বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের পিঠস্থান বাংলাদেশ



বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের পিঠস্থান বাংলাদেশ

আবার বাংলাদেশ। আবার প্রকাশ্য দিবালোকে সংস্কৃতিমনা নিপাট নিরীহ ভদ্রলোক খুন নৃশংস ভাবে। ধারালো অস্ত্রের কোপে। আবারো চাপাতি সংস্কৃতির আস্ফালনে শিরোনামে বাংলাদেশ। এবার শিকার একজন শিক্ষাব্রতী ছাত্রদরদী জনপ্রিয় অধ্যাপক। হ্যাঁ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একজন শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে ক্লাস নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শহরের শালবাগান এলাকায় হামলার শিকার হন ইংরেজির অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী (৫৮)। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  গত এক যুগে এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক খুন হলেন। খবরে প্রকাশ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর শালবাগান এলাকায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শালবাগান বাজার মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টা ৪০ মিনিটের বাস ধরার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হয়ে প্রায় ১৫০ গজ যাওয়ার পরই নৃশংস খুনের শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, কিছু দূরে মোটরসাইকেল রেখে তিন যুবক হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে আবার মোটরসাইকেলে করেই পালিয়ে যায়। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদ্দিন জানিয়েছেন, বোয়ালিয়া থানার শালবাগান এলাকার নিজ বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন অধ্যাপক রেজাউল। কাল সকালে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন তিনি। পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে ব্লগার হত্যার ধরনের সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হাতে তিনি খুন হয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা নজরদারির ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ গতকাল এক টুইটার বার্তায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরিচালিত আমাক নিউজ এজেন্সির বরাতে জানিয়েছে, অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। টুইটার বার্তায় বলা হয়, ‘নাস্তিকতার দিকে আহ্বান জানানোর’ দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপককে হত্যা করেছে আইএস। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এর আগে অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করেছিল আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লা বাংলা টিমের নতুন নাম)। স্বজন-সহকর্মীদের দাবি, সংস্কৃতিমনা নিভৃতচারী পরোপকারী শিক্ষক রেজাউল করিমের কোনো শত্রু ছিল না। কেউ কখনো হুমকি দিয়েছে বা তাঁর জীবন হুমকির মধ্যে ছিল, এমন কিছুও কেউ কখনো শোনেননি। এর আগেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন। এ নিয়ে গত ১২ বছরে চার শিক্ষক খুন হলেন।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা যাচ্ছে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী আদৌ ইসলাম বিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এমনটা নয়, কিংবা তিনি ছাত্রসমাজে নাস্তিকতার প্রচারক ছিলেন এমনও নয়। তাহলে? কোথাও কি একটা কিন্তু থেকে যাচ্ছে না? যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক যে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই যে বলা হচ্ছে নাস্তিকতার প্রচারের দায়ে আইএস তাদের পরিচালিত আমাক নিউজ এজেন্সিতে এই খুনের দায় স্বীকার করেছে, সেই খবরের সত্যতাও কি তবে তদন্ত সাপেক্ষ? এইখানেই কিন্তু জড়ো হচ্ছে অনেক ধোঁয়াশা। ধোঁয়াশা জড়ো হওয়ার কারণ, অধ্যাপকের মতো নির্বিবাদী মানুষকেও যে কেউ এই রকম নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করতে পারে সে কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর পরিবারের কেউই। বিশ্বাস করতে পারছেন না রাজসাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁর সহকর্মী থেকে ছাত্রছাত্রীদের কেউই। সদ্য স্বামী হারা হোসনে আরার মতে মানুষটির কোন শত্রু ছিল না কোনদিন। রেজাউল করিমের ছোট ভাইয়ের কথায় জানা যায় কোন মানুষকে তিনি কোনদিন নিরাশ করে ফিরিয়ে দেন নি। সহজ সরল সুন্দর মানুষটিকে এলাকার সবাই যে খুব শ্রদ্ধা করতো সে কথাও জানান ভাই সাজেদুল করিম। একমাত্র ছেলে ইমতিয়াজ সৌরভ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল বিভাগের শেষ পর্বের শিক্ষার্থী বিশ্বাসই করতে পারছে না যে তার বাবাকে কেউ হত্যা করতে পারে আদৌ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেওয়া কন্যা রিজওয়ানা হাসিন শতভি জানায় শত্রু তৈরি হতে পারে, এমন কোনো কথাও তিনি বলেননি ও কাজও তিনি কখনো করেননি। এমন কি তিনি না কি কখনো কাউকে আঘাত দিয়ে কথাও বলতেন না। রেজাউল করিমের খুড়তুতো বোন স্কুল শিক্ষিকা জাহানারা বেগম জানান রেজাউল করিম তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জের দরগামারিয়া গ্রামে প্রায়ই যেতেন। সবার সঙ্গে মিশতেন। গ্রামে ঘুরে ঘুরে লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান সংগ্রহ করতেন। ভিডিও করতেন। গ্রামের শিশুকিশোরদের জন্য তিনি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষকও রেখে দেন গান শেখাতে। তিনি মসজিদ-মাদ্রাসাতেও নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। এহেন সমাজবন্ধু মানুষকেও নৃশংস ভাবে কেন খুন হতে হবে কিছুতেই বুঝতে পারছেন না আত্মীয় পরিজন সহ চেনা পরিচিত সকলেই। এদিকে পুলিশ কমিশনারের মতে সারা দেশে ধারাবাহিক ব্লগার হত্যার ধরণের সাথে এই খুনের মিল থাকায় যদি ধরেই নেওয়া যায় যে এই কাজ উগ্রপন্থী মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীদেরই কাজ তাহলে তো প্রশ্ন জাগে যে মানুষটি ঘোষিত ভাবে মৌলমাদের বিরুদ্ধেও কোন কথা উচ্চারণ করেন নি তাঁকে কেন মৌলবাদের টার্গেট হতে হবে? ধোঁয়াশা এখানেই। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জঙ্গি তৎপরতা নজরদারির ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যই যদি মেনে নিতে হয়, তবে এ কথাও তদন্ত করে দেখতে হবে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী কি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নাস্তিকতার প্রচার করতেন তলায় তলায়? আবার তাঁর খুড়তুতো বোনের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী সেই মানুষই নিজ গ্রামে মসজিদ মদ্রাসাতেও নিয়মিত অর্থ সাহায্যও করতেন। দুটোই তো একসাথে হতে পারে না। সঠিক তদন্ত করে দেখা দরকার নৃশংস এই খুনের আসল মোটিভ কি ছিল?

কিন্তু আসল মোটিভ যাই থাকুক, এই হত্যার সমাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত কিন্তু খুবই স্পষ্ট। এমন কি যদি প্রমাণও হয়, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ের মতোন লোক চিনতে ভুল করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, যে সম্ভবনা প্রায় নেই বললে চলে তাহলেও এই ঘটনার সমাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত একচুলও এদিক ওদিক হওয়ার নয়। বাংলাদেশের সমাজ রাজনীতিতে এই বার্তাটি এখন খুবই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, সে