মগজে লকডাউন

 

মগজে লকডাউন

২০২০’র মার্চ মাস থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। আপনার বিশ্বাস, ভাগ্গিস বন্ধ। না হলে কি সাংঘাতিক কাণ্ড হতে পারতো। এই যুগে শহর নগরে বসবাসকারী অধিকাংশ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে হয় এক সন্তান নাহলে দুই। মার্কিন মুলুকের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালায়ের করোনা-ভাইরাস রিসার্চ সেন্টারের এই মুহুর্তের হিসেব মতো বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪কোটি ২৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ০২৪জন। আর শেষ খবর পাওয়া অব্দি বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৫৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৫১ জন। স্বভাবতঃই আপনি ভাবছেন, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল বলেই আপনার একমাত্র সন্তান এযাত্রায় করোনার গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। এদিকে এখন ওমিক্রনের দাপট চলছে। এরপর আসছে ডেলমিক্রন। ফলে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই আপনার ভাগ্যে সন্তান হারানোর শোক লেখা থাকতে পারে। নিজের সন্তানের থেকে বড়ো কিছু মানুষের জীবনে আর হয়ও না। তাই আপনিও স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিপক্ষে থেকে অনলাইন শিক্ষার উপরেই বেশি ভরসা করছেন। করতে চাইছেন। অন্তত যতদিন না পৃথিবী করোনা মুক্ত হচ্ছে। যদিও, অনেকেই হয়তো জানেন না। পৃথিবীতে করোনার উদয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে হয়নি। করোনা ভাইরাস বহু শতক ধরেই পৃথিবীতে মানুষের শরীরে আসা যাওয়া বসবাস করে আসছে। অন্তত ভাইরোলজিস্টরা সেই রকমই জানাচ্ছেন আমাদের। ঠিক যে কারণে আজকের করোনা ভাইরাসকে কোভিড-১৯ বলে চিহ্নিত করতে হয়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনাতঙ্ক ছড়ানোর কারবারীদের। এবং করোনাতঙ্কের কারবারীরা এই কারণেই অনেক আগে থেকেই আমাদের শিখিয়ে পড়িয়ে রাখতে শুরু করেছে। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস আমাদের চারপাশে থেকেই যাবে। এই ভাইরাস নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তারা তো ভালোই জানে। এই ভাইরাস নিয়েই আমাদের চৌদ্দপুরুষও সারাজীবন চলাফেরা করে গিয়েছে। বাকি চৌদ্দ পুরুষকেও করতে হবে। অন্তত যতদিন মানুষের সভ্যতা টিকে থাকবে। ততদিন করোনার সদগতি সম্ভব নয়। এটা ভাইরোলজিস্ট থেকে করোনাতঙ্কের কারবারীরা সকলেই জানেন।


তাহলেও আপনি স্কুল কলেজ খোলার কথা উঠলেই আতঙ্কিত হয়ে উঠবেন। এবং সেটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে এত এত মৃত্যু। দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েও ওমিক্রন আক্রান্ত হতে হচ্ছে। সামনে ডেলমিক্রন অপেক্ষা করছে। অনেকটা হাওড়া শিয়ালদহে প্ল্যাটফর্ম খালি না থাকায় স্টেশনের বাইরে লাল সিগন্যালে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার মতো। ওমিক্রন প্ল্যাটফ্রম খালি করে বেড়িয়ে গেলেই ডেলমিক্রন প্যাসেঞ্জার ঢুকতে পারবে। আর ঢুকে গেলেই অফিস টাইমের যাত্রীদের মতো করোনা ভাইরাস প্ল্যাটফর্মে হুড়মুড় করে নেমে সারা শহরময় ছড়িয়ে পড়বে। আপনাকে তখন ঘরের ভিতরে লুকিয়ে পড়তে হবে। ফলে একমাত্র সন্তানের জন্য স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে আপনাকে পাওয়া যাবে কি করে?


খুব ভালো কথা। আপনি ঘরের নিশ্চিন্ত ঘেরাটোপে সন্তানকে অনলাইন ক্লাসে বসিয়ে রেখে নিশ্চিন্তে রয়েছেন। দু দুটি বছর কেটে গিয়েছে। আপনারও করোনা অভিজ্ঞতা দুই বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই বছরের শিশু যেমন হাঁটতে শিখে যায়। আপনিও এখন করোনাতঙ্ক নিয়ে চলতে শিখে গিয়েছেন। মুখে মাস্ক। এবং ভ্যাকসিন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে স্পিকটি নট। বিশেষ করে সরকার যখন প্রতি বছর বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বিতরণ করে চলেছে। কিন্তু সরকার এত কোটি কোটি ভ্যাকসিন পাচ্ছে কোথা থেকে? কিভাবে? অর্থ জোগাচ্ছে কে? সেসব কথায় আপনার দরকার কি। আপনার তো ফ্রিতে ভ্যাকসিন পেয়ে গেলেই হলো। দুই বছরের শিশুও বুঝতে শিখে যায়। বড়োদের চোখরাঙানি দেখলে থেমে যেতে হয়। ফলে সরকারী হুকুমনামা আর টিভি ইনটারনেটের পাঠশালার নির্দেশে আপনিও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন এই দুই বছরে। কোনটা ভাবতে হয়। আর কোনটা ভাবতে নেই।


এবং আপনিও তাই জানেন কোনটা ভাবা বারণ। ঠিক সেই কারণেই আপনি সরল অঙ্কের সূত্র ভুলে গিয়ে দুই বেলা ওঠবোস করছেন। সরকারী হুকুমনামায়। প্রচার মাধ্যমের পাঠশালার শেখানো অঙ্কে। আপনার দৃঢ় বিশ্বাস। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে ঘরে ঘরে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মহামারী লেগে যেত। আপনি জানেন সেই ক্ষতি শুধুই সন্তান হারানো বাবা মায়ে’দর ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকতো না। গোটা বিশ্বেই বর্তমান শিক্ষার্থী প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারতো। যার ফলে গোটা মানব সমাজেই একটা হাহাকার পড়ে যেত। এবং পরবর্তী কালে সভ্যতার চাকা একটা বড়ো ধরণের হোঁচট খেত। পরবর্তী শিক্ষার্থী প্রজন্ম শিক্ষিত হয়ে সভ্যতার হাল না ধরা অব্দি। আপনি তো শুধুই নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করেন না। গোটা মানব সভ্যতার জন্যেও আপনি চিন্তিত। ফলে সরকারী হুকুমনামা আর প্রচারযন্ত্রের ঢক্কা নিনাদে আপনি নিশ্চিন্ত। যাক সময় মত একটা গোটা শিক্ষার্থী প্রজন্মের প্রাণ রক্ষা করেছে সরকার রাষ্ট্র এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। যারা এই গোটা অতিমারীতে বিশেষ ভাবে সক্রিয় থেকে সকল সরকার ও রাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়ে চলেছে।


ফলে আপনাকে আর নিজে ভাবনা চিন্তার কসরত করতে হয়নি। বিশ্বস্বাস্থ সংস্থার গাইডলাইনে রাষ্ট্রযন্ত্র, আপনার নির্বাচিত সরকার এবং ২৪X৭ প্রচারযন্ত্রই আপনার হয়ে সব ভেবে দিচ্ছে। আপনার কাজ শুধু প্রতিদিনের ভাবনার টাস্কটুকু বুঝে নেওয়া। এবং সেইমত হোমটাস্কটুকু করে রাখা। মুখে মাস্ক। হাতে স্যানিটাইজার। ২১ সেকেন্ড ধরে সাবান জলে হাত কচলানো। সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে ভিড়ে ঠাসা বাসে ট্রেনে বাদুর ঝোলা হয়ে অফিস যাওয়া আসা করা। একদিন বাঁদিকের দোকান তো পরের দিন ডানদিকের দোকান থেকে কেনাকাটা করা। কপাল ভালো থাকলে বাড়িতে বসে অনলাইনে অফিস করা। মোটা ব্যংক ব্যালেন্স থাকলে অনলাইনে শপিং। আর জাপানী বোমাতঙ্কের সাইরেন বাজার মতো লকডাউন আর কন্টেনমেন্ট জোনের ঘোষণা হলেই দরজায় তালাচাবি দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। এবং বছরে দুইবার ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়া।


তাই আপনাকে আর ভেবে দেখতে হয়নি। এই যে বিশ্বজুড়ে এই মুহুর্তের হিসেব মতো, ৩৪ কোটি ২৭ লক্ষ ৪২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যার ভিতরে ৫৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯২৫জন জন মানুষ পরপারে চলে গিয়েছে। এদের কিন্তু অধিকাংশেরই একটা করে পরিবার রয়েছে। যে পরিবারে সদ্যজাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে। ঠিক যাদের প্রাণরক্ষার জন্যেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে আপনার সরকার সমস্ত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কিন্তু সেই একই সদ্যজাত শিশু থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিজের বাড়িতেই করোনা সংক্রমিত রুগীর সংস্পর্শে এসেও করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে অনলাইন ক্লাসে বসে রয়েছে। অর্থাৎ বাড়িতে করোনা সংক্রমিত বাবা মা দাদু ঠাকুমা থাকলেও বাচ্ছারা সেই সংস্পর্শে এসেও সুস্থ থাকতে পেরেছে। অন্তত মার্কিন মুলুকের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা রিসার্চ সেন্টারের প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী। বিশেষ করে আমাদের মতো যাদের কাছে মার্কিন মূলুকের কথা মানেই বেদবাক্য।


এখন আপনার ইচ্ছা। নিজের ঘরেই একবার চোখ বুলিয়ে দেখার ইচ্ছা যদি জাগে। গত দুই বছরে আপনার বাড়িতে কতজনের করোনা হয়েছে। কতবার হয়েছে। কোন কোন বয়সীদের হয়েছে। সংক্রমিত হওয়ার মুহর্তেই কি আপনি টের পেয়েছিলেন? নাকি সংক্রমিত হওয়ার দশ থেকে চৌদ্দো দিনের মাথায় টের পেয়েছিলেন? যেমনটা আমাদের পাখিপড়া করে প্রতিদিনের পাঠশালায় শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের একসপ্তাহ কিংবা দিন দশেক পর থেকে রুগীর ভিতরে করোনা সংক্রমণের লক্ষ্মণ দেখা দেয়। এখন বাড়িতে কারুর শরীরে করোনা ভাইরাস ঢোকার মুহুর্তেই যদি আপনি সেটা দেখতে পেয়ে যান তো আলাদা কথা। নিশ্চয়ই আপনি ঠিক সেই মুহুর্তেই সাবধান হয়ে গিয়ে থাকবেন। অন্তত বাড়ির কচিকাঁচাদের থেকে সংক্রমিত রুগীকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা নেবেন। যাতে কোনভাবেই ছোঁয়াছুঁই না হয়ে যায়। ঠিক যে ভয়েই সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে। নাকি বাড়িতে কারুর করোনা হয়েছে কিনা জানতে জানতেই পেড়িয়ে গিয়েছে সপ্তাহ দুয়েক? যার ভিতরেই করোনা একজন থেকে আর একজনের শরীরে সংক্রমিত হয়ে যায়? যেমনটা আমরা শিখে নিয়েছি প্রচারযন্ত্রের পাঠশালা থেকে। ঠিক যেভাবে বাড়িতে একজনের করোনা হলে বাকিদের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সেই সেই করোনা সংক্রমিত গৃহেই, ধরা যাক আপনার নিজের বাড়িতেই। স্বামীস্ত্রীর করোনা হলেও একমাত্র সন্তানটিকে কয়বার করোনায় ধরেছিল? এই হিসেবটি কিন্তু কোন সরকার দেবে না। কোন প্রচারযন্ত্রেই প্রচারিত হবে না। এই হিসেবটি আপনাকেই কষতে হবে।


আর আপনার বাড়িতে এই দুই বছরে যতজন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ততজনের ভিতরে কতো শতাংশ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে? আর নিজের বাড়িতেই যদি করোনা সংক্রমণ ঘটলেও নিজের শিশু কিশোর যুবক যুবতী পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা করোনা সংক্রমণ এড়িয়ে গিয়ে বেঁচেবর্ত্তে থাকতে পারে। তাহলে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে গেলেই বা কোন জাদুতে দেশের শিক্ষার্থীদের ভিতরে মড়ক লেগে যাবে? না, নিশ্চয়ই এই সরল অঙ্কটুকু আপনি কষে দেখতে চাননি। এবং হয়তো এখনো দেখতে রাজি নন। ভুত ভগবান আর ভয়। মনের ভিতরে একবার বাসা বাঁধলে। আর তাড়ানো মুশকিল। আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। তার থেকে অনেক ভালো কোন প্রশ্ন তোলার দরকার নেই। ধর্মের প্রচারকরা যেমন ভগবানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ করে দিয়ে থাকে। ঠিক তেমনই ভ্যাকসিন বাণিজ্যের কারবারীরাও করোনা নিয়ে লকডাউন নিয়ে মাস্ক নিয়ে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং নিয়ে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা নিয়ে এবং ভ্যাকসিনের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ করে রেখে দিয়েছে আপনার ভাবনা চিন্তার দিগন্তে।


