চৌকিদারিত্বের অশনিসংকেত

 

 

চৌকিদারিত্বের অশনিসংকেত


একজন কবি সাহিত্যিক কিংবা শিল্পী তার সাহিত্য ও শিল্প সাধনায় কোন স্তরে পৌঁছাতে পারলেন সেটাই প্রথম কথা। তাঁর বাণী ও রচনায় শিল্প ও সাধনায় তিনি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় সাধনে কতটা সফল সেটাই মূল বিচার্য। তাঁর সময়কে কতটা ধারণ করতে পারলেন এবং আদৌ সেই সময়কে ডিঙিয়ে পরবর্তী কালের জন্য চিরন্তন রসদ সৃষ্টি করে রেখে যেতে পারলেন কিনা, সেটাই শেষ কথা। এই ভাবেই ইতিহাসের কালের পটে একজন কবি সাহিত্যিক শিল্পীর প্রকৃত মূল্যায়ন হয়ে থাকে। একজন কবি তাঁর সময়ে কতটা জনপ্রিয় কতটা ক্ষমতাশালী, সমাজের উপরে তাঁর কতটা প্রভাব, এই সকল বিষয়গুলির কোনটাই গুরুত্বপূর্ণ নয় শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাসে। কবি সাহিত্যিক কিংবা শিল্পীর প্রভাব তাঁর মৃত্যুর পরে কত বেশিদিন স্থায়ী ও কতটা ব্যাপক হয়ে ওঠে সেটাই বড়ো কথা। তার ভিত্তিতেই তাঁর সৃষ্টি কর্ম ও সাধনার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব।


এমনটা নয়, এই কথাগুলি আমরা জানি না। নতুন শুনছি। কিন্তু মুশকিল হয় তখনই যখন সাময়িক উত্তেজনায় নানাবিধ প্রচারের ঢক্কানিনাদে মশগুল হয়ে আমরা এই মূল বিষগুলি বিস্মৃত হই। খবরের কাগজ টিভি আজকাল ইনটারনেট। এই তিন মাধ্যম আমাদের চিন্তা ভাবনার জগৎটা দখল করে নিয়েছে। আমাদের আর নিজের মতো করে ভাবার দরকার নাই। নানাবিধ প্রচার ও প্রোপাগাণ্ডাই আমাদের হয়ে ভেবে রেখে দিচ্ছে। এবং তাদের সেই চিন্তাধারায় আমাদের প্রভাবিত করে চলেছে নিরন্তর। এবং ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে। কোন বিষয়টি নিয়ে কিভাবে ভাবতে হবে। এবং ঠিক কি ভাবতে হবে। আর আমরাও ঘাড় কাৎ করে সেই মতো প্রচার ও প্রোপাগাণ্ডার ভাবনাগুলিকেই নিজের ভাবনা বলে চালিয়ে দিচ্ছি। আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরে। এতে সুবিধে দুটি। এক, একটা বড়ো অংশের মানুষের গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত থাকা যায়। দলে ভারি হওয়া যাকে বলে। তার অ্যাডভান্টেজ অনেক। এবং দ্বিতীয়তঃ কষ্ট করে নিজেকে আর কিছুই ভাবতে হয় না। পছন্দের মানুষ বা গোষ্ঠীর ভেবে দেওয়া ভাবনাই নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া যায়। এতে পরিশ্রম ও সময় বাঁচে অনেক।


ফলে যখনই কোন বিশেষ বিশেষ শিবির থেকে যখন যে ফতোয়াই দেওয়া হোক না কেন, তার সমর্থনে গলা ফাটানোর মানুষের অভাব হয় না। এইভাবে সমাজে একটি গড্ডালিকা প্রবাহের সৃষ্টি হয়। সাধারণ ভাবে অধিকাংশ মানুষই সেই প্রবাহে গা ভাসিয়ে আনন্দ ও তৃপ্তি দুই লাভ করেন। সমাজের একটা বড় অংশের সাথে থাকার কারণে মানসিক যে নিশ্চয়তা, সেটি লাভ হয়। আর পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সময় ও পরিশ্রম অনেক কম ব্যয় হয়।


বাংলাদেশে যখন নাস্তিকতার অভিযোগে একের পর এক ব্লগার হত্যা সংঘটিত হচ্ছিল। তখনও সেই নির্মম হত্যালীলার সমর্থনে ধর্মের অজুহাতে কোটি কোটি মানুষ নিরব সম্মতি জানিয়েছিল। না জানালে, সেসময় দেশব্যপী গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারতো। নাস্তিকতার অভিযোগে ব্লগার হত্যার বিরুদ্ধে। কিন্তু সেদিন দেশ ও জাতি জঘন্যতম এই অপরাধের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেনি। কারণ আলোচনা করা হয়েছে পূর্বেই।


পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একজন কবি কার সাথে ওঠবোস করবেন। কোন শিবিরে থাকবেন। কোন পোশাকটি কিভাবে পড়বেন। কোন ধরণের কবিতা লিখবেন আর কোন ধরণের কবিতা লিখবেন না। কোন কবি সাহিত্যমঞ্চে পা রাখতে পারবেন, না’কি পারবেন না ইত্যাদি বিষয়গুলি ঠিক করে দেওয়ার মতো এক বা একাধিক গোষ্ঠী গড়ে উঠছে। এই গোষ্ঠীগুলির ঠিক করে দেওয়া গাইড লাইনের বাইরে যেতে চাইলেই বিপদ। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরগুলির আওতায় থাকা এই সকল সামাজিক পেয়াদারূপী গোষ্ঠীগুলিই তখন ঠিক করে দেবে, জনতা কার কবিতা পড়বেন আর কার কবিতা পড়বেন না। কোন কবিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে। আর কোন কবিকে সমাজিক ভাবে মাথায় তুলে নাচতে হবে। এই সকল গোষ্ঠীগুলি নিজেদেরকে সামাজিক জ্যাঠামশাই রূপে দেখতে অভ্যস্ত। তারা এখন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির প্রধান রক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ। ফলে তাদের স্কুলের বাধ্য ছাত্র না হলে সাধারণ জনতারও বিপদ।


একজন কবির মূল্য তার কবিতার সাহিত্যমূল্যেই নিরূপিত হওয়ার কথা। তাঁর লেখার উৎকর্ষতা তাঁর সাহিত্যদর্শনের স্তর এবং বিশ্ব সাহিত্যে তাঁর অবদান বা তুলনামূলক অবস্থান প্রভৃতি সাহিতিক পরিমিতিতেই তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিচার হয়। হয়ে থাকে। কবির সাহিত্যমূল্য কবির ব্যক্তিগত চরিত্রের উপর নির্ভর করে না। বিশ্ব সাহিত্যের ছাত্র ও পাঠক মাত্রেই সে কথা জানেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিক গতি প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে, কবির সাহিত্যমূল্য কবির সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ণের উপরে নির্ভর করে নিরূপিত হচ্ছে না। হচ্ছে বা হওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যান্য নানাবিধ বিষয়ের ভিত্তিতে। কবি কার কার সাথে রাত্রিযাপন করছেন। কবি কোন রাজনৈতিক দলে ভিড়ে কি ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কবি তার নানবিধ পদ ও সামজিক পরিচিতি কাজে লাগিয়ে কোন কোন অনৈতিক কাজে লিপ্ত। বিশেষ করে কবি যদি মহিলা হন, তবে তার পোশাকের মাপ কি। কোন ডিজাইনের পোশাক পরে তাঁকে ফেসবুক লাইভে দেখা যাচ্ছে। কবির সাথে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দূরত্ব কতো। এইসকল বিষয়গুলিই কবির সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ণে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।


একজন কবির ব্যক্তিজীবন অবশ্যই তাঁর সাহিত্যকর্মেও প্রভাব ফেলতেই পারে। সেই প্রভাব কাটিয়ে উঠেও কোন কবি সাহিত্য সাধনায় এগিয়ে চলতে পারেন। আবার কোন কবির ব্যক্তিজীবনের প্রভাবে তিনি তাঁর সাহিত্যে ভেজাল মেশাতেও শুরু করতে পারেন। এক একজনের ক্ষেত্রে ঘটনা এক এক রকম ভাবেই গড়াতে পারে। কিন্তু ঘটনা যাই হোক না কেন। কবি তাঁর নিজস্ব ব্যক্তি জীবনে ভালো মন্দ যে অবস্থানেই থাকুন না কেন। তার বিচার করবে দেশের আইন। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকীর্তির বিচার তো দেশের আইন করতে পারবে না। সাহিত্যকীর্তির বিচার হবে মহাকালের বেদীতে। সাহিত্যকীর্তির বিচার হবে সাহিত্যমূল্যের মাপকাঠি দিয়েই। অন্য কিছু দিয়ে নয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সময়ে আমরা যেন এই প্রাথমিক ণত্ব ষত্ব সম্বন্ধে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে পড়েছি।


ঠিক তেমননি একজন কবি কিংবা সাহিত্যিক। লেখক কিংবা চিন্তাবিদ। অধ্যাপক কিংবা ব্লগার তাঁর ব্যক্তি পরিসরে নাস্তিক হবেন না আস্তিক থাকবেন। সেটি সম্পূর্ণতই তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়। এমনকি তাঁর সৃষ্টিকর্মের দিগন্তে তিনি নাস্তিক না আস্তিক দর্শন তুলে ধরবেন। সেটিও একান্তই তাঁর ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। আস্তিক বা নাস্তিক কেউই সেই বিষয়ে নাক গলাতে পারে না। সমাজ ও রাষ্ট্র কাউকে সেই অধিকার দেয় নি। কে আস্তিক দর্শন অনুসরণ করবেন আর কে নাস্তিক দর্শন। সেটি পাঠক নিজেই ঠিক করে নেবেন। স্ব স্ব ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিসরে। কিন্তু সমাজের উপরে কি প্রভাব পড়তে পারে সেই অজুহাত খাড়া করে নাস্তিক বা আস্তিক কারুরই মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা চলে না কোনভাবেই। তাঁদের সাহিত্যকর্মের বিচার হবে সাহিত্য দর্শন সমাজতত্বের আলোতে। ইতিহাসের প্রেক্ষিতে। মহাকালের বেদীতে। নির্দিষ্ট কোন সাম্প্রদায়িক ধর্মের ণত্ব ষত্ব দিয়ে নয়। কখনোই নয়।


একজন কবি রাজনৈতিক ক্ষমতার অলিন্দে থেকে বহুবিধ সুযোগসুবিধা করে নিতেই পারেন। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় যুক্তিবুদ্ধির তোয়াক্কা না করে বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে ওকালতিও করতেই পারেন। পারেন বিরুদ্ধ রাজনৈতিক দল সম্বন্ধে নিজের মত প্রকাশ করে বিরুদ্ধাচারণ করতেও। সেটি তার ব্যক্তিগত চরিত্রের বিষয়। আবার সেই একই কবি পরিবর্তনের হাত ধরে পূর্বের শত্রু শিবিরে পা রেখে তাদের হয়ে আহ্লাদে গদগদ হয়ে সকল মতাদর্শ জলাঞ্জালি দিয়ে ক্ষমতায় উঠে আসা রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারও শুরু করে দিতে পারেন। সেটি তার ব্যক্তি চরিত্রের পদস্খলন বলে ধরা যেতে পারে। তিনি ক্ষমতার নতুন অক্ষে পৌঁছিয়ে পূর্বের থেকে আরও বেশি ক্ষমতাধর হয়ে উঠতেই পারেন। সেই ব্যক্তিস্বাধীনতা অবশ্যই যে কোন কবি সাহিত্যিক শিল্পীরই থাকবে। কিন্তু ব্যক্তিচরিত্রের সেই কলুষতা দিয়ে তাঁর কাব্য সাহিত্য বা শিল্পকর্মের বিচার হতে পারে না। কবির ব্যক্তি চরিত্র সম্পূর্ণ তাঁর একান্ত নিজস্ব। কিন্তু তাঁর সাহিত্য বা শিল্পকীর্তি আপামর সাহিত্য ও শিল্পরসিকের। তাই সেই সাহিত্য বা শিল্পকীর্তির বিচার কখনোই কবির ব্যক্তি চরিত্রের নিক্তিতে হতে পারে না। এই সহজ বিষয়টিই বিস্মৃতি হয়ে যাচ্ছি আমরা আজ।  


ঠিক তেমনই একজন কবি তাঁর পেশাগত পদাধিকার বলে কতজন মহিলাকে শয্যাসঙ্গী করে নেবেন, সেটিও তাঁর ব্যক্তি চরিত্রের বিষয়। তিনি কিভাবে বিভিন্ন মহিলাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবেন সেটিও একান্ত ভাবেই তাঁর ব্যক্তিরুচির প্রশ্ন। সেইকাজ করার অধিকার তার রয়েছে কিনা আদৌ, সেবিষয়টি দেখার জন্য দেশে আইন আদালত রয়েছে। কিন্তু একজন কবির ব্যক্তিগত যৌন আচরণের ভিত্তিতে তাঁর কবিতার সাহিত্যমূল্য নির্ধারিত হতে পারে না নিশ্চয়ই। যদি তাঁর সাহিত্যের অন্তরে শাশ্বত প্রকাশের শক্তি থাকে, তবে তাঁর ব্যক্তি চরিত্র যাই হোক না কেন, তাঁর সাহিত্য ঠিকই টিকে যাবে কালের কষ্টিপাথরে। আবার সম্পূর্ণ সাধু চরিত্রের কবির কাব্যও তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। যদি ঘাটতি থাকে তাঁর সাহিত্যকীর্তির ভিতেই।


তাই কোন কবি কোন রাজনৈতিক শিবির ছেড়ে কোন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিলেন ক্ষমতা ও নানাবিধ সুযোগসুবিধার কোন সমীকরণে। আর কোন কবি নিজের স্ত্রী থাকতেও আরও কতজন মহিলার শয্যাসঙ্গী হতে নিজের পাদধিকারের অনৈতিক ব্যবহার করলেন। এই সকল ব্যক্তিচরিত্রের বিষয়গুলি কোন কবি সাহিত্যিক শিল্পীরই সাহিত্য ও শিল্পকর্মের বিচারে কাজে আসে না। সেই বিচার করবে মহাকাল। সেই বিচার হবে শুধুমাত্র সাহিত্য ও শিল্পের মাপকাঠিতেই। সৃষ্টির বিচার সৃষ্টিকর্ম দিয়েই। স্রষ্টার ব্যক্তিচরিত্র দিয়ে নয়। তাই আজ যারা ভাবছেন। তারাই ঠিক করে দেবেন। কোন কবি সাহিত্যমঞ্চে থাকতে পারবেন আর কোন কবি সাহিত্যমঞ্চ থেকে নির্বাসিত হবেন। তারা সম্পূর্ণ অনধিকার চর্চায় হাত দিচ্ছেন। আজ যারা কোন কবির পোশাকের মাপ নিতে ছুটছেন। কবির পোশাকের ডিজাইন ঠিক করে দিতে উঠে পড়ে লাগতে চাইছেন। তারাও সেই একই অনধিকার চর্চায় হাত পাকাচ্ছেন মাত্র।


আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। শিল্প সাহিত্য সৃজনশীলতার দিগন্তে চৌকিদারী চলে না। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। যখনই কোন সমাজে শিল্প সাহিত্য সৃজনশীলতার দিগন্তে চৌকিদারিত্বের আবির্ভাব হয়। তখনই সেই সমাজ সরাসরি স্বৈরতন্ত্রের খপ্পরে চলে যায়। সেই সমাজে শিল্প সাহিত্য সৃজনশীলতার দিগন্ত দিনে দিনে উৎকর্ষতা হারাতে থাকে। সমাজ বদ্ধ জলাশয়ের মতো অবরুদ্ধ স্রোতের পাঁকে ডুবে যেতে থাকে। আর তথাকথিত চৌকিদাররাই সাহিত্য ও শিল্পের দিগন্তে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে দেয়। তাদের গাইড লাইন মেনে তাদের গুডবুকে থাকতেই তখন নতুন এক সাহিত্য ও শিল্প সংস্কৃতির আমদানী হয়। মহকাল সময় মতো যে সাহিত্য ও শিল্পকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আর শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাসে এই চৌকিদারিত্বের যুগকেই অন্ধকার যুগ বলে ধরা হয়ে থাকে। আমাদের বাংলার শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির দিগন্তে আজ সেই চৌকিদারিত্বের অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন একটিই। আমরা কি অন্ধ থেকে প্রলয় আটকাতে পারবো?


২রা নভেম্বর’ ২০২০


কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত