনাথেই আটকিয়ে গেলাম শেষমেশ?
তাঁর তিরোধানের পর আট আটটি দশক গত হয়ে গিয়েছে। মাত্র দুই দশক বাদেই তাঁর মৃত্যুও শতবর্ষ
পেরিয়ে যাবে। কিন্তু জাতিগত ভাবে বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথের অপরিহার্য্যতা একই জায়গায়
দাঁড়িয়ে থাকলে। বাঙালির পক্ষে সেটি কতটা সৌভাগ্যের আর কতটা দুর্ভাগ্যের। সেটি কিন্তু
সত্যই ভাবনার বিষয়। প্রতি বছরের মতোই বাঙালির আত্মশ্লাঘার দুইটি দিনের একটি, অর্থাৎ
সেই পঁচিশে বৈশাখে এসেও যদি আমরা এখনও এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতেই থাকি। তবে সেটি নেহাতই
দুর্ভাবনার বিষয়। রবীন্দ্রনাথ, বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন। সন্দেহ নাই। সেটি নিয়ে আমরা
প্রজন্মের পর প্রজন্ম গর্ব অনুভব করবো। অনুপ্রাণিত হব। অনুরণন অনুভব করবো। খুব ভালো
কথা। বিশ্বের অন্যান্য জাতিগুলিও যেমন তাঁদেরর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দ্বারা শতাব্দীর পর
শতাব্দী অনুপ্রাণিত হতে থাকে। সোফোক্লস থেকে দান্তে। সেকসপীয়র থেকে গ্যয়েথে। বোদলেয়র
থেকে পুশকিন। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় একটিই। ইউরোপের এই বিভিন্ন জাতিগুলির জীবনে এঁরা
কিন্তু কেউই আমাদের রবীন্দ্রনাথের মতো অপরিহার্য্য নন। তার প্রধান কারণ। ইউরোপের এই
সকল জাতিগুলি স্ব স্ব ক্ষেত্রে নিজেদের আইকন স্বরূপ মহাপুরুষদের কাছেই আটকিয়ে থাকে
নি। সেই সেই মহাপুরুষদেরকে পেরিয়ে, বহু ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে আরও অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে।
প্রশ্ন এখানে তাই একটাই। আমরা বাঙালিরা কি আদৌ। আমাদের নয়নের মণি সর্বোত্তম আশ্রয়স্থল
গুরুদেব রবীন্দ্রনাথকে পেরিয়ে যেতে সমর্থ্য হয়েছি? চেয়েছি কি চাইনি। সেটাও একটা বড়ো
প্রশ্ন হতেই পারে। কিন্তু মূল কথা, পেরেছি কি পারিনি, সেটাই।
অনেকেই ভাবতে পারেন। সফোক্লস থেকে দান্তে।
সেকসপীয়র থেকে গ্যয়েথে। বোদলেয়র থেকে পুশকিন। ইউরোপের জাতিগুলি যতটা সময় পেরিয়ে এসেছে।
রবীন্দ্রনাথ থেকে আমরা ততটা সময় এখনো পেরিয়ে আসতেই পারিনি। মাত্রই আটটি দশক আমরা রবীন্দ্রনাথকে
হারিয়েছি। ফলে ইউরোপের জাতিসমূহের সাথে আমাদের তুলনা করার সময় আসেনি এখনো। অর্থাৎ ঘটনাটি
সময় ঘটিত। এইভাবে ভাবতে পারলে অসুবিধে থাকে না। দিবানিদ্রা না হোক সুখনিদ্রায় কোনরকম
ব্যাঘাত ঘটে না। কিন্তু ঘটনাটি যদি সময় ঘটিত না হয়ে। বাঙালির প্রকৃতি ঘটিত হয়? তাহলে
কিন্তু, ভাবনার বিষয় রয়েছে বইকি। এখানে আরও একদল প্রশ্ন তুলতেই পারেন। সে কি করে হয়।
যেখানে রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই, আজ থেকে মোটামুটি এক শতাব্দী আগেই বাংলার কবি সাহিত্যিকদের
একটা প্রধান অংশ রবীন্দ্রনাথের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রথম থেকেই আদাজল
খেয়ে উঠে পড়ে লেগেছিল? আমাদের স্মরণে থাকবেই তাঁদের কথা। বুদ্ধদেব বসু থেকে জীবনানন্দ।
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত থেকে বিষ্ণু দে। অমিয় চক্রবর্তী থেকে সমর সেন। এঁদের প্রত্যেকেই
কিন্তু সম্পূর্ণ সজ্ঞানে এবং সচেতন প্রয়াসে রবীন্দ্রবলয়ের সর্বগ্রাসী প্রভাব থেকে নিজেদেরকে
মুক্ত করার যজ্ঞে সামিল হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস তার সাক্ষী। খুবই সত্যি কথা।
তাঁদের সেই সচেতন প্রয়াস বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে সন্দেহ নাই। কিন্তু তাঁরা কেউই
কি বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রোত্তর এমন কোন প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়েছেন। যাতে
জাতি হিসাবে আমরা রবীন্দ্রনাথকে পেরিয়ে অনেকটাই অগ্রসর হতে পেরেছি? এর একটাই উত্তর।
না। না, আর অন্যরকম উত্তর আমাদের হাতে নেই। বাঙালির সবচেয়ে বড়ো সমস্যা আসলে কিন্তু
সেখানেই। না, আমরা কোনভাবেই রবীন্দ্রনাথকে ছাড়িয়ে, তাঁকে পেরিয়ে আর এগোতে পারিনি। বাঙালি
আটকিয়ে গিয়েছে। তার একমেবদ্বিতীয়ম রবীন্দ্রনাথেই। হোক না মাত্রই আট দশক। অতিক্রান্ত
হয়েছে তাঁর তিরোধানের পর। একথা আজ স্বীকার করার সময় এসেছে। আমরা বাঙালিরা হয়তো প্রায়
কায়মনবাক্যেই আটকিয়ে রয়েছি। আমাদেরই রবীন্দ্রনাথে। যতই আমরা রবীন্দ্রনাথকে পুজো করার
ছলে রবীন্দ্রনাথকেই ভুলে থাকি না কেন। আমরা কিন্তু তাঁকে পেরিয়ে আর এগোতে পারিনি। অন্তত
এখনো। দিবানিদ্রা কিংবা সুখনিদ্রার যতই ব্যাঘাত ঘটুক না কেন। সেকথা যেন আর আমরা অস্বীকার
না করি।
আমাদের এই না পারার পেছনে। একটা ইতিহাস
রয়েছে। কবি’র কথা ধার করে বলাই যায়। আমাদের এই না পারার পিছনে প্রধান কারণ একটাই।
‘তোমার পুজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি’র মতোনই। আমরাও রবীন্দ্রপুজার ছলে ভুলে থেকেছি আমাদেরই
রবীন্দ্রনাথকে। আমরা কেবলই তাঁকে ভাঙিয়ে চলেছি। নিজের নিজের প্রয়োজন থেকে শুরু করে
সার্থ সিদ্ধির কাজে। সেটিকেই আমরা বলতে পারি ‘রবীন্দ্রপুজা’। কিন্তু আমরা রবীন্দ্রনাথকে
অন্তরে ধারণ করতে পারিনি। যদি পারতাম। তাহলে ঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যেত। রবীন্দ্রনাথে
আটকিয়ে না থেকে। তঁকে ছাড়িয়ে। তাঁকে পেরিয়ে যাওয়ার মতো দরকারি রসদ। মানুষটি নিজের হাতেই
আমাদেরকে জুগিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সঠিক পুষ্টি অর্জন করতে পারলেই আমরা সেই
পথটুকু খুঁজে পেতাম। যে পথে একটি জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকেও ছাড়িয়ে আরও অনেকটা দূর
এগিয়ে যেতে পারে। মানুষের সভ্যতার ইতিহাস তার সাক্ষী। বারে বারে। কালে কালে। দেশে দেশে।
এই একই ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র এক ইউরোপের দিকে তাকালেই আমাদের বুঝতে অসুবিধে হওয়ার
কথা নয়। কিভাবে ইংরেজরা সেকসপীয়রকেও ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছে। সেটা সেকসপীয়রের পুজোর
ছলে তাঁকে ভুলে গিয়ে সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়েছে, তাঁকে ভিতরে ধারণ করে। জাতিগত ভাবে নিজেদের
সমৃদ্ধ করে তুলতে পারার মধ্যে দিয়েই। সেটাকেই রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে পারা যায়। আত্মশক্তি।
এই আত্মশক্তি শুধুই ইংরেজরা অর্জন করেনি। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি জাতিই কোন না কোন ভাবে
অর্জন করতে সম্ভব হয়েছে। তাই গ্যয়েথেকে ছাড়িয়ে গিয়েও জার্মানরা ব্রেষটে পৌঁছাতে পেরেছিল।
দান্তেকে ছাড়িয়ে ইতালিয়ানরা মাইকেলাঞ্জেলোতে গিয়ে পৌঁছাতে পেরিছিল। ফরাসী আর রাশিয়ানদের
তো কথাই নেই। বোদলেয়র থেকে পুশকিন। জাতি হিসাবে এঁরা তাদের পেরিয়ে আরও কতদূর অগ্রসর
হয়ে গিয়েছে। সেকথা কম বেশি অনেকেই আমরা ভালো জানি।
একথা ঠিক। রবীন্দ্রনাথকে পেরিয়ে যাওয়া
তো দূরস্থান। বাঙালি এখনো রবীন্দ্রনাথেই আটকিয়ে রয়েছে। জন্মের প্রথম শুভক্ষণ থেকে শ্রাদ্ধবাসরের
অনুষ্ঠান অব্দি। এই মানুষটির কাছে গিয়েই আমাদের হাত পেতে দাঁড়াতে হয় আজও। দেশের স্বাধীনতা
আনার যজ্ঞে আত্মাহুতি দেওয়ার লগ্নে। ফাঁসীকাঠে ঝোলার পূর্বেই হোক। আর হানাদার বৈদেশিক
শত্রুর হাত থেকে নিজেদের দেশকে মুক্ত করার মুক্তিযুদ্ধই হোক। রবীন্দ্রনাথই বাঙালির
শেষ আশ্রয়স্থল। বল এবং ভরসা। শিক্ষিত শ্রেণীর বাঙালির জীবনে যতই দুঃখের তিমির রাত্রি
ঘনিয়ে আসে। ততই এই মানুষটির কাছে গিয়ে নিজের সমস্ত রিক্ততা আর দীনতা নিয়ে দাঁড়াতে হয়।
দুহাত পেতে। ভরসা একটাই। আমাদের সমস্ত রিক্ততা, সমস্ত দীনতায় শুশ্রূষার উপশম এই একজনের
কাছেই রয়েছে। অফুরান। এমনটি আর অন্য কোন বাঙালির ঝুলিতে নেই। হ্যাঁ। দুঃখের বিষয় হলেও।
প্রায় প্রতিটি বাঙালিই সেই সত্য সম্বন্ধে অবহিত। এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। এটি
নতুন কোন কথা। বাঙালি মাত্রেই এই বাস্তব সত্যটুকু সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। ফলে
আমরা চাই বা না চাই। আমাদেরকে অনেকটাই কলুর বলদের মতোই ঘুরপাক খেয়েই যেতে হচ্ছে। একমেবদ্বিডীয়ম
রবীন্দ্রবলয়ের চারপাশেই।
আশা করা যায়, একথা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ
থাকার কথা নয়। একটি জাতি যত দিন, যত কাল একজন মহাপুরুষের প্রভাবের খুঁটিতে বাঁধা থাকবে।
ততদিন সেই জাতি’র মুক্তি নেই। উন্নতি নেই। সেই জাতির জীবনে স্থবিরতা আসতে বাধ্য। অর্থাৎ
জাতির জীবনেই হোক। আর সম্প্রদায়ের জীবনেই হোক। শ্রেষ্ঠ সন্তানকেও ছাড়িয়ে, পেরিয়ে এগিয়ে
যাওয়াই একটি জাতিকে কিংবা সম্প্রদায়কে বাকিদের থেকে অনেক দূর এগিয়ে দেয়। কিন্তু যাঁরা
কোন একজন মহাপুরুষের খুঁটিতে একবার বাঁধা পড়ে যায়। তাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া ছাড়া
আর উপায় কি? বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ যতটা অপরিহার্য্য। তেমনটি আর কেউ নন। কিন্তু
সুখের কথা, ইংরেজদের জীবনে শুধুই সেকসপীয়র, ইটালিয়ানদের জীবনে শুধুই দান্তে, জার্মানদের
জীবনে শুধুই গ্যয়েথে, রাশিয়ানদের জীবনে শুধুই পুশকিন তেমনটি অপরিহার্য্য নন। আমাদের
রবীন্দ্রনাথের মতো। আবার তার মানে এও তো নয়। রবীন্দ্রনাথ একাই এঁদের সকলকে ছাড়িয়ে আরও
বড়ো এমন এক অমোঘ উচ্চতায় উঠে বসে রয়েছেন যে। তাঁর সাথে আর কারুর তুলনা চলে না। যদি
সত্যিই ঠিক তেমনটিই ঘটতো। তবে আমাদের রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের প্রতিটি জাতির জীবনেই অপরিহার্য্য
হয়ে উঠতেন। তেমনটি কিন্তু ঘটেনি। ঘটেও না কোনদিন। বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথের এই অমোঘ
অপরিহার্য্যতাই বাঙালির কাল হয়ে উঠছে না তো? অন্তত স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ, আমাদের জন্য
যে ঐতিহ্য এবং উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছিলেন। তাতে কিন্তু তেমনটি হওয়া উচিত ছিল না। আমরা
বাঙালিরা জাতি হিসাবে, ব্যক্তি হিসাবে নয়। যদি সেই ঐতিহ্য এবং উত্তরাধিকারকে ধারণ করতে
সক্ষম হতাম। তবে কিন্তু রবীন্দ্রনাথের এই অমোঘ অপরিহার্য্যতার চক্রব্যূহের ভিতর থেকে
বার হতে পারতাম। দুঃখের বিষয়, বাঙালি জাতি সেই অত্যন্ত দরকারি কাজটি করতে সক্ষম হয়নি।
সে রবীন্দ্রবলয়ের অপরিহার্য্যতার চক্রব্যূহেই আটকা পড়ে গিয়েছে। ব্রিটিশ আমলের চিরস্থায়ী
বন্দোবস্তের যুগে। বেশ কিছু জমিদারদের উত্তরপুরুষ, পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ধন সম্পত্তি
ভাঙিয়ে খেতে খেতে একদিন দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। আমাদের বাঙালি জাতির অবস্থাও কি সেই দিকেই
এগিয়ে চলেছে না? পিতৃপুরুষের রেখে যাওয়া ধনকে কি করে আরও বাড়িয়ে তোলা যায়। সেই চেষ্টা
না করে। কেউ যদি সেই ধন ভাঙিয়েই চালিয়ে যেতে থাকে। তবে রাজার গোলাও একদিন নিঃশেষ হয়ে
যেতে বাধ্য। রবীন্দ্রনাথ আমাদেরকে যা দিয়ে গিয়েছেন। তা নিঃশেষ না হলেও। আমরা যেভাবে
তাঁকে ভাঙিয়ে ভাঙিয়ে নিজেদেরকে ভুলিয়ে রেখে চলেছি। তাতে আর যাই হোক আমাদের কোন সম্পদবৃদ্ধি
হচ্ছে না নতুন করে। অর্থাৎ আমরা রবীন্দ্রনাথের পর অন্য কোন দিশায় গিয়ে আর পৌঁছাতে পারিনি
আজও। সেই একই রবীন্দ্রবলয়ের ভিতরে বসে বসে আমাদের দিন কেটে যাচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম
ধরে। আমরা বলতে চাইছি। ‘এ বড়ো সুখের সময় নয়’। এ মোটেই কাজের কথা নয়। বাঙালির জাতীয়
জীবনে এ কোন গর্বের বিষয়ও নয়।
বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ গর্বের বিষয়
সন্দেহ নাই। কিন্তু আজ যদি তিনি ফিরে আসতে পারতেন। তবে তাঁর নিজের জাতিকে নিয়ে গর্ব
করার মতো কোন অবলম্বন তাঁর থাকতো কি? এই একটা অতি মূল্যবান প্রশ্ন। ইংরেজদের জীবনে,
ফরাসীদের জীবনে, ইটালিয়ানদের জীবনে, জার্মানদের জীবনে, রাশিয়ানদের জীবনে। আজ যদি সেকসপীয়র
বোদলেয়র দান্তে গ্যয়েথে পুশকিনরা ফিরে আসতে পারতেন। তবে তাঁদের স্ব স্ব জাতিকে নিয়ে
গর্ব করার মতো বহু অবলম্বন তাঁরা খুঁজে পেতেন। পরিতাপের কথা। রবীন্দ্রনাথের কিন্তু
সেই সৌভাগ্য হতো না। বাঙালির জীবনে এমনই তাঁর অপরিহার্যতা যে, বাঙালি তাঁকে ছাড়িয়ে,
তাঁকে পেরিয়ে আর এগিয়ে যেতে পারেনি। পারেনি এমন কোন সম্পদ তৈরী করতে। পারেনি এমন কোন
নতুন ভুবন গড়ে তুলতে। যেখানে জাতি হিসাবে বাঙালির একটা আশ্রয় জোটে। যেমনটা জোটে রবীন্দ্রনাথে।
এরপরেও যদি কেউ মনে করতে চান। ক্ষতি কি। আমাদের তো রবীন্দ্রনাথই রয়েছেন। সেই মহা আশ্রয়
ছেড়ে আমরা অন্য কোন আশ্রয়ে পৌঁছাতে যাবই বা কেন? তবে সত্যিই কিছু বলার নেই। কেউ পিতৃপুরুষের
জমিদারীতে বসে খেতে চাইলে। তাকে যেমন বাঁচানো যায় না। ঠিক তেমনই যতদিন বাঙালি রবীন্দ্রানাথকেই
অপরিহার্য্য জ্ঞানে, তাঁকে ভাঙিয়ে ভাঙিয়ে চলতে চাইবে। ততদিন বাঙালিকেও কেউ উদ্ধার করতে
পারবে না।
২৫শে বৈশাখ ১৪৩০
কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