তাই আপনি কোনভাবেই ভেবে দেখতে রাজি নন। এই যে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখে দেওয়া হলে পুরো দুই বছর। এতে আপনার সন্তানের কতটা উপকার হলে। আর কতটা ক্ষতি হয়ে গেল। সন্তান অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে যত নম্বরই জোগার করুক। সেই শিক্ষা যে পরবর্তীকালে তার বিশেষ কোন কাজে লাগবে। সেই গ্যারান্টি কি আপনাকে কেউ দিয়ে রেখেছে? আপনি কি ভেবে দেখেছেন এই দুই বছরে কত কোটি শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত জরুরী প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে? যে ক্লাসগুলি আগামী বছরগুলিতে মেকআপ দিতে গেলে ঠিক দুই বছর আগের ক্লাস বা সেশনে ফিরে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে আপনি রাজি হবেন কি আদৌ? আর তা যদি না হয়। যে ফাঁকিটুকু যে ফাঁকটুকু রয়ে গেল। আপনার সন্তানের শিক্ষার ভিতরে। আজীবন সেই ফাঁকটুকু বহন করে চলতে হবে কিন্তু আপনারই সন্তানকে। তার মূল্য শুধুই যে আপনার সন্তানকে শোধ করতে হবে তাও তো নয়। সেই মূল্য শোধ করতে হবে গোটা সমাজকেই। গোটা দেশকেই। গোটা মানব সভ্যতাকেই।


এরপরেও যদি আপনি প্রশ্ন তুলতে রাজি না থাকেন। তবে সে আপনার ব্যক্তি স্বাধীনতা। আপনার দায়। আপনার মৌলিক অধিকারের বিষয়। এদিকে আপনি কিন্তু টেরও পেলেন না। যে শিশু কিশোর তরুণ তরুণীরা নিজের বাড়িতেই করোনা সংক্রমিত রুগীর সংস্পর্শে এসেও করোনাকে প্রতিহত করে বেঁচে রয়েছে। তাদেরকেই কেন করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর অজুহাতে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হলো পুরো দুই বছর। আসল খেলাটা কোথায়। সেটা ধরতে গেলে আপনাকে একটু মাথা খেলাতে হবে বইকি। বিশ্বজুড়ে টেকনলজির অগ্রগতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে 5G টেকনোলজির ক্ষমতার কথা। খেয়াল রাখতে হবে বিশ্বায়নের নামে গত দুই দশকে গোটা বিশ্বকে কিভাবে নিও-লিবারেল পুঁজিবাদের জালে আটকিয়ে ফেলা হয়েছে। তার ফলাফল কতটা কিভাবে ফলেছে। আরও কতখানি ফলিয়ে তোলার ব্যবস্থা ফাঁদা হয়েছে। সেসব জটিল বিষয় নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর দরকার কি। ভাবতেই পারেন আপনি। আপনার জন্য ২৪X প্রচারযন্ত্রের পাঠশালা খোলা রয়েছে। রয়েছে প্রতিদিনের হোমটাস্ক। তাই আপনার খেয়াল থাকবে কি করে। বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে অটোমেশন আর আর্টিফিশিয়াল ইণ্টিলিজেন্সের কি বিপুল সম্ভাবনা উপস্থিত করানো হয়েছে। যেখানে অচিরেই দক্ষ শ্রমিকের আর কেরানীর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। যেখানে লোয়ার লেভেল ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। যেখানে মিডিল লেভেল ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজনও দিনে দিনে দ্রুত গতিতে কমতে চলেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে এই নিও-লিবারেল পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় আর কোটি কোটি কর্মসংস্থানের দরকার হবে না। উল্টে দ্রুত হারে বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের সংখ্যাই কমিয়ে আনতে হবে। বাকি কাজ হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মাধ্যমে অটোমেশন পদ্ধতিতে। কাজের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হবে 5G টেকনোলজির হাত ধরে।


ফলে এখনই যদি কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে আটকিয়ে দেওয়া না যায়। তবে দুই তিন কি পাঁচ ছয় বছরের ভিতরে এরাই তো চাকরির দাবিতে পথে নেমে যাবে কারিগরী শিক্ষার সার্টিফিকেট হাতে। তখন তো তাদের বলা যাবে না। তোমার শিক্ষাই অসম্পূর্ণ। এই কাজের দক্ষতা অর্জনের পূর্ব শর্ত মতো উপযুক্ত যোগ্যতাই তোমার নাই। দুই বছর ধরে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় তালাচাবি না লাগালে নিও-লিবারেল পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নিউ নরম্যালে আমাদের নিয়ে যাবে কি করে? যে নিউ নরম্যাল নিয়ে আমরা এত মাতামাতি করছি। আজ দুই বছর। প্রচারযন্ত্রের পাঠশালায় বসে। মুখে মাস্ক। আর চেতনায় লকডাউন।


২১শে জানুয়ারী’ ২০২২

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত