করোনা কি সত্যিই অতিমারী?




করোনা কি সত্যিই অতিমারী?


২২শে মার্চের জনতা কার্ফিউয়ের পর চলে গিয়েছে পুরো পাঁচ মাস। তার ভিতরে এপ্রিল ও মে একটানা দুই মাস পুরো লকডাউন। অথচ জুনের শেষ থেকে হু হু করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে আগস্টের শেষে এসে প্রতিদিন প্রায় আশি হাজারের কাছাকাছি সংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। এটা সরকারী তথ্য। এবং বিগত পাঁচ মাসে গোটা ভারতে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমণে মারা গিয়েছে। স্বভাবতঃই মানুষ আতংকে দিশাহারা। অর্থনীতি প্রায় স্তব্ধ। বেহাল স্বাস্থ্য পরিসেবা। বাজারে আগুন। মানুষের হাতে টাকার জোগান ক্রমাগত কমছে। লকডাউন এখন একটা বিভীষিকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আপামর জনসাধারণের কাছে। পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক সন্দেহ নাই। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যসরকার, কেউই কোন আশার আলো দেখাতে পারছে না। উল্টে রাজনৈতিক দলগুলি, করোনার রাজনৈতিক ফয়দা তুলতে পরস্পর কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করে দিয়েছে প্রথম থেকেই। এবং জনগণের একটা বড়ো অংশ সেই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির খেলায় দিগভ্রান্ত হয়ে বাস্তব পরিস্থিতির নেপথ্যের ছবিগুলি দেখতেই পাচ্ছে না। উল্টে যে যার মত উপভো‌গ করছে রাজনৈতিক কাজিয়া।

গত পাঁচ মাসের প্রাপ্ত তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দিলে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এই প্রশ্নগুলির থেকে জনসাধারণের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলির। সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব সেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের স্বার্থ পুরণ করে চলা। এই দুইটি কাজই অত্যন্ত সাফল্যের সাথে সংঘটিত হয়ে চলেছে সংগঠিত পরিকল্পনা মাফিক। এটাই ভারতবর্ষের প্রকৃত রজানৈতিক মানচিত্র। তাই এই রকম পরিস্থিতিতে সামনে আসা প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা আরও বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে সন্দেহ নাই। কিন্তু উত্তর তো পরের প্রশ্ন। আগে আমাদের দেখতে হবে, আমাদের সমানে ঠিক কোন কোন প্রশ্নগুলি বিন্ধ্যাচলের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই প্রশ্নগুলির দিকেই স্পষ্ট দৃষ্টি ফেলার সময় এসেছে এখন।

প্রথমে শোনা গেল, গালভরা একটা কথা। ব্রেক দ্য চেইন। ১৪ দিন সকলে মিলে নিজ নিজ ঘরে অন্তরীণ হয়ে থাকলেই নাকি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে থাকা করোনা ভাইরাসকে সামলানো যাবে। কারণ এই ভাইরাস ১৪ দিনের ভিতরেই একজন সংক্রমিত রুগী থেকে আর একজন সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। কদিন বাদেই জানা গেল, না ঠিক ১৪ দিনে হবে না। চেইন ব্রেক করতে লাগবে ২১ দিন। বেশ, তাই না হলে হলো। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করলো সে কথা। তিন সপ্তাহ সব কাজ ফেলে রেখে ঘরের চার দেওয়ালে দেশ শুদ্ধ মানুষ বসে থাকলে যদি ভাইরাসের অন্ত্যেষ্টি করা যায়, তবে তাই হোক। মার্চের শেষ সপ্তাহে দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হলো। চলল জুনের প্রথম সপ্তাহ অব্দি। কিন্তু কোথায় কি। প্রতিদিন আগের দিন থেকে বেশি মানুষ সংক্রমিত হতে থাকলো। এবং মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে একটানা দুই মাসের বেশি গোটা দেশকে লকডাউনে রেখেও আগস্টের শেষ সপ্তাহে এসে প্রতিদিন ভারত জুড়ে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন প্রায় আশি হাজারের মতো মানুষ। তাহলে প্রথম যে প্রশ্নটাকে চিহ্নিত করা দরকার, সেটি হলো এই। ব্রেক দ্য চেইন’র ভুয়ো ধারণা ছড়ানোর কি উদ্দেশ্য ছিল? এবং কে বা কারা সেই ভুয়ো ধারণার জন্মদাতা? এবং একটানা দুই মাস লকডাউন করেও যদি প্রতিদিন আশি হাজারের কাছাকাছি মানুষ সংক্রমিত হতে থাকে, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়, ৬৪ হাজার, তবে লকডাউন করে কার কি লাভ হলো?

লকডাউনের প্রথম পর্বে আরও একটা কথা বাতাসে ছড়িয়েছিল খুব। লকডাউনের আর একটি উদ্দেশ্য হলো, লকডাউনের সময়ের ভিতরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে পরিস্থিতি সামলানোর উপযুক্ত করে তোলা। একটানা লক ডাউনের শুরতে ৬৫৭ জন সংক্রমিত রুগী থেকে আনলক ওয়ানের আগের দিন অব্দি মোট সংক্রমিত রুগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬২২ জন। ভারতবর্ষের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো লকডাউনের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ এপ্রিল ও মে’র ভিতরে কতটা উপযুক্ত করে গড়ে তোলা গিয়ে ছিল, সেকথা ভুক্তভুগী মাত্রেই জানেন। জুন মাসের ৬ তারিখের সংক্রমিত রুগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬২২ জন থেকে এই প্রতিবেদন লেখার দিন অর্থাৎ ৩১শে আগস্টে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সেই সংখ্যা ৩০শে আগস্টের হিসাব অনুসারে ৩৬ লক্ষ ১৯ হাজার ১৬৯ জন! ফলে দেখা যাচ্ছে, লকডাউন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যে তত্ব খাড়া করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কোন ভাবেই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভবই হয় নি। এই যে সরকারী ব্যর্থতা। সেটি ঢাকা দেওয়ার নানান মেকানিজম সরকার ও তার হাতের পুতুল সংবাদ মাধ্যমগুলির হাতে মজুত। তাই কখনো নিজামুদ্দিন। কখনো পালঘাট। কখনো গালওয়ান। কখনো সুশান্ত সিং রাজপুত। কখনো সাম্প্রদায়িক উস্কানি। কখনো যুদ্ধের উস্কানি। কখনো হিন্দু সম্প্রদায় সংকটে। কখনো ভারতের সুরক্ষা সংকটে। কখনো মুসলমান। কখনো চীন পাকিস্তান। জনগণকে দিকভ্রান্ত করতে সংবাদ মাধ্যম ও সরকার কারুরই তুলনা নাই।

বর্তমান পরিসংখ্যান অনুসারে প্রতিদিন গড়ে যত সংখ্যক মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, সেই উর্ধগতি বজায় থাকলে, অনুমান করা যায়, সেপটেম্বরের শেষে ভারতে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ৬৪ থেকে ৭০ লক্ষে পৌঁছিয়ে যাবে। এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যাও দ্বিগুন হয়ে যাবে সন্দেহ নাই। যদিও পরিসংখ্যান অনুসারে এই মৃত্যুর হার জনসংখ্যার মাত্র ২.২৮%। অনেকেই ভাবতে পারেন, তাহলে তো করোনা নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

এখানে একটা কথা উল্লেখ করা দরকার। ভারতবর্ষে প্রতিবছর সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় কত শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে, সেই পরিসংখ্যানটা জানা খুব জরুরী। দুঃখের বিষয়, সেই তথ্য আমাদের হাতে নাই। এই বছর করোনা হচ্ছে বলে সাধারণ ইনফ্লুঞ্জায় মৃত্যুর হার নিশ্চয় শূন্য নয়। সেই মৃত্যুর হার বা পরিসংখ্যান আমাদের দেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন আমরা জানতে পারছি না, করোনা ছাড়াও অন্যান্য বছরের মতো এই বছরেও সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় কত সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছেন, এবং আক্রান্ত হচ্ছেন। নাকি সেই পরিসংখ্যান করোনার হিসাবের ভিতরেই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে? সাধারণ জনগণের কাছে সেই তথ্য নাই। সরকারের কাছে আছে নিশ্চয়। ফলে করোনার এই পরিসংখ্যানের ভিতরেও রয়েছে ধোঁয়াশা।

