আমি

 

আমি

আমি। কিন্তু কে এই আমি? কতটুকু চিনি এই আমিকে? কিভাবে স্থির হয় এই চেনার পালা? আমি কি সেই মানুষটি? যাকে বাকি অনেকে চেনে আমি বলে? কিন্তু সকলেই তো সেই আমার আমিকে একই রকম ভাবে চেনে না। এক একজন এক এক রকমের আমিকে চেনে। বা জানে। অন্তত আমার যাঁরা পরিচিত মানুষজন। আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব, বান্ধবীরা। তাঁদের প্রত্যেকেরই দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁরা যে, যেভাবে আমাকে চেনেন। আমি ঠিক সেই মত একজন। এখন এত বিভিন্ন করমের মানুষজনের জানা এবং শোনার মতো একাধিক আমি মিলেই কি আমার অখণ্ড আমি? না’কি এত নানারকমের আমির ভিতর কেবলমাত্র একটি আমিই, সেই আমার আমি। যদি তাই হয়। তবে কোন আমিটি সত্যিকারের আমি? আর বাকি সকল আমিই কি মানুষের কষ্টকল্পনা? কিংবা যদি নানান আমির সমগ্রতার অখণ্ড আমিই, সত্যিকারের আমি হয়। তাহলেও প্রশ্ন তো থেকেই যায়। অখণ্ড সেই সমগ্র আমিকে কয়জন চেনে? বা জানে? আমি নিজেই কি কোনদিন সেই আমির নাগাল পেয়েছি? না পেয়ে থাকলে, কোনদিন কি পাবো? পেতে হলে কোন পথেই বা এগোতে হবে আমাকে? প্রশ্নেরও শেষ নেই। উত্তরও তো অধরা। তবু আমি বলে একটি সজীব সত্তা জন্মের প্রথম দিন থেকে আজ অব্দি তাঁর নিজের একটা গল্প লিখে চলেছে। যদিও সেই গল্পের প্লট কিন্তু তাঁর নিজের হাতে নেই। সমাজ ও পরিবার। রাষ্ট্র ও আইন। সুযোগ ও সুবিধে। শক্তি ও ক্ষমতা। দক্ষতা ও অক্ষমতা। বুদ্ধি ও বোকামী। এবং রাজনীতি ও অর্থনীতি। ঘটনা ও দুর্ঘটনা। এইসব এতকিছুর ঘাত প্রতিঘাতে সেই প্লট গড়ে উঠেছে। এগিয়ে চলেছে। সেই প্লটের উপরেই আমার সেই আমি’র কাহিনী রূপ নিচ্ছে। এবং প্রতিনিয়ত আবর্তিত হচ্ছে। আর সেই আবর্তনের ভিতরেই বাঁধা পড়ে রয়েছি এই আমি। নাই, কোন মুক্তি নাই সেই আবর্তন থেকে। ফলে আমার সেই আমি’ নামক সত্তা কিংবা সজীব বস্তুপিণ্ডের আপন কোন স্বাধীনতা নেই। নিজের ইচ্ছে ও আকাঙ্খা মতো নিজের কাহিনীর প্লট নির্বাচনের।


ঠিক এই কারণেই কি, আমরা নিয়তি’র অমোঘ অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে পড়ি? যার অন্তিম গন্তব্যে দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের ঈশ্বর ভাবনা। ‘সকলই তোমার ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি। তোমার কর্ম তুমি করো মা। লোকে বলে করি আমি’। আস্তিক আমি’র সমস্যা সমাধানের একটা গোঁজামিল দেওয়া পথ তৈরী হয়েও যায় এই পথে। কিন্তু সমস্যা হয়। আমার এই আমি যদি নাস্তিক হয়ে দাঁড়ায়। সে তো আর এইকথা বলে নিজেকে ভোলাতে পারে না। তাকে এগোতে হয় অনেক কঠিন পথেরেখা ধরে। যে পথরেখা তার নিজের কাছেই সবচেয়ে বেশি অস্পষ্ট আবছা। সংশয়দীর্ণ। থাক, আস্তিক নাস্তিকের বিতর্কের ভিতরে জড়িয়ে পড়ার দরকার নেই। বিশ্বশুদ্ধ মানুষ আজও এই এক চক্রব্যুহে আটকা পড়ে আছে। অশ্চর্য্যজনক হলেও কোন ঈশ্বরই মানুষকে এই চক্রব্যূহ থেকে আজও উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে নি। নাস্তিক আমি যদিও সেই সুযোগেই মিটিমিট হাসিতে বুদ্ধির টিকি নাড়তে থাকে!। থাক তাতেও কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু আমার এই আমি’র সাথে আমাদের একটা গ্রহণযোগ্য সমন্ধসূত্র তো গড়ে নেওয়া দরকার। না নিতে পারলে, আজীবন এক কষ্টের বোঝা কি বয়ে বেড়াতে হয় না?


শেষমেশ সব প্রশ্নই দাঁড়িয়ে যায় এক জায়গায়। কে এই আমি? কি তার আসল পরিচয়। নিশ্চয় আঁধার কার্ডে ভোটার কার্ডে সেই পরিচয় ধরা নেই। থাকলে ত‌ সমস্যা মিটেই যেত। একটু অন্যভাবেই যদি দেখার চেষ্ট করি। যাঁরা আমায় নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসে। তাঁদের সেই ভালোবাসার আমিই কি এই আমার আমি তবে? নয়তো কেনই বা এই মানুষগুলি আমায় ভালোবাসবে? ফলে একটা উত্তর কিন্তু আমরা আশা করতেই পারি। স্বজন পরিজনের ভালোবাসার ভিতরেই হয়তো আমি’র একটা পরিচয় রয়ে গিয়েছে। সেই আমিই কি তবে আমার আমি? তাহলে আমার আমিকে খুঁজে পেতে হলে কি এগোতে হবে নিঃস্বার্থ সেই ভালোবাসার সূত্র ধরেই? আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথাই যখন উঠল। সন্তানের প্রতি জননীর ভালোবাসার থেকে বেশি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর সম্ভব কি? এখন একজন মা, তাঁর সন্তানকে ভালোবাসেন আপন অস্তিত্বের ভুমিতেই। ফলে সন্তানকে মা যেভাবে চেনেন এবং জানেন। সেই চেনা এবং জানা কতটা সঠিক। কতটা পরিপূর্ণ, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যায় কি কিছু? যিনি আমার জন্ম দিয়েছেন। তিনি যেভাবে আমাকে চিনবেন। সেই চেনার ভিত্তি তাঁর অস্তিত্বের স্নেহ মায়া মমতার সাথে সম্পর্কিত। সেই চেনার যে আমি। আমার আমি’র সাথে সেই আমি যদি পরিপূর্ণ ভাবে মিলেই যায়। তবে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু জীবন বাস্তবতা অত সরল অঙ্ক নয়। খুব স্বাভাবিক ভাবেই জননী এবং পিতা’র পক্ষে তাঁদের সন্তানের ভিতরের নিজস্ব আমিকে চেনা ও জানা প্রায় অসম্ভব। তার সবচেয়ে বড়ো কারণ। একজন মানুষকে চিনতে গেলে সময়ের যে দূরত্বের প্রয়োজন। কোন পিতামাতার পক্ষেই সেই দূরত্বে পৌঁছিয়ে আপন সন্তানকে দেখার সুযোগ নেই। থাকে না। ফলে জননীর চেনা দিয়েই যদি আমি চিনি আপনারে। তবে সেই খণ্ডিত অসম্পূর্ণ এবং অনেকাংশেই জননীকল্পিত এক আমি’র সাথে পরিচয় ঘটবে আমাদের। যে পরিচয়ের আড়ালে পড়ে থাকবে আমার একান্ত যে আমি। সেই আমি।


না, যত বড়ো প্রেমিকই আমরা হই না কেন। কিংবা প্রেয়সী কিংবা প্রেমিকা। পারস্পরিক প্রেমের ভিতরে জননী’র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থাকা সম্ভব নয়। আর থাকার কথাও নয়। দরকারও নেই। ফলে যে আশাটুকু নিয়ে কিছু আগে আমরা এগোতে প্রয়াস করেছিলাম। প্রিয়জনের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আলো দিয়ে দেখা ও জানা আমার আমিই সেই আমি। যে আমি’র সন্ধানে এগোতে প্রয়াসী আমরা। দেখা যাচ্ছে সেই আমি’র বিশ্বস্ততা নিয়েই রয়েছে গভীরতর সংশয়। তাহলে উপায়? যদিও স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ উচ্চারণের কথা স্মরণে আসতে পারে অনেকেরই।

 

আমারে যে ডাক দেবে এ জীবনে তারে বারংবার

ফিরেছি ডাকিয়া।

সে নারী বিচিত্র বেশে মৃদু হেসে খুলিয়াছে দ্বার

থাকিয়া থাকিয়া।

দীপখানি তুলে ধ'রে, মুখে চেয়ে, ক্ষণকাল থামি

চিনেছে আমারে।

তারি সেই চাওয়া, সেই চেনার আলোক দিয়ে আমি

চিনি আপনারে।

তাই কি? এইভাবে যে আমি’র সন্ধান পাওয়া যায়। সেই আমি যে সেই প্রেয়সীর প্রেমজাত নয়, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? বরং সেই সম্ভাবনাই তো সমধিক। দেখা যাচ্ছে, আমার প্রতি কারুর ভালোবাসা যেখানে যত গভীর এবং নিবিড়। সেখানেই তাঁর কাছে চেনা যে আমি। সেই আমি’র অস্তিত্ব আসলেই তাঁর প্রেম ও ভালোবাসাজাত যতটা। ততটা হয়তো কেন, নিশ্চিতভাবেই আমার আমি’র মতো নয়। হয়তো কিছুটা মিলবে। কিন্তু মিলবে না অনেকটাই। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ যাই বলুন। যে আমাকে ভালোবাসে। তাঁর সেই ভালোবাসার আমিই যে আমার একান্ত আমি। তেমন কোন নিশ্চয়তা থাকে না আমাদের কাছে। থাকার কথাও নয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। জীবন বাস্তবতা এক কঠিনতম অধ্যায়। তার ণত্ব আর ষত্ব আমাদের কল্পনা, আশা কিংবা আকাঙ্খার ধার ধারে না একেবারেই। ফলে আমার প্রতি কারুর ভালোবাসার আলো দিয়ে আমার আমিকে চিনে নিতে গেলে মস্তবড়ো ফাঁকিতে পড়ে যাওয়ারই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। না, এই পথে খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই আমার সেই একান্ত আমি’কে। রবীন্দ্রনাথ বললেও না।


একটা বিষয় অতয়েব পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। এই যে আমি চলেছি। এগোচ্ছি কিংবা আবর্তিত হচ্ছি জীবনের ঘূর্ণিপাকে। সেই আমিকে আমিই তো আজও চিনি উঠতে পারিনি। না, একথাও বলা যায় না। আমার কাছে আমার সেই একান্ত আমি, একেবারেই অপরিচিত। তাও নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু এটা পরিস্কার। সেই আমি আজও রয়ে গিয়েছে আমারই ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছু জানি। কিছুটা চিনি। কিন্তু বেশির ভাগটাই আমারই অজানা। তাহলে এই যে আমি। যে আমিকে নিয়ে আমার প্রতিদিনের ওঠাবসা। যাকে চেনে আর পাঁচজনে। পাঁচরকম ভাবে। সেই আমিই তো কথা বলি। খাই। ঘুম পেলে ঘুমাই। মানুষের মুখের দিকে চেয়ে মানুষই তো খুঁজি। কিন্তু সেই আমি তো আসলে এই সমাজ। এই সংসার। এই জগত এবং এই জীবন। দেশ কাল পাত্র সব মিলিয়ে গড়ে ওঠা একটি পদার্থ মাত্র। যার ওপরে আমার কোন হাত নেই। স্পেস এবং টাইমের আবর্তনে গড়ে ওঠা এক আমি। যে আমিকে নিয়ে আমাকে থাকতে হয়। সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়। মানুষের সমাজে চলার জন্য নিরন্তর উপযুক্ত করে তুলতে হয়। বাবা বাছা করে। এটা করা যাবে না। ওদিকে গেলে লজ্জায় মাথা কাটা যেতে পারে। এই এই কাজগুলি করতেই হবে। পারিবারিক ও সমাজিক দায় দায়িত্ব এবং কর্তব্য সাধনের ভিতরেই না’কি আমার আমি’র পরিচয়। তাই কি? এই আমি তো সমাজ সংসারের ণত্ব আর ষত্ব দিয়ে বানিয়ে তোলা মাত্র। বানিয়ে তোলা বলেই আমাকে নিরন্তর সেই আমি’র মতো করে কথা বলতে হয়। ভাবতে হয়। চলতে হয়। চালাতে হয় আমার সব আশা এবং আকাঙ্খাগুলিকে। বিশ্বাস এবং ভরসাগুলিকে। আনন্দ এবং দুঃখগুলিকেও। এই আমি’র নিজস্ব স্বাধীনতা কতটুকু?


বিজ্ঞজনেরা অবশ্যই বলবেন। হুঁ হুঁ বাবা। এই হলো আসল জীবনবাস্তবতা। খুব ভালো কথা। তাহলে একথাও স্বীকার করে নিতে হবে। আমার আমি আদৌ আমার মতো কেউ নয়। সেই আমি সমাজ এবং সংসারের ণত্ব এবং ষত্বে গড়ে ওঠা অন্য একজন কেউ। যার পোশাক পরে আমি চলেছি। যার জুতোয় পা গলিয়ে নিয়ে আমার পথচলা। এবং আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো দায়বদ্ধতা হলো এই। এই অন্য একজন আমি’র মতোই হয়ে উঠতে হবে আমাকে। নিরন্তর সাধনায় প্রতিদিনের প্রয়াসে। হ্যাঁ এই এক সত্য। আমাদের সকলের জীবনেই এই সত্য আমাদের জীবনের মূল পরিচালক। এবং আমাদের জীবনের মূল সংকটও বটে। যে আমি আমি নই। সেই আমি হয়ে ওঠার ভিতরেই আমার সামাজিক অস্তিত্ব। অর্থাৎ আমার আমি’র আপন অস্তিত্বের থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমার আমি’র এই সামাজিক অস্তিত্ব। সেই সমাজিক অস্তিত্বের আমিকে নিয়েই বাকি সকলের আদর আপ্যায়ন। কিংবা তাচ্ছিল্য উদাসীনতা। ভালোলাগা খারাপ লাগা। যার ভিতরে আমার আমিকে খুঁজে পাওয়াই দায় আমার। আমাদের জীবনের এই এক অস্তিত্বের মহাসঙ্কট। আমার আমি বনাম আমার সামাজিক আমি। যে আমি’র জীবনী লেখার দায়িত্বটুকু আমার। কিন্তু সেই জীবনীর প্লট আমার তৈরী নয়। ভালো রে ভালো। প্লট একজনের। কাহিনীর রচয়িতা আর একজন। লিখছে আর একজনের বকলমে।


অনেকেই জানেন। ঋষি মহাপুরুষ দার্শনিক থেকে শুরু করে কবি সাহিত্যিক শিল্পী এবং বিজ্ঞানী। কে নয়। বহু মানুষই যুগের পরে যুগ ধরে। এই আমি’র সন্ধানে কাটিয়ে গিয়েছেন। প্রত্যেকেই হয়তো তাঁর নিজের মতো করে এক আমি’র কাহিনী রচনা করে গিয়েছেন। সেই রচনা নিশ্চয় আমাদের মতো এমন আটপৌরে নয়। নয় বলেই আমাদের বারবার ফিরে যেতে হয়। তাঁদের কর্ম এবং সাধনার কাছে। তবুও প্রশ্ন রয়ে যায় শেষমেশ একটাই। দেখা কি পাই আমরা আমার সেই একান্ত আমি’র। অন্তত এক জীবনে? অনেকেরই স্মরণ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এই সমস্যার একটা বড়ো সমাধানের চেষ্টা করে গিয়েছিলেন। চেষ্টা করে গিয়েছিলেন নিজের জীবনের সাধনার ভিতর দিয়েই। সমাধানের সেই রাবীন্দ্রিক পথ, ক্ষুদ্র আমি আর বৃহৎ আমি’র তত্ত্বে বাঁধানো। ঠিক যে পথকে আমরা মহাপুরুষের পথ বলে সযত্নে এড়িয়ে চলি। আর ক্রমাগত ক্ষুদ্র আমি’র ঘূর্ণিপাকে সমাজ এবং সংসার কাঁপিয়ে নিজেদের জীবন অভিজ্ঞতায় নিজেরাই অভিভুত হয়ে যাই স্বগর্বে। সেই যে গর্বের আমি। সেই আমিও এই সমাজ এবং সংসারেরই হাতে গড়া। ফলে সেখানেও ফাঁকিতে পড়ে যাই আমরা। কিন্তু যাঁরা বৃহৎ আমি’কে খুঁজে পান। কদাচিৎ এক একজন রবীন্দ্রনাথের মতো। সেই বৃহৎ আমিই কি সেই আমি। যে আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া হয় না আমাদের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনে। না, এই কথার সহজ কোন উত্তর এই লেখকের জানা নেই। কিন্তু কবি’র সেই বৃহৎ আমিও কি এই মহাজগৎ আর মহাজীবনের ণত্ব এবং ষত্বে গড়ে তো‌লা নয়? আর তাহলে মূল পার্থক্যটি কিন্তু দাঁড়িয়ে যায় পরিমাপের মাপেই। একদিকে প্রতিদিনের জগৎ ও প্রতিদিনের জীবনের ণত্ব ষত্বের হাতে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র আমি’র কাহিনী। আর অপর দিকে মহাজীবন ও মহাজগতের ণত্ব ষত্বে গড়ে ওঠা বৃহৎ আমি’র মহাকাব্য।


আমার সেই একান্ত যে আমি। সে হয়তো এতক্ষণে নিতান্তই হাঁফিয়ে উঠেছে আমি’র সন্ধান নিয়ে এত তর্কবিতর্কে। ফলে নিয়তির হাতে জীবন সঁপে দিয়ে যাঁরা নিশ্চিন্ত হওয়ার পথে হাঁটেন। এবং নিজ নিজ ঈশ্বরের আশ্রয়ে দিবানিদ্রায় সুখ খুঁজে নেন। তাঁরা বরং তাঁদের আমিকে এত কষ্টের হাত থেকে বাঁচাতেই সেই আমিকেই অন্তর্যামী বলে চালিয়ে দিতে পারেন। অনেক সহজে। আমাদের কবি, রবীন্দ্রনাথও কি তেমনই একটা রফাসূত্রে পৌঁছাতেই তাঁর জীবনদেবতা তত্ত্বে গিয়ে পৌঁছাননি? নাহ, আমার আমি’র কাছেও কি আছে সেই উত্তর? অন্তত আমাদের মতো সংশয়বাদী কিন্তু প্রশ্নের পিছনে উন্মাদের মতো ছুটতে থাকা কিছু ব্যাতিক্রমীদের কাছেও সেই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। আর সেই উত্তরের কাছে পৌঁছাতে গেলে একবার অন্তত মুখোমুখি হতেই হবে আমার সেই একান্ত আমি’র। সরাসরি। সামনাসামনি। সমাজ এবং সংসারে সকল ণত্ব ষত্বকে অতিক্রম করে।

২৩শে মে’ ২০২২

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত