নাক
নাক। না, করোনাকালে সেই নাক দিয়েও
কুলানো যাচ্ছে না বলেই, দুনিয়া জুড়ে সমাজ সংসার সভ্যতায় উথাল পাতাল চলছে। না’কের মূল
কাজের বাইরেও আরও কিছু কাজ পড়ে থাকে। আমাদের বাঙালি সমাজে আঁতুর ঘরে নবজাতিকার নাক
একটু এদিক ওদিক হলেই অভিভাবকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। নাকের গড়ন দিয়েও সমাজে
মানুষের পরিচিতি’র একটি চল আমাদের গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। খাঁদা
নাক, বোঁচা নাক। চ্যাপ্টা নাক। থ্যাবড়া নাক। লম্বা নাক। বেঁটে নাক। টিকালো নাক। বাঁকানো
নাক। এমন কত কি। যার যেমন নাক। তার তেমন পরিচিতি। হয়তো সামনা সামনি তাকে তার নাকের
বিশেষত্ব দিয়ে ডাকা হয় না। কিন্তু অন্যদের সাথে কথোপকথনে সেই নাক দিয়েই বিশেষ কাউকে
উল্লেখ করার চল আমাদের সমাজে বহ প্রাচীন। ফলে মানুষের পরিচিতির সাথেও নাকের একটা যোগাযোগ
আমরা ঘটিয়ে থাকি। অনেক সময়েই।
পাত্রী দেখার আসরে, আমাদের
চোখে প্রথমেই নাক যদি একটা বড়ো হার্ডল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তবে বাকি সব গুণাবলীই কেমন
পানসে হয়ে ওঠে। দমে যাওয়া মন নিয়ে ভালোবাসায় দম দিতে পাত্র হিসাবেও আমাদের দম ফুরানোর
জোগার হয়। নাকের এদিক ওদিকে মেয়েদের জীবনে অনেক কিছুই এদিক সেদিক হয়ে যেতে পারে। হাতছাড়া
হয়ে যেতে পারে অনেক কিছুই। বিশেষত সিনেমা সিরিয়ালে নামতে গেলেও নাকের উপর অনেক কিছুই
নির্ভর করে। একটা নাকই পারে কাউকে হিরোইন বানিয়ে দিতে। কাউকে বা সাইড এক্টর। অভিনয়
গুণাবলীর থেকেও নাকের মাপজোক সেখানে অনেক বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে নাকের সুবিধাও
যেমন আছে। অসুবিধাও তেমনই রয়েছে। সবটাই নির্ভর করছে নাকের উপরেই।
সংসারেও আবার গৃহকর্ত্রী
নাক অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অন্তত পীড়িত পতি পরিষদের সদস্য মাত্রেই জানেন সে
কথা। গৃহকর্ত্রীর নাকের মহিমা। এক নাক নাড়তে নাড়তেই গোটা সংসার মাথার উপরে নাচিয়ে রাখতে
এঁদের জুড়ি নাই কোন। সংসারে এমন কোন বিষয় নাই। যেখানে নাক না গলিয়ে নিশ্চিন্তে দুদণ্ড
বসে থাকতে পারেন এনারা। শুধু যে নাক গলানোই তাই নয়। সমস্ত কিছুকে নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণে
রাখতেও এঁদের নাকের ভুমিকা অগ্রগণ্য। ফলে দজ্জাল গৃহকর্ত্রীদের নাকের হাত থেকে পরিত্রাণ
নাই পীড়িত পতি পরিষদের কোন সদস্যদের। শুধুমাত্র ভুক্তভুগীদের নিজেদের ভিতরে মন হালকা
করা ছাড়া এই পরিষদের তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়ে না কারুর। এবং মন হালকা করে বাড়ি
ফিরে সেই নাক নাড়া গৃহকর্ত্রীর আঁচলেই আশ্রয় নিতে হয়। গৃহশান্তি বজায় রাখতে।
নাক গলানোর বিষয়ে, বাঙালি
গৃহকর্ত্রীদের দুরন্ত পারফর্ম্যান্স আবার নিজের সংসারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাড়ার প্রতিটি
ঘরেই এনাদের নাক লম্বা হয়ে সেঁধিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় রাখে। কার ঘরে
শাশুরী বৌমার মন কষাকষি। চল গিয়ে আগুনে একটু ঘি ঢেলে দিয়ে আসি। কার স্বামী পরস্ত্রীর
পিছনে ধরছে। চল তার নিজের স্ত্রীর মনটা আরও একটু বিষিয়ে দিয়ে আসি। ওদের ঘরে সরিকি বিবাদ
লেগেছে? নারদ নারদ। নাক না গলালেই নয়। কোন এক পক্ষের বন্ধু সাজতে দাও দৌড়। কার মেয়ে
কোন ছেলের সাথে পালিয়েছে? তবে তো দেখতেই হয় বিষয়টা। দিশাহারা মায়ের মনকে আরও বেশি দিশাহারা
না করলে আর নাক গলানোর মজাই বা কি? তাই নিজের ঘর সামলিয়ে অন্যের ঘরের টিকেয় আগুন লাগলে
তাতে একটু কুলোর বাতাস দিয়ে আসতে নাক নাড়া গৃহকর্ত্রীদের দক্ষতার কোন তুলনা হয় না।
না শুধু এনাদের দক্ষতার
গুণকীর্তনেই থেমে গেলে। সে বড়োই এক পেশে বিচার হবে। নাক গলানোর বিষয়ে আমাদের বাংলার
সমাজের সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের আঁতুর ঘরই ছিল পাড়ার চণ্ডীমণ্ডপ। বাঘা বাঘা
সব সমাজপতিরা নিদান দিতেন। কার জীবন কিভাবে কাটবে। কে কার সাথে থাকবে। কারা সমাজচ্যুত
হবেন। কার জাত মারা হবে। কে একঘরে হবে। আর কাকে মাথায় তুলতে হবে। গ্রাম জীবনের সকল
বিষয়েই এঁদের নাক গলানোর অধিকার চলে আসছে আবহমান কাল থেকে। যত বড় নাক। তত বড়ো সমাজপতি।
তার নাক গলানোর অধিকারও তত বেশি। আর সেই নাক গলানোর অধিকারের ভিত্তিতেই সমাজে তার প্রভাব
প্রতিপত্তি। মান সম্মান। চলন বলন ঠাট। এটাই ছিল সেদিন পর্য্যন্ত গ্রাম বাংলার সমাজ
সংস্কৃতির ভিত। চণ্ডী মণ্ডপের দাওয়ায় বসেই নাক গলানোর কার্যক্রম চলতে থাকতো। সেটাই
ছিল সেদিনের সমাজের অলিখিত সংবিধান। আর তার রীতিনীতি না মানলেই সর্বনাশ। ভিটে ছাড়া।
পাড়া ছাড়া। গ্রাম ছাড়া। এমন কি ভবলীলা ছাড়াও হতে হতো। বাঘা বাঘা এইসব সমাজপতিদের নাক
এতই লম্বা ছিল। আর তাদের নাক নাড়ার দাপট এমনই প্রবল ছিল যে, তাদেরকে বাদ দিয়ে সমাজের
এক পা চলারও উপায় ছিল না।
যদিও এনাদেরই নাকের ডগা
দিয়ে রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ করে ছিলেন। আর মহামতী বিদ্যাসাগর চালু করেছিলেন
বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন। জানি যাঁদের এতক্ষণ গোঁসা হচ্ছিল। তারাই এবার
তর্ক করবেন এই বলে যে, এই দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বও তো মশাই সেই নাকই গলিয়ে ছিলেন,
নাকি। নাক না গলালে এমন দুইটি অসামাজিক কাজ তাঁরা সেই যুগে করতে পারতেন কি? হ্যাঁ সেই
যুগে সতীদাহ নিবারণ বিধবা বিবাহ প্রচলন স্ত্রী শিক্ষা বিস্তার, এই সবই কিন্তু ছিল অসামাজিক
কাজ। অন্তত চণ্ডীমণ্ডপের সেই বাঘা বাঘা সমাজপতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলার সমাজ জীবনে।
আমাদের ভাগ্য ভালো। বিশেষ করে আমাদের প্রত্যেকের ঘরের মা বোন স্ত্রী’দের। যে, সেই যুগে
এমন অসামাজিক কাজগুলি এনারা না করে গেলে, আজও কিন্তু তাঁদের ভাগ্য সেই তিমিরেই পড়ে
থাকতো। ফলে নাক গলানো মানেই যে খারাপ তাও নয়। এই যেমন। নাক গলিয়ে যদি নিজের স্বামীকে
আঁচলবন্দী করেই রাখা যায়। তাতে তো সংসারেরই শান্তি। মঙ্গল। এমন যুগও তো ছিল। যখন গৃহলক্ষ্মীদের
এই নাক গলানোর অধিকার ও শক্তি না থাকায়, বাংলার বাবু সমাজের ভোর হতো রক্ষিতাদের কোলে!
সামজটাকে সেখান থেকে অনেকটাই তো উদ্ধার করা গিয়েছে। ফলে নাক গলানোর অনেক ভালো দিকও
রয়েছে কিন্তু। গৃহকর্ত্রীদের গোঁসা হওয়ার কারণ নাই।
তো সেই নাক গলানোর বিষয়টিকে
আধুনিক বাংলায় যাঁরা অত্যাধুনিক করে তুলেছিলেন। ইতিহাসের পাতায় নাকি আজ ঠাঁই হয়েছে
তাদের। অন্তত তাঁদের অপনেন্টরা তেমনই তো বলে থাকেন। সত্যাসত্যের ভার নেবে ভাবীকাল।
কিন্তু এটা ঠিক। বাংলার তথাকথিত লাল ঝাণ্ডাধারীরা, পাড়ায় পাড়ায় এই নাক গলানোর কার্যক্রমটাকে
ক্ষমতায় থাকার তিন দশকে একেবারে শিল্পের পর্যায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কার বাড়ির জমির ভিতরে
দিয়ে পাবলিক নর্দমার জল বয়ে যাবে। কার জমির কতটুকু অংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
কার ঘরে কে পরস্ত্রী নিয়ে থাকতে পারবে। আর কে পারবে না। কাদের দাম্পত্য বিবাদ কতদূর
গড়াবে। কে কার কোমর ধরে পথে চলতে পারবে। আর কে পারবে না। পাড়ায় কার কথায় ভোর হবে। আর
কার কথায় হবে না। এমনই বিবিধ সব বিচিত্র বিষয়ে লাল ঝাণ্ডার লম্বা নাকের কেরামতি ছিল
দেখার মতো। এবং সেই নাকের দাপটে সত্যি করেই বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতে হতো অধিকাংশ
সময়েই। কোন কলেজের কোন সংসদে কোন ইউনিয়ন জিতবে। আর জিতবে না থেকে শুরু করে। কোথায় কার
বিরুদ্ধে কোন গোঁজ প্রার্থী দাঁড়াবে আর দাঁড়াবে না। এমনকি। কার এফআইআর কোন থানা নেবে।
আর কোন থানা নিতে পারবে না। লম্বা নকের দৌড় থানা অব্দিই অবাধে পৌঁছিয়ে যেত। ভোটার লিস্ট
কার কার নাম উঠবে আর কাদের নাম বাদ যাবে। কোন কোন বুথে ছাপ্পা পড়তে শুরু করবে কটার
পর থেকে। কোন কোন বুথে দাদা বৌদিরা হাসতে হাসতে কোন চিহ্নে ভোট দিয়ে যাবে। সব কিছুই
সেদিনের সমাজতান্ত্রিক নাকের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। নামে ও কাজে সত্যই কোন পার্থক্য ছিল
না। সমাজের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়াই তো সমাজতন্ত্র নাকি।
না লাল ঝাণ্ডা অস্তমিত।
সেদিন আর নাই। অনেকেরই একটা ভুল ধারণা রয়েছে। সিঙ্গুর নন্দীগ্রামই বুঝি লাল ঝাণ্ডার
অস্তাচলের কারণ। তারা আসলেই ভিতরের খবর রাখেন না। দীর্ঘদিন ধরে একভাবে একই নাকের দৌড়ে
নাকাল হতে হতে মানুষের ভিতরে সেই নাকের নাগাল কিছুটা হলেও ছেঁটে দেওয়ার বাসনাই যে কাজ
করে নি। সেকথা হলপ করে বলতে পারে না কেউই। কিন্তু মানুষ জানে না। নাক এমনই একটি অমোঘ
শক্তি। একবার সে যদি নাক গলাতে শুরু করে দেয়। তবে মালিক পাল্টিয়ে গেলেও নাকের নাক গলানোর
সংস্কৃতি পাল্টিয়ে যায় না। তাই ঝাণ্ডার পরিবর্তনের হাত ধরে, নাকের মালিক বদলিয়ে গেলেও।
নাকের নাক গলানোর দৌরাত্ম্য থামানো যায় নি। বরং আরও বিবিধ উপায়ে নানান দিকে সেই দৌড়াত্ম্য
আজ গোটা সমাজটাকে অক্টোপাসের মতো গিলে ধরেছে। কার বাড়িতে কোন দোকানের ইট যাবে। কে কোন
দরে কার বালি ঘরে তুলবে। কার জমি বিক্রীর কত টাকা কার পকেটে গুঁজে দিতে হবে। কোন চাকরি
পেতে কাকে গিয়ে ধরতে হবে। কত টাকায় কোন চাকরির রফা হবে। কার হাতে কবে কোন পুরস্কার
উঠবে। কোন মঞ্চে কারা দাপিয়ে বেড়াবে। কাদের কাদের পায়ের তলা থেকে মঞ্চ কেড়ে নেওয়া হবে।
কোন সিফ্টে কার লোক কোন দরে কাজ করবে। কে কোথায় কোন কাজের বরাত পাবে। কার মাথায় কে
ছড়ি ঘোরাবে। ইত্যাদি সব কিছুই কিন্ত নির্ধারিত হচ্ছে সেই নাক গলানোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
সুবাদেই। যে ঐতিহ্য ছিল পাড়াগাঁয়ের চণ্ডীমণ্ডপের চৌহদ্দিতে। বাম আমলে সেই ঐতিহ্যই দলীয়
সংস্কৃতিতে পরিণত হয়ে উঠেছিল। প্রধাণত ভোটের অংক মিলিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার গণতান্ত্রিক
সুযোগে। আর এই দশকে সেই সংস্কৃতিই আজ আরও সর্বাত্মক হয়ে ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণার আশীর্বাদে
নেতা থেকে নেতায় সত্য হয়ে উঠেছে। সত্য হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত সম্পত্তির প্রভাব ও প্রতিপত্তির
বৃদ্ধিতে।
না নাক গলানোর সংস্কৃতির
যাত্রা এখানেই থেমে থাকবে না। এরই সাথে যোগ হতে চলেছে। কে কোন পোশাক পড়বে আর পড়বে না।
কাকে কোন পোশাকে চিনে নিতে হবে। কোন শব্দবন্ধে ঠিক হবে দেশপ্রেমের প্রমাণ। কে কোন খাদ্য
খাবে আর খাবে না। কে কার মাথায় বাড়ি মারার অধিকারী। আর কাকে লাঠির বাড়ির নীচে মাথা
পেতে দিতে হবে। কোথায় কোন মসজিদ ভাঙ্গা হবে আর কোথায় কোন মন্দির গড়ে তুলতে হবে। পাড়ায়
পাড়ায় কোন রঙের ঝাণ্ডা টাঙানো যাবে আর যাবে না। কোন কোন অঞ্চলে দাঙ্গা লাগানো হবে আর
হবে না। দাঙ্গা লাগলে কাদের কাদের কোন অবস্থাতেই ধরা যাবে না। আর কাদের কাদের দাঙ্গা
লাগানোর অজুহাতে গারদে পুড়তে হবে। কোন কোন দল থেকে কোন কোন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে হাইজ্যাক
করে আনা যাবে। আর যাবে না। কোন কোন দেশের কোন কোন দ্রব্য ক্রয় করা যাবে আর যাবে না।
কার সাথে কার বিবাহ সিদ্ধ। আর কার নিষিদ্ধ। কখন কখন থালা বাজাতে হবে। আর কখন কখন আলো
নিভিয়ে রাখতে হবে। ইত্যাদি বহু আরও নানান বিচিত্র ধরণের বিষয়ে নাক গলানোর দৌড়ে শান
দিচ্ছে নাকের ভাবী মালিক গোষ্ঠী। তাদের একটাই লক্ষ্য। ভারত বিজয়ের পর। এবার বঙ্গ বিজয়।
বাম আমলের কারিগররা আজ
মাথার চুল ছিঁড়ছেন কিনা, জানা যায় না। জানা যায় না আবারো নতুন করে নাক গলানোর সংস্কৃতির
কেন্দ্রীয় মঞ্চকেই পুনরায় আগের মতো করে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্ষমতায় ফিরে আসতে
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ কিনা তারা। নাকি আত্মশুদ্ধির চেতনার গোড়ায় জলন্ত অভিজ্ঞতার জল পড়ছে কিনা’
আজকাল টপ টপ করে। কিন্তু ইতিহাস এটা কোনদিনই
ভুলে যাবে না। এই বাংলার আধুনিক রাজনীতিতে পাড়াগাঁয়ের চণ্ডীমণ্ডপীয় নাক গলানোর সংস্কৃতিকে
একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যে ফ্র্যঙ্কেনস্টাইনের জন্ম তাঁদের গর্ভে। সেই রাজনৈতিক
সংস্কৃতিই আজ দামাল হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বাংলা জুড়ে। সেই একই নাক। আরও শক্তিশালী
হয়ে উঠেছে বর্তমান মালিকের হাতে পড়ে। এবং আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে সময়ে তা দিচ্ছে ভাবী
মালিকের কোলে গিয়ে ওঠার জন্য। এই বাংলাকে এই নাক ও নাক গলানোর সর্বব্যাপী অসুখ থেকে
রক্ষা করার জন্য দরকার ঘরে ঘরে রামমোহন বিদ্যাসাগরের মতো লক্ষ লক্ষ মহাপুরুষের জন্ম
নেওয়া। নয়তো বাম আমলের রোপন করা এই বিষবৃক্ষের হাত থেকে রক্ষা নাই বাঙালির ও বাংলার
সংস্কৃতির।
১২ই আগস্ট’ ২০২০
কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক
সংরক্ষিত