দেশে বেঁচে বর্ত্তে থেকে বসবাস করতে হলে ইসলামিক মৌলবাদের আস্ফালনের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করা যাবে না। করলেই ঘ্যাঁচাং ফুঁ- এক কোপে ধর থেকে মাথা নেমে যাবে পায়ের তলায়। ও আমার দেশের মাটি তোমার পায়ে নোয়াই মাথা বলে। শুধু তাই নয়, সমাজের এক বৃহৎ অংশের সরাসরি সমর্থনও পেয়ে যাবে সেই হত্যা। ধারবাহিক ব্লগার হত্যায় যে সমর্থনের চাপা ঢেউ সারা দেশের সর্বত্র ব্যাপ্ত থাকতে দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে। আর এইখানে সফল ভাবে সংঘটিত হয়েছে দেশব্যাপি ইসলামীকরণের চার দশক ব্যাপি সংগঠিত প্রয়াস। যে প্রয়াসের অপর নাম জামাতে ইসলামের হাত ধরে গড়ে ওঠা ইসলামী মৌলবাদ। এই সেই জামাতে ইসলাম, শাহবাগ আন্দোলনের উত্তুঙ্গ ঢেউতে ওঠা জামাতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করার যে সোচ্চার দাবির বিরুদ্ধে বৃটিশ পররাষ্ট্র দফ্তর থেকেই সুষ্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছিল যে তারা কাউকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। অথচ দুনিয়া জুড়ে এই ইঙ্গমার্কিণ শক্তিই একের পর এক ইসলামী সংগঠনকে বিশ্বব্যাপি নিষিদ্ধ করে বেড়ায়। আর সেদিনই থলের ভিতর থেকে বেড়িয়ে পড়েছিল ধেড়ে বেড়ালটি। যে ধেড়ে বেড়ালের কালো নজর এখন বাংলাদেশের ওপর।

যাঁরাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির খবরাখবর রাখেন, তাঁরাই জানেন এই ইঙ্গমার্কিণ শক্তির সামনে বর্তমানে একটাই চ্যালেঞ্জ, কি করে গণচীনের অন্যতম বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠা আটকানো যায়। আর সেই লক্ষ্যেই নানার প্রক্রিয়ার অন্যতম হল চীনের সীমানার ধারেকাছে সমস্ত দেশে এই শক্তির সামরিক চেকপোস্ট বসাতে থাকা। যে কারণে পশ্চিমে পাকিস্তান পর্যন্ত অঞ্চলে এই কাজটি ইতিমধ্যেই সুসমপন্ন হয়ে গিয়েছে। আর সেই লক্ষ্যেই চট্টোগ্রামে মার্কিণ নৌবাহিনীর একটি বড়োসড়ো ঘাঁটি গড়ে তোলা এই শক্তির পক্ষে খুবই জুরুরী। কিন্তু সেইটি করলে স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যে আদৌ সহজে মেনে নিতে চাইবে না এই শক্তি সে কথা বিলক্ষণ জানে। বিশেষ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এই শক্তির বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপের বৃত্তান্ত আবার নতুন করে গোটা দেশকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মার্কিণ বিরোধী করে তুলতে পারে। সেই জন্যেই সাপও মড়বে আবার লাঠিও ভাঙ্গবে না এমন রাস্তাতেই এগোতে হলে এই শক্তির স্বার্থে বাংলাদেশের ইসলামী মৌলবাদের হাতে আত্মসমর্পণ খুবই জরুরী। জরুরী কেননা বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিকে ধীরে ধীরে তালিবান মডেলে রুপান্তরিত করে তুলতে পারলে জামাতে ইসলাম ও তার সহযোগী ইসলানিক মৌলবাদী শক্তিগুলির পক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও পরিচালনা সহজ হবে। দেশের বৃহৎ অংশের সমর্থনেই এই মৌলবাদী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতার দখল নিতে পারবে। পারবে বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় বর্ররতার দিকে ঠেলে দিতে। আর তরপরই ঠিক আফগানিস্তানের মডেলের মতো বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নব্য আতুঁড় ঘর বানিয়ে ফেলতে পারলেই কেল্লা ফতে! তখনই তো বাংলাদেশকে নতুন করে গণতন্ত্রের মধু খাওয়াতে ইসলামিক মৌলবাদের হাত থেকে দেশটিকে উদ্ধারের ছুতোয় মেরিন সৈন্য নামানো যাবে সোনার বাংলার নরম নাটিতে। তখন চট্টোগ্রাম হয়ে উঠবে দক্ষীণ এশিয়ায় ইঙ্গমার্কিণ শক্তির বৃহৎ নৌঘাঁটি। যেখান থেকে চীনকে রাখা যাবে বুড়ো আঙ্গুলের ডগায়। তর্জনীর শাসানির আওতায়!

হ্যাঁ এই নীলনকশাকেই সফল করে তুলতে গেলে বাংলাদেশকে ইসলামী মৌলবাদের দিকে ঠেলে দিতেই হবে। নয়ত সম্ভব হবে না দ্বিতীয় আফগানিস্তান বানানো। কিন্তু কি ভাবে সফল হতে পারে এই ইসলামী মৌলবাদের দিকে একটি গোটা জাতিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত? পথ একটাই, জাতির মেধা সম্পদকে নষ্ট করে দেওয়া। কিভাবে সম্ভব সেটি? একদিকে বুদ্ধিজীবি হত্যার মতো প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিক ভাবে জারি রাখা, অন্যদিকে কোটি কোটি জনসম্পদকে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বন্দি করে মেধাশুন্য রোবট তৈরী করে তোলা। যারা ধর্মগুরুদের কথায় প্রাণ বাজী রেখেও যে কোন হুকুম পালনে পিছপা হবে না। আর এই রোবটদেরকেই ব্যবহার করে জাতির বাকি অংশকে ভয়ে বিবর্ণ করে নিশ্চুপ করে রাখা সহজ হবে। আর ঠিক এই প্রক্রিয়ার কাজটিই চলছে আজকের বাংলাদেশে। নাস্তিক নিধনের হুজুগটা এই কারণেই তোলা হয়েছে। যাতে এই বীভৎস প্রক্রিয়াটি সুচারু ভাবে চালানো যায় মাখনের মধ্যে ছুরি চালানোর মতো করে। সমাজদেহে যখন এই কাণ্ড চলতে থাকে তখন মধ্যমেধাদেরও পোয়াবারোর সময়। তারাও সেই সুযোগে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়ার জন্যে একটা বড়ো ময়দান পেয়ে যায়। যে ময়দানের অপর নাম সংসদীয় গণতন্ত্র। কিন্তু মৌলবাদ যখন ক্ষমতার চেয়ারটি সরাসরি দখল করে নেবে সেদিন এই মধ্যমেধাদেরও হয় কট্টর মৌলবাদী হয়ে উঠতে হবে নয় জনগণের ভিড়ে লুকিয়ে পড়তে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্তরালে তার সমাজদেহের পরতে পরতে আজ এই ঘটনাই ঘটে চলেছে ধীরে ধীরে কিন্তু সুনিশ্চিত ভাবেই। তাই অধ্যাপক রেজাউল করিম নাস্তিকতার প্রচার করেই থাকুন আর নাই করে থাকুন, মসজিদ মাদ্রাসায় নিয়মিত অর্থ সাহায্য দিয়েই থাকুন আর না থাকুন, তিনি দেশের মেধাসম্পদের অন্যতম প্রতিনিধি সরূপ। তাই তাঁর মাথাটা প্রকাশ্য দিবালোকে ধর থেকে নামিয়ে দিলে জনগণকে বার্তাটাও সুস্পষ্ট দেওয়া যায়, আর দেশটিকে মেধাশূন্য করে তোলার ধারাবাহিক কাজটিকেও সফল ভাবে জারি রাখা যায়। এবং কোটি কোটি রবোটদেরও আরও সণ্গবদ্ধ করে তোলার কাজটিও সুসম্পন্ন হয়। কারণ এই রোবটরাই ধর্মীয় মৌলবাদের নাটবল্টু সরূপ। যে ধর্মীয় মৌলবাদের হাতে ভর দিয়েই সম্ভব হবে ইঙ্গমার্কিণ শক্তির স্বার্থরক্ষা। তাই এই হত্যাযজ্ঞ যেমন চলছে, তেমনই চলতে থাকবে। শুধু একটা সময় আসবে যখন আর সংখ্যা গণনার আওতায় থাকবে না হত্যাগুলি। সেদিন কিন্তু খুব বেশি দূরে নাই।

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত