উত্তরবঙ্গ লবি’র ব্রিগেডিয়ার
থেকে ফুট সোলজার। এক একটা সব হাড়হিম করা নাম। যাদের নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটের জল খায়।
যাদের পাদোদক না জোগার করতে পারলে, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সরকারি মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালগুলি থেকে চিকিৎসক হিসাবে ছাড়পত্র পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। যাদের হুকুমনামায়
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দিন হয় রাত ঘনায়। আর সেই হুকুমনামায় যে বা যাঁরা লাইন দিয়ে
চলতে রাজি নয়। তাঁদেরকেই দফায় দফায় তথাকথিত ‘আর জি কর করে দেওয়া’ হয়। এই আর জি কর করে
দেওয়ার মানেই পরলোকের টিকিট কনফার্ম করে দেওয়া নয়। মেডিকেল প্রফেশনের প্রায় বারোটা
বাজিয়ে দেওয়াও বোঝায়। স্বভাবতঃই কারই বা অত বুকের পাটা। ভারতবর্ষে ছাপান্ন ইঞ্চীর ছাতি
তো আর গণ্ডায় গণ্ডায় নেই। ফলত এই তথাকথিত ‘আর জি কর করে দেওয়ার’ হাত থেকে আত্মরক্ষার্থে
সিনিয়র থেকে শুরু করে জুনিয়র ডাক্তার, সকলেই প্রায় ‘কানে দিয়েছি তুলো আর পিঠে বেঁধেছি
কুলো’ হয়ে কালতিপাতেই অভ্যস্থ।
ফলে চোখকান বুঁজে, মুখ
বুঁজে হাসপাতালের জাল ওষুধের চক্র থেকে শুরু করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের কারবারই হোক
কিংবা মর্গ থেকে বেওয়ারিশ লাশ পাচারই হোক। উত্তরপত্রের কালোবাজারির হাত ধরে গণটোকাটুকির
ম্যাজিকে পরীক্ষায় বস্তা বস্তা নম্বর পাওয়াই হোক আর প্রতি বিষয়ে তোলাবাজির টাকা জোগানোর
বিনিময়ে সোজা পথের কাজটাই বাঁকা পথে করতে বাধ্য করাই হোক। কোন কথা বলা যাবে না। কোন
প্রতিবাদ করা যাবে না। থ্রেট সিণ্ডিকেটের শাসনকে নত মস্তকে ধারণ করে সরকারি মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালগুলিতে টিকে থাকতে হবে। যদি প্রাণে বাঁচতে হয়। এবং সেই হাড়হিম করা নামগুলির
হুকুমনামায় দস্তখত করা থেকে শুরু করে বিনা বাক্যব্যয়ে অক্ষরে অক্ষরে হুকুমনামা অনুসারে
চলতে হবে। সেটাই অলিখিত সংবিধান। সেটাই একমাত্র কার্যকরি আইন। সেই আইনের বাইরে পা দেওয়া
আর নিজের পায়ে কুড়ুল মারা একই কথা।
গত ৯ই আগস্টের দিন থেকে
আজ পর্য্যন্ত খবরে প্রকাশিত খবরগুলিকে ঠিকমত ট্যালি করতে পারলেই উপরের এই আতঙ্কজনক
ছবিটা উদ্ধার করা কোন কঠিন কাজ নয়। নয় বলেই রাজ্যবাসীর এখনও যাঁরা সুস্থ্য চেতনার ক্ষমতা
ও শক্তি ধরে রাখতে পেরেছেন, তাঁরা আর জি কর কাণ্ডের সঠিক বিচার চেয়ে গত প্রায় পঞ্চাশদিন
রাজপথের দখল নিয়ে নিয়েছেন। কোন পতকা বা প্রতীকে নিজেদের স্বাধীন বিবেককে না মুড়িয়েই।
সব মানুষই যে ঘাসে মুখ দিয়ে চলতে থাকবে। তাও আবার ভোটের পর ভোটে। তেমনটা আশা করা সহজ।
কিন্তু বাস্তব অন্য রকম কথা বলছে। অন্তত ৯ই আগস্টের দিন থেকে। রাজনীতির রথী মহারথীরা
যারা এইটি টের পেয়ে গিয়েছেন। তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্টতই পরিদৃশ্যমান। যারা
এখনো এটা মানেননি। তারা আছেন ক্ষমতার বাঁধানো লাইনেই। সে তাদের ভাষণ উপভাষন এবং সম্ভাষনেই
মালুম হচ্ছে দিনে দিনে। তাদের কাছে মন্ত্র কিন্তু সেই একটাই। জোর যার মুলুক তার। রাজপথের
দখল নেওয়া সাধারণ মানুষের বিবেকবোধ ঠিক সেই কারণেই দিনে দিনে শক্তিবৃদ্ধি করছে। আজ
এখানে মিছিল। তো কাল ওখানে। পায়ে পায়ে স্বাধীন চিন্তা করার মতো শক্তিধর মাথার সংখ্যা
ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যত বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই এক অংশের ভাষণ উপভাষণ আর সম্ভাষণের ঝাঁঝ
চড়ছে।
ঠিক এই আবহেই এখন সময়
হয়েছে। এই আর জি কর করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটু গভীরে গিয়ে বিস্তৃত আলোচনার। আর জি
করে ৮ই আগস্টের মধ্যরাত পার করে যে নারকীয় নৃশংস ঘটনাটি ঘটানো হয়। আমাদের বোঝা দরকার।
সেই ঘটনার পিছনে সংঘটিত নৃশংসতার কারণটুকুই। একটি অপরাধচক্রের পক্ষে সবচেয়ে বড় ভয় ধরা
পড়ে যাওয়ার ভয়। সরকারি দপ্তরের পর দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে দিলেও সেই ভয় যায় না। কোনক্রমে
একবার যদি কখনো ভিসুভিয়াসের লাভা লিক করতেও শুরু করে। দপ্তরে দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে
দিয়েও পার পাওয়া সহজ নয় আদৌ। অন্তত একটি তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয়। অপরাধচক্রের
পাণ্ডা মাত্রেই এই সরল সত্যটুকু জানে। সেই পাণ্ডারা যতই রথী থেকে মহারথী হন না কেন।
ফলত, এইরকম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয়। তাঁদের হাতে একটাই তুরুপের তাস থাকে।
আত্মরক্ষার। সেটাই হলো একটা সন্ত্রাসের আতঙ্ক ফেলে দেওয়া। সেই আতঙ্ক যতই ভয়াবহ এবং
নৃশংস হবে। তাদের আত্মরক্ষার নিশ্চয়তার গ্যারান্টি ততই দৃঢ় এবং শক্তিশালী হবে। একটা
নিশ্ছিদ্র আত্মরক্ষার বলয় তৈরী না করতে পারলে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় কোন
অপরাধচক্র দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এবং সবচেয়ে বড়ো কথা ভোটের পর ভোট
চালিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। যে কোন অপরাধচক্রের মাথা থেকে পাণ্ডা অব্দি, সেই সোজা সত্যটুকু
বিলক্ষণ জানে। জানে বলেই তাদের চব্বিশ ঘন্টার লক্ষ্যই থাকে গড়ে তোলা থ্রেট সিণ্ডিকেটকে
কোন প্রকার প্রতিরোধহীন ভাবে শক্তিশালী থেকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।
ফলে এই বিষয়ে কোন সন্দেহই
নাই যে, কখনো যদি কোন দিক থেকে কোন রকমের প্রতিরোধ গড়ে ওঠার ভয় তাদের ভিতরে একবার গ্রাস
করে। তবে তারা চরমতম নৃশংসতার পথেই সেই প্রতিরোধকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে সচেষ্ট হবে।
না হলে বাকিদের কাছে আলটিমেটাম দেওয়ার কাজ সহজ হবে না। এবং এই আলটিমেটামের বার্তা যত
নৃশংস হবে। ততই তা বেশি করে কার্যকর এবং ফলপ্রসু হবে। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের নির্যাতন
ও হত্যার চিত্রটা ঠিক সেই ফরমুলাতেই রচনা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। যে বা যাঁরা
এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ন্যূনতম মৃদুতম ভাবেও ট্যাঁ ফু করবে। তাদেরও পরিণতি এমনই ভয়াবহ
হবে। এমনই নৃশংস হবে। এমনই মারাত্মক হবে। প্রতিবাদের কন্ঠস্বর বেজে ওঠার আগেই যদি সেই
কন্ঠস্বরকে পুরোপুরি দাবিয়ে রাখা যায়। তবে অহেতুক একটা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো হাত গন্ধ
করার কাজ করতে হয় না। অপরাধচক্রের মাথা থেকে পাণ্ডা অব্দি, প্রায় সকলের ভিতরেই এই বোধ
ক্রিয়াশীল থাকে। থাকে বলেই তারা একটা নিঃশ্ছিদ্র সন্ত্রাসের বলয় গড়ে তোলে। ভয় ধরিয়েই
যদি মানুষকে বশে রাখা যায়। তবে অহেতুক হাত নোংরা করতে হয় না। আর সেই কারণেই অপরাধচক্রের
মনস্তত্ত্ব বলে যে, হাত যদি কোন কারণে নোংরা করতেই হয়। তবে এমন চূড়ান্ত ভাবেই নোংরা
করো। যাতে পরবর্তী বহুদিন হাত পরিস্কার রাখা যায়।
ঠিক এই কারণেই ৯ই আগসস্টের
সেমিনার রুমের নাটকটিকে অমন ভয়াবহ করেই রচনা করা হয়েছিল। যাতে করে আর কেউ বহুদিনের
জন্য অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে গর্জন তোলা তো দূরের কথা সামান্যতমও ট্যাঁ ফু করতেও সাহস
না পায়। সেই বার্তাটা সরাসরি বাকিদের চেতনার গভীরে স্থায়ী করে দেওয়ার লক্ষ্যেই আর জি
করের চিকিৎসক তরুণীকে অমন নৃশংস ভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো চিকিৎসক তরুণীকে
নৃশংসতম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নাকি, হত্যার পর নৃশংতার ছবি আঁকা হয়েছিল। কারণ অমন
পাশবিক ভাবে কাউকে হত্যা করা হলো। আর, আর জি করের মতোন একটা হাসপাতালে কাকপক্ষী টের
পেল না। তেমনটা ঘটা কিন্তু খুবই সন্দেহজনক। হোক না যতই গভীর রাত। এখন একথাও সত্য। হত্যা
হত্যাই। সেটি সবসময়েই নৃশংস। খুবই সত্য কথা। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন জাগে। যাকে হত্যা
করাই মূল উদ্দেশ্য। তাকে সরাসরি হত্যা করে দিলেই তো সমস্যার সমাধান। সেখানে অমন নৃশংসতা
ঘটানোর মতোন ঝুঁকি নেওয়ার দরকার কি ছিল? আর এখানেই লুকিয়ে থাকার কথা রহস্যের মূল চাবিকাঠির।
তখনই তো অনুমান করা যায়। ‘সাপও মরবে আর লাঠিও ভাঙবে না’, এমন পথই যদি নেওয়া হয়ে থাকে?
পথ যেমনই নেওয়া হয়ে থাকুক
না কেন। কার্যকারিতার লক্ষ্য এখন কিন্তু বুমেরাং হয়ে গিয়েছে। কথায় বলে, সব কিছুরই সীমা
থাকে। অসীম কিছুই নয়। মহাকাল আর মহাশূন্য বাদ দিলে। প্রতিটি বিষয়েরই স্থিতিস্থাপকতার
একটা নির্দিষ্ট সীমানা থাকে। সেটা যে কখন কি ভাবে কেটে যাবে। সেটা অনেক সময়েই আগাম
অনুমান করা যায় না। বিশেষত লক্ষ্য যেখানে চুড়ান্ত ভাবেই নৃশংসতম। নৃশংসতার বার্তা গেঁথে
দেওয়ার লক্ষ্যে স্থিতিস্থাপকতার সীমানাটা খেয়ালের বাইরে হিসাবের বাইরে চলে গিয়েছিল।
গিয়েছিল বলেই যে নৃশংসতম চূড়ান্ত বার্তা দেওয়ার জন্য ৯ই আগস্টের নির্যাতন ও হত্যা।
সেটাই প্রায় সাথে সাথেই বুমেরাং হয়ে অপরাধতন্ত্রকে এমন নিদারুণ ভাবে বেআব্রু করে দিয়েছে।
কথায় বলে যেমন কর্ম তেমন ফল। না, এখানে অপরাধের সাথে জড়িত নাটবল্টুদের আইন মোতাবেক
শাস্তিবিধানের কথা বলা হচ্ছে না। রাজনীতির সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষাতিতম সমীকরণের উপরেই
হত্যাকারীদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। বলা হচ্ছে যে অপরাধচক্রকে নিরাপদে নিঃশ্ছিদ্র
সুরক্ষার বলয়ে ধরে রাখার জন্যেই এই খুনের ভয়াবহতার ছবি রচনা করতে হয়েছিল। সেই অপরাধচক্রের
নিঃশ্ছিদ্র সুরক্ষার বলয়টা ধ্বসে না গেলেও আজ সর্বসমক্ষে বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। এটাই
সেই যেমন কর্ম তেমন ফল। ঠিক এই বুমেরাংটিই ঘটে গিয়েছে আর জি কর কাণ্ডে।
মানুষের কাছে ছবিটা পরিস্কার
হয়ে গিয়েছে। যে সত্যগুলি আর জি করের প্রায় সকলেই জানতো। জানতো রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের পড়ুয়া থেকে জুনিয়র এবং সিনিয়র ডাক্তার থেকে নার্স এবং অন্যান্য কর্মীবৃন্দ।
এবং জানলেও ভয়ে আতঙ্কে সন্ত্রস্ত হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতো। ঘটনার ভয়াবহতায় তাদের
ঘোর গিয়েছে কেটে। তারা প্রায় সকলেই বুঝতে পেরে গিয়েছে। চুপ করে আতঙ্কের প্রহর কাটালেও
জীবনের নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা নেই। অপরাধচক্রের কালো হাত দিনে দিনে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর
হচ্ছে। দুর্দমনীয় থেকে নৃশংসতম হয়ে উঠছে। ফলে সন্ত্রস্তদের ধৈর্য্যের সকল বাঁধ গিয়েছে
ভেঙে। এই সেই স্থিতিস্থাপকতা। যা একবার ছিঁড়ে গেলে অবস্থা আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। আর
জি কর কাণ্ড সেই আয়ত্বের বাইরে চলে যাওয়া একটি ঘটনা। অপরাধীদের সকল পরিকল্পনাই আসলে
শেষমেশ তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ। সেই প্রমাণ লোপাট করে সাধ্য কার?
তদন্ত কতদূর এগোবে। সে
রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়। কয়জন অপরাধী ধরা পড়বে সেও রাজনীতির ণত্ব এবং ষত্ব। আদৌ কোন
অপরাধীকে ধরা হবে কি হবে না। হলে কাকে কাকে। এসবই ভোটতন্ত্রের হিসেব নিকেশের ব্যাপার।
ধরা যাক কোন অপরাধীকেই ধরা হলো না। নাই হতে পারে। তাহলেই বা কি? জনশক্তির চোখের সামনে
অন্ধকারের যে পর্দা খুলে গিয়েছে। নতুন করে সেই জনশক্তির চোখে ঠুলি পরানো খুব যে সহজ
হবে, মনে হয় না। ফলে বুমেরাংএ এই অপরাধচক্র ঘায়েল যদি নাও হয়। আহত তো অতি অবশ্যই হতে
হবে। হাসপাতালে হাসপাতালে মেডিকেল কলেজগুলিতে এই অপরাধতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে গেলে রাজনৈতিক
শক্তির বেআব্রু প্রদর্শন করতে হবে। এখন দেখার, সদ্য জাগ্রত জনশক্তি রাজনৈতিক শক্তির
সেই বেআব্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কতদিন রাত দখল থেকে দিন দখল এবং রাজপথের দখল নিজেদের
জিম্মায় ধরে রাখতে পারে। আসল লড়াই কিন্তু সেইখানেই। রাজনীতি যে জনশক্তিকে ফাঁকা মাঠ
ছেড়ে দেবে। এমনটা ভাবার কোন কারণ নাই। ফলে যে যেভাবেই পথে নামুক না কেন। তাদের এই পথে
নামা কিন্তু কোনদিক দিয়েই অরাজনৈতিক নয়। অরাজনৈতিক হওয়ার কোন পথই খোলা নেই। রাতের দখল
নেওয়াই হোক। আর দিনের দখল নেওয়া। রাজপথের দখল নেওয়াই হোক আর লড়াইয়ের দখল নেওয়া। বিষয়
এবং ঘটনা দুই রাজনৈতিক। কারণ আসল লড়াই সেই রাজনীতির বিরুদ্ধেই। যে রাজনীতি দিনের পর
দিন রাতের পর রাত মাসের পর মাস বছরের পর বছর এমন সব অপরাধচক্রকে দুধ কলা দিয়ে পুষতে
পুষতে একটা গোটা অপরাধতন্ত্রকেই জনশক্তির উপরে চাপিয়ে দেয়। জগদ্দল পাথরের মতোন। জনশক্তি
সেই পাথরকে সরাতে সক্ষম হবে কিনা। সরালেও একটা জগদ্দল পাথরের জায়গায় আরও কোন একটা আরও
বিশাল জগদ্দল পাথরের তলায় চাপা পড়তে হয় কিনা। সে সবই কিন্তু নির্ভর করবে। জনশক্তি এই
রাজনৈতিক লড়াইটাকে কতদূর অব্দি টেনে নিয়ে যাওয়ার হিম্ম্মত রাখে। হিম্মতের উল্ল্যেখ
করার কারণ, জনশক্তির শক্তির কোন অভাব নেই। কোনদিন থাকেও না। অভাব যেটা থাকে সেটা ঐ
হিম্মতেরই। সেই অভাবটাই অপরাধতন্ত্র গড়ে ওঠার মূলে। সেই অভাবটাই অপরাধচক্রগুলির কাছে
তুরুপের তাস। সেই তাসকেই তারা নিয়মিত খেলে যাওয়াটা প্রায় জলহাওয়ার মতো সহজ করে ফেলেছে।
ফলে তারাও ঘড়ির টিকটিকে কান পেতে রয়েছে। এই জনগর্জন কত তাড়াতাড়ি জনমিউমিউতে নেমে আসে।
না, এমনি এমনি তেমনটা হওয়ার কথাও নয়। তেমনটা ঘটানোই আসলে রাজনীতির সহজপাঠ।
কপিরাইট শ্রীশুভ্র ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৪