এখন সাধারণ বুদ্ধিতে আরও একটি প্রশ্নের দিকে তাকানো যাক। বিশ্ব জুড়ে করোনাকে অতিমারী হিসাবে ঘোষণা করা হয় এই বছরের জানুয়ারীর ৩০ তারিখে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহের দিকে এগোলে বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে লক ডাউন ঘোষণা করা হতে পারে, সেকথা সহজেই অনুমেয়। হাতের কাছে অন্য কোন বিকল্প না থাকলেই একটি রাস্ট্রকে লকডাউনের মতো জরুরী ব্যবস্থা নিতে হয়। যার অবশ্যাম্ভাবী পরিণতি অর্থনৈতিক বিপর্যয়। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতি বছর সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বু জুড়ে গড়ে পাঁচ ছয় লক্ষ থেকে সাত আট লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে থাকে। কিন্তু যেহেতু সেই হিসাব প্রতিদিন শিঙা বাজিয়ে আবিশ্ব প্রচারিত হয় না, আমরা জানতেও পারি না। এই মুহুর্তের পাওয়া তথ্যের হিসাবে ২০২০’র প্রথম আট মাসে বিশ্ব জুড়ে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৬৯ জনের। এই বছরে আমাদের হাতে রয়েছে আরও চারটি মাস। এখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই যে প্রশ্নটা মাথায় আসে। তাহলো, প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জাঘটিত এই পরিমাণ মৃত্যু ঘটলেও আবিশ্ব তাই নিয়ে তো কোন হইচই হয় না। লকডাউন বাদ রেখে, দেশে দেশে স্বাভাবিক জনজীবন অব্যাহত থাকে। সচল থাকে অর্থনীতির চাকা। এবং মনে রাখতে হবে, সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাও কিন্তু মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত একটি ভাইরাল অসুখ। সংক্রমণের ধারাও একই রকমের। তাহলে করোনা নিয়ে এত হইচই কেন?

এখানে আরও একটি প্রশ্ন মাথায় আসে। করোনায় প্রথম আট মাসের মৃত্যুর সাথে প্রথম আট মাসের সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত মৃত্যুর সংখ্যা যোগ দিলে, মোট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুই গুণ হওয়ার কথা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই হিসাবটি দিচ্ছে না কেন? নাকি, সেই হিসাবটা করোনার হিসাবের সাথেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। প্রথমটি হলে, বিষয়টা যতটা ভয়াবহ ও আশংকার। দ্বিতীয়টি সত্য হলে, ততটা নয়। ঠিক একই পদ্ধতিতে কাজ করছে বিশ্বের প্রতিটি দেশই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালনায়। এমনটা তো হতে পারে না। করোনা হচ্ছে বলে প্রতি বছরের সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস এই বছর পালিয়ে গিয়েছে। কিংবা বিশ্রাম নিচ্ছে। ফলে জনগণের কাছে পৌঁছানো তথ্যের ভিতরে রয়ে যাচ্ছে জমাট ধোঁয়াশা। ভুলে গেলে চলবে না প্রতিবছর সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসও সমান ভাবে সংক্রমক। এবং তা মানুষ থেকেই মানুষে ছড়িয়ে থাকে। ভারতবর্ষে বিশেষত বর্ষাকাল আসলেই প্রায় ঘরে ঘরে মানুষ সর্দ্দি জ্বরে ভুগে থাকে। বিশ্বজুড়ে যে ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যাটা কোন কোন বছর লাফাতে লাফাতে আট লক্ষের গণ্ডীও ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু আমরা ঘরে ঘরে সর্দ্দি কাশি জ্বরে ভুগে টিভি দেখে কাগজ পড়েও যে ঘটনা টের পাই না। ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অনেক।

এবার আরও একটি বাস্তব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া যাক বরং। সাধারণ ভাবে মহামারী বলতে আমরা বুঝি, এমন একটি অবস্থা, যখন ঘরে ঘরে মানুষ মারা যেতে থাকে প্রায় বিনা চিকিৎসায়। আমাদের দেশে একসময় কলেরায় যে ভাবে মহামারী ঘটতো। প্রায়ই বাড়ির পাশ দিয়ে হরিধ্বনি সহ মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যেত। করোনাকালের প্রথম আট মাসে কজনের পাড়ায় এইরকম ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে? যদি পাড়ায় পাড়ায় সেই ধরণের অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে কোন সন্দেহ নাই। করোনা সত্যিই মহামারী। কিন্তু করোনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে অতিমারী বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাহলে তো অবস্থা ভয়ানক ভাবেই ভয়াবহ হওয়ার কথা। বিশেষত আমাদের মতো দেশে। যেখানে সুচিকিৎসা সাধারণ মানুষের প্রায় নাগালের বাইরে। যেখানে হাসপাতালের সংখ্যা জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় নগন্য। যেখানে সারা বছর সরকারী হাসপাতালে কোন বেড খালি পড়ে থাকে না। রুগী হাসপাতালের মেঝেতে গড়াগড়ি খায়। যেখানে চিকিৎসা পরিসেবার মান আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক নিম্ন মানের। যেখানে একজন নথীভুক্ত ভারতীয় ডাক্তারকে ইউরোপ আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসক পেশায় যুক্ত হতে হলে নতুন করে ডাক্তারী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। সে দেশে অতিমারী হলে তো পথে খাটে মানুষ মরে পড়ে থাকার কথা। এবং বিশেষ করে বিশ্বে করোনা সংক্রমণের তালিকায় যে দেশের স্থান খুব অল্পের জন্য তৃতীয় এখনো।

ফলে আদৌ কি করোনা অতিমারী কিংবা মহামারী? যার জন্য লকডাউনের মতো শেষ বিকল্পকে প্রথমেই প্রয়োগ করতে হলো? মূল প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে এখানেই এসে পৌঁছাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের কথা থাক। ভারতের মতো আগাগোড়া দুর্নীতিযুক্ত একটি দেশে। যেখানে সাধারণ মানুষ বিনা চিকিৎসায় বা ভুল চিকিৎসায় আকছাড় মারা যায়। সেখানে অতিমারী বা মহামারী যাই হোক না কেন। হলে পথ ঘাটে মানুষ মরে পড়ে থাকার কথা। পাড়ায় পাড়ায় এবালে ওবেলা কান্নার রোল ওঠার কথা। শ্মশান কিংবা গোরস্থানে সব সময় দীর্ঘ লাইন লেগে থাকার কথা। কজনের পড়ায় বা শহরে গ্রামে বা গঞ্জে এই রকম ভয়াবহ অবস্থা চলছে। এই মুহুর্তে? যদি অবস্থা ততটা ভয়াবহ নাই হয়, তবে করোনাকে অতিমারী বলে প্রচার করা কেন? না, সরকারপন্থীরা এটাকে সরকার বাহাদুরের বাহাদুরি বলে ঢাক পিটালেও, সেটি রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডাই। তার বেশি কিছু নয়। করোনা যদি সত্যিই অতিমারী হয়ে থাকে। তবে ভারতবর্ষের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয়, তাকে প্রতিরোধ করা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না।

এবং আগামী কয়েক মাসেও যদি করোনা এইরকম ভয়াবহ আকার ধারণও করে, তবে ভারতবর্ষের নির্বাচিত কোন সরকারের পক্ষেই জনগণের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের পরিকাঠামো সেই বিষয়ে আদৌ উপযুক্ত নয়। বর্তমানে করোনায় মৃত্যুর যে হার। সেই হার যদি আর বৃদ্ধি না পায়, একমাত্র তবেই দেশের মানুষের পক্ষে কিছুটা স্বস্তির খবর। না হলে ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

কিন্তু করোনা যদি সত্যই অতিমারী বা মহামারী না হয়। যদি অন্যান্য বছরের সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোনই একটি রোগ হয়। তাহলে বুঝতে হবে, বিশ্ব জুড়ে এমন একটি যড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে। যার হাত থেকে কোন দেশেরই রেহাই নাই। আমরা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলিই তুলে ধরতে প্রয়াসী। উত্তর খুঁজতে হবে বিশেষজ্ঞদের। উত্তর দাবি করতে হবে জনসাধারণকে। তবেই কাটবে ধোঁয়াশাগুলি। করোনা পরবর্তী সময় সাধারণ মানুষের জন্য কতটা নিরাপাদ। সেটি নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় উত্তরগুলি উদ্ধার করতে পারা না পারার উপরেই।

৩১শে আগস্ট’ ২০২০

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত